০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
আবুধাবিতে গঠনমূলক ত্রিপক্ষীয় আলোচনা, শান্তির পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেন জেলেনস্কি দুবাইয়ের শিল্পমেলায় শেখ মোহাম্মদের উপস্থিতি, সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দুতে কুজ আর্টস ফেস্ট ডেটা সেন্টারেই স্মার্ট নগরীর মস্তিষ্ক, বিনিয়োগে গতি বাড়াচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত শারজাহতে স্মৃতি আর আবেগের মেলবন্ধন, ক্লাসিক গাড়ির গল্পে ভরে উঠল উৎসব আবুধাবিতে উর্বরতা চিকিৎসার ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা, আইভিএফ গবেষণায় নেতৃত্বের বার্তা শারজাহর অগ্রযাত্রার পাঁচ দশক: শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসিমির নেতৃত্বে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণের গল্প গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার আহ্বান, রাফাহ সীমান্ত খোলার আলোচনায় ইসরায়েল সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আরও ১৫ দিনের জন্য বাড়াল সরকার ভারতের ডিজিটাল উত্থান, তরুণদের নতুন দিগন্ত খুলছে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোই পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ স্বার্থ

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • 216

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বলল, ‘এত তাড়া কিসের? সন্ধের পর কিংবা গোধূলির আলোয় গ্রামে ঢোকা বেশি সুবিধে। সৈন্যরা যদি না-থাকে তো কেউ আমাদের লক্ষ্য করবে না। আমরা বাড়িগুলোর পেছনের উঠোন দিযে বেরিয়ে যাব। ব্যস, আজকালকার ‘দিনে অচেনা জায়গায় নতুন লোকের কোথায় কখন বিপদ ঘটে, কে জানে।’

স্বীকার করতে হল, সন্ধে নাগাদই গ্রামে গিয়ে খোঁজখবর করাটা বেশি নিরাপদ হবে। কিন্তু আমি আমাদের দলের লোকজনের সঙ্গে মিলতে এত উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলুম যে তাড়াতাড়ি পা না-চালিয়ে পারছিলুম না।

গ্রামে ঢোকার খানিকটা আগে ঝোপঝাড়ে ভরতি একটা খাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেল আমার সঙ্গী। বলল, রাস্তা থেকে সরে এসে পাশের ঝোপের মধ্যে বসে কী করা যায় আলোচনা করা যাক। সেই অনুযায়ী ঝোপের মধ্যে নেমে আসার পর ও বলল:

‘দু-জনে একসঙ্গে গ্রামের মধ্যে গলা বাড়িয়ে দেয়াটা বোকামি হবে। আমি বলি কী, আমাদের মধ্যে একজন এখানে থাকুক, আরেক জন পাড়ার পেছনদিকের বাগান দিয়ে গাঁয়ে ঢুকে সব দেখে-শুনে আসুক। আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। গাঁটা বড় বেশি চুপচাপ ঠেকছে, এমন কি একটা কুকুর পর্যন্ত ডাকছে না। এমনও তো হতে পারে যে লাল ফৌজ এখানে আসেই নি, শুধু হতচ্ছাড়া কুলাকরা রাইফেল নিয়ে ওঁত পেতে বসে আছে।’

‘আমি বলি কাঁ, চল, দু-জনে একসঙ্গে যাওয়া যাক।

বন্ধুভাবে আমার কাঁধে জোর এক চাপড় দিয়ে ও বলল, ‘বোকামি কোরো না। তুমি এখানে থাক, আমি বরং সব দেখে-শুনে আসি। শুধু শুধু তুমি বিপদের ঝাঁকি নিতে যাবে কেন? তুমি বরং আমার জন্যে এখানেই অপেক্ষা কর, কেমন?’

ও চলে গেল। আমি মনে মনে ভাবলুম, ‘ছেলেটা ভালো। একটু অদ্ভুত ধরনের, কিন্তু মনটা ভালো। আর কেউ হলে বিপজ্জনক কাজের ঝুঁকি অন্যের ঘাড়ে ঠিক চাপিয়ে দিত, আর নয় তো পয়সা ছুড়ে ভাগ্যপরীক্ষার কথা বলত। ও কিন্তু নিজেই ইচ্ছে করে গেল।’

এক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলেটা ফেরত এল। যা ভেবেছিলুম তার চেয়ে তাড়াতাড়িই এসে গেল যেন। ওর হাতে একটা বেশ মোটা, ভারিগোছের লাঠি। মনে হল, তখুনি ওটা গাছ থেকে কেটে ছাল ছাড়িয়ে এনেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আবুধাবিতে গঠনমূলক ত্রিপক্ষীয় আলোচনা, শান্তির পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেন জেলেনস্কি

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১৫)

০৮:০০:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

বলল, ‘এত তাড়া কিসের? সন্ধের পর কিংবা গোধূলির আলোয় গ্রামে ঢোকা বেশি সুবিধে। সৈন্যরা যদি না-থাকে তো কেউ আমাদের লক্ষ্য করবে না। আমরা বাড়িগুলোর পেছনের উঠোন দিযে বেরিয়ে যাব। ব্যস, আজকালকার ‘দিনে অচেনা জায়গায় নতুন লোকের কোথায় কখন বিপদ ঘটে, কে জানে।’

স্বীকার করতে হল, সন্ধে নাগাদই গ্রামে গিয়ে খোঁজখবর করাটা বেশি নিরাপদ হবে। কিন্তু আমি আমাদের দলের লোকজনের সঙ্গে মিলতে এত উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলুম যে তাড়াতাড়ি পা না-চালিয়ে পারছিলুম না।

গ্রামে ঢোকার খানিকটা আগে ঝোপঝাড়ে ভরতি একটা খাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে গেল আমার সঙ্গী। বলল, রাস্তা থেকে সরে এসে পাশের ঝোপের মধ্যে বসে কী করা যায় আলোচনা করা যাক। সেই অনুযায়ী ঝোপের মধ্যে নেমে আসার পর ও বলল:

‘দু-জনে একসঙ্গে গ্রামের মধ্যে গলা বাড়িয়ে দেয়াটা বোকামি হবে। আমি বলি কী, আমাদের মধ্যে একজন এখানে থাকুক, আরেক জন পাড়ার পেছনদিকের বাগান দিয়ে গাঁয়ে ঢুকে সব দেখে-শুনে আসুক। আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। গাঁটা বড় বেশি চুপচাপ ঠেকছে, এমন কি একটা কুকুর পর্যন্ত ডাকছে না। এমনও তো হতে পারে যে লাল ফৌজ এখানে আসেই নি, শুধু হতচ্ছাড়া কুলাকরা রাইফেল নিয়ে ওঁত পেতে বসে আছে।’

‘আমি বলি কাঁ, চল, দু-জনে একসঙ্গে যাওয়া যাক।

বন্ধুভাবে আমার কাঁধে জোর এক চাপড় দিয়ে ও বলল, ‘বোকামি কোরো না। তুমি এখানে থাক, আমি বরং সব দেখে-শুনে আসি। শুধু শুধু তুমি বিপদের ঝাঁকি নিতে যাবে কেন? তুমি বরং আমার জন্যে এখানেই অপেক্ষা কর, কেমন?’

ও চলে গেল। আমি মনে মনে ভাবলুম, ‘ছেলেটা ভালো। একটু অদ্ভুত ধরনের, কিন্তু মনটা ভালো। আর কেউ হলে বিপজ্জনক কাজের ঝুঁকি অন্যের ঘাড়ে ঠিক চাপিয়ে দিত, আর নয় তো পয়সা ছুড়ে ভাগ্যপরীক্ষার কথা বলত। ও কিন্তু নিজেই ইচ্ছে করে গেল।’

এক ঘণ্টার মধ্যেই ছেলেটা ফেরত এল। যা ভেবেছিলুম তার চেয়ে তাড়াতাড়িই এসে গেল যেন। ওর হাতে একটা বেশ মোটা, ভারিগোছের লাঠি। মনে হল, তখুনি ওটা গাছ থেকে কেটে ছাল ছাড়িয়ে এনেছে।