১০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চিনাম্যাক্সিং ট্রেন্ডে চীনের পর্যটনে জোয়ার, বিদেশি আগ্রহে বাড়ছে অর্থনৈতিক গতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট মুনাফায় ঝড়, যুদ্ধ-অনিশ্চয়তার মাঝেও শক্ত অবস্থান তেলের বাজারে বিপর্যয়ের ঘণ্টা: হরমুজ সংকটে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মুখে ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক-বন্ধু জিজ্ঞাসাবাদে রোবটের পড়ে যাওয়া থেকে বিশ্বশক্তির উত্থান: প্রযুক্তির হাসির আড়ালে কঠিন বাস্তব পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৬০)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 103

শশাঙ্ক মণ্ডল

গানের সুরে সুরে পৌষসংক্রান্তির সময়ে প্রতিটি আদিবাসী পাড়া উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সারাদিন ধরে মোরগ লড়াই চলে জয় পরাজয়ের নেশায় মানুষগুলো পাগল হয়ে উঠে। মোরগ লড়াই এ নিজের মোরগ জিতলে মুহূর্তের মধ্যে এই বিজয় থেকে সাংসারিক জীবন যন্ত্রণা ভুলে বিজয়ীর হাসি তার মুখে এবং এক অপার্থিব আনন্দ তাকে গ্রাস করে। আবার যে লোকটির মোরগ পরাজিত হল পরাজয়ের বেদনা তাকে কেমন যেন মিইয়ে দেয়। সারাদিন ধরে চলে এই জয়-পরাজয়ের খেলা। আদিবাসীরা অভাব অনটনের কারণে এই পরবকে সংক্ষিপ্ত করে নিয়েছে।

কোথাও ৭ দিন ধরে এই অনুষ্ঠান চলে এবং নৌষ সংক্রান্তির মধ্যে দিয়ে তা শেষ হয়। আবার কোথাও মকর সংক্রান্তির দুতিনদিন আগে থেকে উৎসব শুরু হয় আর সংক্রান্তির দিনে টুসুকে বিসর্জন দেওয়া হয়, অনেক সময় দু দল মহিলার মধ্যে গান রচনার প্রতিযোগিতা চলে। গানগুলি খুবই সংক্ষিপ্তমানেক থেকে ছয় লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

আদিবাসী জীবনের প্রাত্যহিক সুখ দুঃখ হাসি কান্না থোড়ম্বর জীবনের ছবি – সামাজিক বঞ্চনা লাভ ক্ষতি সব কিছুই এ গানে ধরা পড়ে। টুসু দেবী হলেও মানুষ তাকে প্রাণের ঠাকুর মানবীতে পরিণত করেছে। সংসারিক জীবনের ছোঁয়া লেগেছে টুসুর দেহ মনে। সাধারণভাবে তাকে গৃহস্থ বধূ, কন্যা মাতা রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব গান ছড়া ও গানের মধ্যবর্তী স্তরে এদের স্থান; গানের মধ্য দিয়ে টুসুর জীবনের বিভিন্ন পর্ব তারা ফুটিয়ে তোলে, টুসু বড় হচ্ছে, সে স্কুলে যাবে তাই নিয়ে গান-

একশ টাকা দুশ টাকা

তিনশ টাকার বই হাতে

আমার টুসু লিখতে যাবে

ইংরেজি কলম হাতে।

 

 

চিনাম্যাক্সিং ট্রেন্ডে চীনের পর্যটনে জোয়ার, বিদেশি আগ্রহে বাড়ছে অর্থনৈতিক গতি

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৬০)

১২:০০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

গানের সুরে সুরে পৌষসংক্রান্তির সময়ে প্রতিটি আদিবাসী পাড়া উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সারাদিন ধরে মোরগ লড়াই চলে জয় পরাজয়ের নেশায় মানুষগুলো পাগল হয়ে উঠে। মোরগ লড়াই এ নিজের মোরগ জিতলে মুহূর্তের মধ্যে এই বিজয় থেকে সাংসারিক জীবন যন্ত্রণা ভুলে বিজয়ীর হাসি তার মুখে এবং এক অপার্থিব আনন্দ তাকে গ্রাস করে। আবার যে লোকটির মোরগ পরাজিত হল পরাজয়ের বেদনা তাকে কেমন যেন মিইয়ে দেয়। সারাদিন ধরে চলে এই জয়-পরাজয়ের খেলা। আদিবাসীরা অভাব অনটনের কারণে এই পরবকে সংক্ষিপ্ত করে নিয়েছে।

কোথাও ৭ দিন ধরে এই অনুষ্ঠান চলে এবং নৌষ সংক্রান্তির মধ্যে দিয়ে তা শেষ হয়। আবার কোথাও মকর সংক্রান্তির দুতিনদিন আগে থেকে উৎসব শুরু হয় আর সংক্রান্তির দিনে টুসুকে বিসর্জন দেওয়া হয়, অনেক সময় দু দল মহিলার মধ্যে গান রচনার প্রতিযোগিতা চলে। গানগুলি খুবই সংক্ষিপ্তমানেক থেকে ছয় লাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

আদিবাসী জীবনের প্রাত্যহিক সুখ দুঃখ হাসি কান্না থোড়ম্বর জীবনের ছবি – সামাজিক বঞ্চনা লাভ ক্ষতি সব কিছুই এ গানে ধরা পড়ে। টুসু দেবী হলেও মানুষ তাকে প্রাণের ঠাকুর মানবীতে পরিণত করেছে। সংসারিক জীবনের ছোঁয়া লেগেছে টুসুর দেহ মনে। সাধারণভাবে তাকে গৃহস্থ বধূ, কন্যা মাতা রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব গান ছড়া ও গানের মধ্যবর্তী স্তরে এদের স্থান; গানের মধ্য দিয়ে টুসুর জীবনের বিভিন্ন পর্ব তারা ফুটিয়ে তোলে, টুসু বড় হচ্ছে, সে স্কুলে যাবে তাই নিয়ে গান-

একশ টাকা দুশ টাকা

তিনশ টাকার বই হাতে

আমার টুসু লিখতে যাবে

ইংরেজি কলম হাতে।