০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও নো-পুশইন নীতি: সীমান্তে কাউকে ঢুকতে দেয়নি বাংলাদেশ, দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একটি স্মৃতি, একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত: আশুরার চিরন্তন শিক্ষা চীনের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা: ‘চায়না অপারচুনিটি ২.০’-এর অর্থ কী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

নোল্যান্ড আরবাউ: নিউরালিঙ্ক ইমপ্লান্ট নেওয়া প্রথম মানব

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • 430

সারাক্ষণ রিপোর্ট

কে এই নোল্যান্ড আরবাউ?

নোল্যান্ড আরবাউ, ১৯৯৪ সালে জন্ম নেওয়া একজন আমেরিকান, যিনি নিউরালিঙ্কের মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ইমপ্লান্ট গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালে এক ডাইভিং দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে তিনি কাঁধ থেকে নিচের অংশ পর্যন্ত পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

নিউরালিঙ্ক ইমপ্লান্ট: কী এবং কেন?

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার প্রায় আট বছর পর, ৩০ বছর বয়সী নোল্যান্ড নিউরালিঙ্কের ইমপ্লান্ট গ্রহণ করেন। এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি এমনভাবে তৈরি, যা তার চিন্তাগুলিকে সরাসরি কম্পিউটার কমান্ডে রূপান্তর করতে পারে। এর ফলে তিনি:

  • মাউস কার্সর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন,
  • ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন,
  • এমনকি ভিডিও গেমও খেলতে পারেন।

এটি আধুনিক প্রযুক্তির এক বিশাল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলন মাস্কের সম্পৃক্ততা এবং নোল্যান্ডের মতামত

নিউরালিঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই প্রকল্পটি গণমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে নোল্যান্ড মনে করেন, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাহীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন,
ভালো বা খারাপ যাই হোকআমি সহায়তা করছি।”

প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সমাধান

ইমপ্লান্ট গ্রহণের কিছুদিন পর নোল্যান্ড দেখতে পান তার মস্তিষ্কের কিছু অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, ফলে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। তবে এই সমস্যাগুলো সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ

নিউরালিঙ্ক ছাড়াও আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম Synchron, যাদের Stentrode নামের ডিভাইসটি কম আক্রমণাত্মকভাবে মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রযুক্তিও ইতিমধ্যে কয়েকজন রোগীর উপর সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সতর্কতা

নোল্যান্ডের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা অন্যান্য শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নৈতিক দিকগুলো নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এবং সতর্ক বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম

নোল্যান্ড আরবাউ: নিউরালিঙ্ক ইমপ্লান্ট নেওয়া প্রথম মানব

১০:০০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

কে এই নোল্যান্ড আরবাউ?

নোল্যান্ড আরবাউ, ১৯৯৪ সালে জন্ম নেওয়া একজন আমেরিকান, যিনি নিউরালিঙ্কের মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ইমপ্লান্ট গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১৬ সালে এক ডাইভিং দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে তিনি কাঁধ থেকে নিচের অংশ পর্যন্ত পুরোপুরি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

নিউরালিঙ্ক ইমপ্লান্ট: কী এবং কেন?

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার প্রায় আট বছর পর, ৩০ বছর বয়সী নোল্যান্ড নিউরালিঙ্কের ইমপ্লান্ট গ্রহণ করেন। এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি এমনভাবে তৈরি, যা তার চিন্তাগুলিকে সরাসরি কম্পিউটার কমান্ডে রূপান্তর করতে পারে। এর ফলে তিনি:

  • মাউস কার্সর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন,
  • ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন,
  • এমনকি ভিডিও গেমও খেলতে পারেন।

এটি আধুনিক প্রযুক্তির এক বিশাল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এলন মাস্কের সম্পৃক্ততা এবং নোল্যান্ডের মতামত

নিউরালিঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের নামের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই প্রকল্পটি গণমাধ্যমে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে নোল্যান্ড মনে করেন, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনাহীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন,
ভালো বা খারাপ যাই হোকআমি সহায়তা করছি।”

প্রযুক্তিগত সমস্যা ও সমাধান

ইমপ্লান্ট গ্রহণের কিছুদিন পর নোল্যান্ড দেখতে পান তার মস্তিষ্কের কিছু অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, ফলে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। তবে এই সমস্যাগুলো সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ

নিউরালিঙ্ক ছাড়াও আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম Synchron, যাদের Stentrode নামের ডিভাইসটি কম আক্রমণাত্মকভাবে মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রযুক্তিও ইতিমধ্যে কয়েকজন রোগীর উপর সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সতর্কতা

নোল্যান্ডের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা অন্যান্য শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নৈতিক দিকগুলো নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এবং সতর্ক বিশ্লেষণের দাবি রাখে।