০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে নতুন তথ্য: উপকারের পাশাপাশি বাড়ছে সতর্কতার বার্তা নতুন জলবায়ু পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন, বাতিল হলো সবচেয়ে বিতর্কিত উষ্ণায়ন দৃশ্যপট ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ও দূতাবাস বন্ধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবারও বাড়ল তেলের দাম তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার সিলেটের অপহৃত স্কুলছাত্রী, গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি: একক ভ্যাট, হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরীমণির আর্জেন্টিনা প্রেম: মেসি জার্সিতে তারকাদের সিগনেচার উদযাপন অনুকরণ নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ, আহত ১৫; নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগে সড়ক অবরোধ আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ব্রিটিশ বার থেকে সাময়িক বরখাস্ত অস্ট্রেলিয়ার ১৯৬ রানও থামাতে পারল না বাংলাদেশ, সিরিজ জিতে নিল সফরকারীরা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে নতুন তথ্য: উপকারের পাশাপাশি বাড়ছে সতর্কতার বার্তা

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২১)

০৭:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

আব-ই-রওয়ান

মসলিনের নানা ধরন ছিল। মুঘল আমলে ঢাকার তৈরি এক ধরনের মসলিনের নাম ছিল আব-ই-রওয়ান। আব-ই-রওয়ান ফার্সি শব্দ। এর অর্থ ‘প্রবাহিত পানি’। অর্থাৎ, এই মসলিন এতো সূক্ষ্ম ছিল যে, তা প্রবাহিত পানির মতো স্বচ্ছ মনে হতো। আব-ই-রওয়ান নিয়ে ঢাকায় সে সময় অনেক গল্প প্রচলিত ছিল। অবশ্য সেগুলি সত্যি না মিথ্যা তা জানা যায়নি।

একটি গল্প ছিল এরকম। একবার সম্রাট আওরঙ্গজেবের মেয়ে দেখা করতে গেছেন তাঁর বাবার সঙ্গে। সম্রাট তাঁকে দেখেই রাগ করে বললেন, এ কী। তোমার কি জামা-কাপড়ের অভাব নাকি? মেয়ে বললেন-কী বলছেন আপনি? আমার পরনে এখন আব-ই-রওয়ানের তৈরি সাতটি জামা।

আরেকটি গল্প এরকম। আলীবর্দী খান তখন বাংলার সুবাদার। তার জন্য তৈরি এক টুকরোি আব-ই-রাওয়ান ঘাসের ওপর শুকাতে দেয়া হয়। এক চাষীর গরু চরছিল সে মাঠে। গরুটি ঘাসের সঙ্গে মসলিনটিও খেয়ে ফেলে।

বেচারা গরু ঘাস আর কাপড়ের তফাৎ বুঝতে পারেনি। আলীবর্দী খাঁ এ খবর শুনে চটেমটে চাষীটিকে বের করে দেন ঢাকা থেকে। আব-ই-রওয়ানও ছিল লম্বায় বিশ গজ ও চওড়ায় এক গজ। ওজন হতো খুব বেশি হলে বিশ তোলা। বিদেশিরা একটু কম সূক্ষ্ম আব-ই-রওয়ান বিদেশে প্রচুর রপ্তানি করতেন।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২০)