০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

০৭:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)