০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

কিশোর গ্যাং এখন ঘরের দুয়ারে

  • Sarakhon Report
  • ০৪:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 76

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  •  ঢাকার প্রায় সব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি বেড়েছে, যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, খুন, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও জমি দখলের মতো অপরাধে লিপ্ত।
  • বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও অপরাধজগতের ব্যক্তিরা গ্যাংগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
  • পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গডফাদারদের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপে গ্যাং দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

ঢাকার প্রায় সব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হুমকি ও অপরাধের ছাপ ক্রমশ গভীর হচ্ছে।বাস্তবে  এরা এখন প্রতিটি ঘরের দুয়ারে।  এরা প্রকাশ্যে অস্ত্র তোলা, হুমকি-ধমকি, এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উৎপত্তি ও বিস্তার

  • শুরুর দিনগুলো:
    এক সময় ঢাকার অলিগলিতে ছোট ছোট কিশোর গ্রুপিং শুরু হয়। পাড়া ভিত্তিক এই গ্রুপগুলো ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং তাদের নামকরণ ও পরিচিতি অর্জন করে।
  • বিস্তৃত সমর্থন:
    বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলর, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও অপরাধজগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এদের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে। শুরুতে শুধু ছোট অপরাধের জন্য জড়ো হয় এই গ্যাংগুলো, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এদের সংখ্যা ও ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ব্যবহারিক হাতিয়ার

  • প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া:
    গ্যাং সদস্যরা প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে হুমকি দেয়, অপরাধের আক্রমণে অংশ নেয় এবং প্রতিপক্ষকে আঘাত করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে ভয় সৃষ্টি করে।
  • বহুমুখী অপরাধ:
    খুনখারাবি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, এবং অন্যান্য সবধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
  • আধুনিক যোগাযোগ:
    ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ, ভাইভার ইমো ইত্যাদিতে গ্রুপ করে অপরাধ পরিকল্পনা ও হুমকি আদান প্রদান করছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

  • বয়সের বিভাজন:
    সাধারণ সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ১৮, যেখানে লিডারদের বয়স সাধারণত ২০ বছরের উপরে।
  • নামকরা গ্যাং:
    ঢাকায় প্রচুর নামকরা কিশোর গ্যাং রয়েছে – যেমন পাওয়ার বয়েজ, ডিসকো বয়েজ, বিগ বস, নাইন স্টার, নাইন এমএম বয়েজ ইত্যাদি।
  • রাজনৈতিক আঙুল:
    আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব গ্যাংয়ের হাতে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পৃষ্ঠপোষকদের প্রভাব ও গোপনীয় চাপের কারণে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সম্প্রতিক সংঘটিত ঘটনার ঝলক

  • আতঙ্কের প্রকাশ:
    বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা-বেলায় বাসা থেকে বাইরে বের হতে ভয় পাওয়ার ঘটনা।
  • নির্দিষ্ট অপরাধ ঘটনা:
    • রায়েরবাজারে এক কিশোরকে গোষ্ঠী হিসেবে চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কোপানো।
    • মোহাম্মদপুরে পথচারীর থেকে ছিনতাইয়ের সময় ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া।
    • রিকশায় যাত্রীর কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া ও হুমকির আক্রমণ।
  • গুরুতর ঘটনাবলী:
    কিছু সংঘাতে হত্যা, গুলিবিনিময় ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আইন প্রয়োগ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

  • থানা পুলিশ ও দুর্বলতা:
    গ্যাংয়ের শেল্টারদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা থানা পুলিশের তৎপরতা প্রায়ই নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • রাজনৈতিক চাপ:
    অনেকেই রাজনৈতিকভাবে জড়িত হওয়ার কারণে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
  • প্রভাবশালী ব্যক্তিরা:
    “গড ফাদার” হিসেবে পরিচিত এই নেতাদের আইন মারপ্যাঁচে ধরতে সমস্যায় পড়ছে পুলিশ।

উপসংহার
ঢাকার প্রায় সব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ছোট বয়সে শুরু হলেও এই গ্যাংগুলো বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত হয়ে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক ও গোপনীয় চাপ থাকায় এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোর গ্যাং এখন ঘরের দুয়ারে

০৪:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

সারাংশ

  •  ঢাকার প্রায় সব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি বেড়েছে, যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, খুন, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও জমি দখলের মতো অপরাধে লিপ্ত।
  • বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও অপরাধজগতের ব্যক্তিরা গ্যাংগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
  • পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গডফাদারদের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপে গ্যাং দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

ঢাকার প্রায় সব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হুমকি ও অপরাধের ছাপ ক্রমশ গভীর হচ্ছে।বাস্তবে  এরা এখন প্রতিটি ঘরের দুয়ারে।  এরা প্রকাশ্যে অস্ত্র তোলা, হুমকি-ধমকি, এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

কিশোর গ্যাংয়ের উৎপত্তি ও বিস্তার

  • শুরুর দিনগুলো:
    এক সময় ঢাকার অলিগলিতে ছোট ছোট কিশোর গ্রুপিং শুরু হয়। পাড়া ভিত্তিক এই গ্রুপগুলো ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং তাদের নামকরণ ও পরিচিতি অর্জন করে।
  • বিস্তৃত সমর্থন:
    বিভিন্ন এলাকার কাউন্সিলর, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও অপরাধজগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এদের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে। শুরুতে শুধু ছোট অপরাধের জন্য জড়ো হয় এই গ্যাংগুলো, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এদের সংখ্যা ও ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ব্যবহারিক হাতিয়ার

  • প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া:
    গ্যাং সদস্যরা প্রকাশ্যে অস্ত্র তুলে হুমকি দেয়, অপরাধের আক্রমণে অংশ নেয় এবং প্রতিপক্ষকে আঘাত করে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আপলোড করে ভয় সৃষ্টি করে।
  • বহুমুখী অপরাধ:
    খুনখারাবি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, এবং অন্যান্য সবধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
  • আধুনিক যোগাযোগ:
    ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারণে ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ, ভাইভার ইমো ইত্যাদিতে গ্রুপ করে অপরাধ পরিকল্পনা ও হুমকি আদান প্রদান করছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

  • বয়সের বিভাজন:
    সাধারণ সদস্যদের বয়স ১২ থেকে ১৮, যেখানে লিডারদের বয়স সাধারণত ২০ বছরের উপরে।
  • নামকরা গ্যাং:
    ঢাকায় প্রচুর নামকরা কিশোর গ্যাং রয়েছে – যেমন পাওয়ার বয়েজ, ডিসকো বয়েজ, বিগ বস, নাইন স্টার, নাইন এমএম বয়েজ ইত্যাদি।
  • রাজনৈতিক আঙুল:
    আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব গ্যাংয়ের হাতে ঢাকার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। পৃষ্ঠপোষকদের প্রভাব ও গোপনীয় চাপের কারণে আইন প্রয়োগকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

সম্প্রতিক সংঘটিত ঘটনার ঝলক

  • আতঙ্কের প্রকাশ:
    বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা-বেলায় বাসা থেকে বাইরে বের হতে ভয় পাওয়ার ঘটনা।
  • নির্দিষ্ট অপরাধ ঘটনা:
    • রায়েরবাজারে এক কিশোরকে গোষ্ঠী হিসেবে চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কোপানো।
    • মোহাম্মদপুরে পথচারীর থেকে ছিনতাইয়ের সময় ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া।
    • রিকশায় যাত্রীর কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া ও হুমকির আক্রমণ।
  • গুরুতর ঘটনাবলী:
    কিছু সংঘাতে হত্যা, গুলিবিনিময় ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আইন প্রয়োগ ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

  • থানা পুলিশ ও দুর্বলতা:
    গ্যাংয়ের শেল্টারদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা থানা পুলিশের তৎপরতা প্রায়ই নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • রাজনৈতিক চাপ:
    অনেকেই রাজনৈতিকভাবে জড়িত হওয়ার কারণে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
  • প্রভাবশালী ব্যক্তিরা:
    “গড ফাদার” হিসেবে পরিচিত এই নেতাদের আইন মারপ্যাঁচে ধরতে সমস্যায় পড়ছে পুলিশ।

উপসংহার
ঢাকার প্রায় সব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জীবনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ছোট বয়সে শুরু হলেও এই গ্যাংগুলো বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত হয়ে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক ও গোপনীয় চাপ থাকায় এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে।