০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই অ্যানজ্যাক ডেতে একাই হাজির কেট মিডলটন, নজর কাড়ল বিরল রাজকীয় গয়নার গল্প

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

 

ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

০৭:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)