০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • 200

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

গাছের ঝলমলে সবুজ পাতায় তখন ফুটন্ত পাখি-চেরিফুলের গন্ধ। বিশ্রাম পাওয়ায় আমাদের বাহিনীর লোকজনেরও বেশ হাসিখুশি ভাব। আপাতদৃষ্টিতে যেন ভাবনাচিন্তা নেই বলে মনে হচ্ছিল ওদের। আগ বাড়িয়ে টহল সেরে ফেদিয়া সিসভও তার প্রাণোচ্ছল ঘোড়সওয়ার দলটি নিয়ে ফিরে এসে খবর দিল সামনে পথ একদম পরিষ্কার, আর কাছের একটা গাঁয়ের চাষীরা সবাই লাল ফৌজের পক্ষে।

কারণ, ও-গাঁয়ের জমিদারবাবু, যিনি আগের অক্টোবর মাসের গোড়ায় গাঁ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, তিনি অল্প কয়েক দিন আগে ফের গাঁয়ে ফিরে এসে সঙ্গে সেপাই সামন্ত নিয়ে চাষীদের কুড়েয় কুড়েয় তল্লাসি চালিয়ে তাঁর জমিদারির সম্পত্তি সব উদ্ধারে লেগেছিলেন। আর তল্লাসি চালিয়ে যাদের-যাদের বাড়িতে ওই জমিদারি সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছিল তাদের গিজের সামনের চৌকোনা চত্বরে এনে এমন সাংঘাতিকভাবে জমিদার বেত মেরেছিলেন, যেমনটা নাকি ভূমিদাসপ্রথার আমলেও কেউ কোনোদিন শোনে নি। তাই চাষীরা মেনে নিয়েছিল যে লাল ফৌজ যদি গাঁয়ে আসে তো তারা খুশিই হবে।

চায়ের বিকল্প গরম জলের সঙ্গে এক-টুকরো শুয়োরের চর্বি গিলে লাল ফৌজের লোকজন যেখানে বন্দীকে ঘিরে ভিড় জমিয়েছিল আমি সেখানে গেলুম।

‘আরে, এস, এস!’ টিনের মগভর্তি গরম জল গিলে জামার হাতা দিয়ে ঘামে-ভেজা মুখটা মুছতে-মুছতে ভাস্কা স্মাকভ বন্ধুর মতো ডাকল আমায়। ‘ভ্যালা নোক বটে তুমি বাপু একখান!’

‘কেন, কেন? কী হয়েছে?’

‘কাল রাইফেলখান ছুড়ে ফেলে দিলে?’

‘আর কে সবচেয়ে প্রথম ওপর থেকে ঝাঁপ খেয়ে সবশেষে এসে হাজির হয়েছিল, শুনি?’ ওর আক্রমণ ঠেকাতে পালটা আক্রমণ করলুম।

‘আরে, ইয়ার, ঝাঁপ খেয়ে উপর থেকে সোজা জলার পাঁকে গিয়ে পড়লাম যে। সেই জন্যিই তো দেরি হল। যাই হোক, আমরা বেশ চটপটই কাজ গুছিয়ে লিয়েছিলাম। তারপর পিছনে যখন বোমের আওয়াজ শুনলাম তখন ভাবলাম তোমার আর চুবুকের বুঝি দফা নিকেশ হয়ে গেল। সত্যি, কথাটা তখন মনে হইছিল বটে। তাই ঘোড়া ছুটিয়ে এসে এখেনে সবাইরে বললাম: ‘মনে হচ্চে, ওদের ও-কম্মো শেষ হয়ে গ্যাচে।’ আর নিজের মনে বললাম: ‘যেমন ছোঁড়া আমার সঙ্গে ওর চামড়ার ব্যাগটা বদলাবদলি করতে চায় নি, তা এখন হল তো?

শ্বেতরক্ষীগুলা এখন ওটা এমনিই লিয়ে লেবে!! আহা, ব্যাগটা বড় সোন্দর ছিল গো।’ কথা কটা বলে বনের মধ্যে ছোকরাটাকে মেরে ফেলে তার যে-ব্যাগটা আমি হাতিয়েছিলুম তখনও আমার কাঁধে-ঝোলানো সেই চ্যাপ্টা ম্যাপকেস্টার গায়ে ভাস্কা একবার হাত বুলিয়ে নিলে। ‘ঠিক আচে, ঠিক আচে, লিতে আমার ভারি বয়েই গ্যাচে ইচ্ছে হলি তুমিই ওটা রেখে দিতি পার,’ ও বলল। ‘গত মাসে ওটার চাইতেও বেশি সোন্দর একটা ব্যাগ পেয়েছিলাম, তা সেটারে বেচে দিলাম। ওটার জন্যি অত টান ভালো নয়, বুইলে?’ অবজ্ঞার ভঙ্গিতে নাক সিটকে কথাটা শেষ করল ও।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৯)

০৮:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

গাছের ঝলমলে সবুজ পাতায় তখন ফুটন্ত পাখি-চেরিফুলের গন্ধ। বিশ্রাম পাওয়ায় আমাদের বাহিনীর লোকজনেরও বেশ হাসিখুশি ভাব। আপাতদৃষ্টিতে যেন ভাবনাচিন্তা নেই বলে মনে হচ্ছিল ওদের। আগ বাড়িয়ে টহল সেরে ফেদিয়া সিসভও তার প্রাণোচ্ছল ঘোড়সওয়ার দলটি নিয়ে ফিরে এসে খবর দিল সামনে পথ একদম পরিষ্কার, আর কাছের একটা গাঁয়ের চাষীরা সবাই লাল ফৌজের পক্ষে।

কারণ, ও-গাঁয়ের জমিদারবাবু, যিনি আগের অক্টোবর মাসের গোড়ায় গাঁ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, তিনি অল্প কয়েক দিন আগে ফের গাঁয়ে ফিরে এসে সঙ্গে সেপাই সামন্ত নিয়ে চাষীদের কুড়েয় কুড়েয় তল্লাসি চালিয়ে তাঁর জমিদারির সম্পত্তি সব উদ্ধারে লেগেছিলেন। আর তল্লাসি চালিয়ে যাদের-যাদের বাড়িতে ওই জমিদারি সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছিল তাদের গিজের সামনের চৌকোনা চত্বরে এনে এমন সাংঘাতিকভাবে জমিদার বেত মেরেছিলেন, যেমনটা নাকি ভূমিদাসপ্রথার আমলেও কেউ কোনোদিন শোনে নি। তাই চাষীরা মেনে নিয়েছিল যে লাল ফৌজ যদি গাঁয়ে আসে তো তারা খুশিই হবে।

চায়ের বিকল্প গরম জলের সঙ্গে এক-টুকরো শুয়োরের চর্বি গিলে লাল ফৌজের লোকজন যেখানে বন্দীকে ঘিরে ভিড় জমিয়েছিল আমি সেখানে গেলুম।

‘আরে, এস, এস!’ টিনের মগভর্তি গরম জল গিলে জামার হাতা দিয়ে ঘামে-ভেজা মুখটা মুছতে-মুছতে ভাস্কা স্মাকভ বন্ধুর মতো ডাকল আমায়। ‘ভ্যালা নোক বটে তুমি বাপু একখান!’

‘কেন, কেন? কী হয়েছে?’

‘কাল রাইফেলখান ছুড়ে ফেলে দিলে?’

‘আর কে সবচেয়ে প্রথম ওপর থেকে ঝাঁপ খেয়ে সবশেষে এসে হাজির হয়েছিল, শুনি?’ ওর আক্রমণ ঠেকাতে পালটা আক্রমণ করলুম।

‘আরে, ইয়ার, ঝাঁপ খেয়ে উপর থেকে সোজা জলার পাঁকে গিয়ে পড়লাম যে। সেই জন্যিই তো দেরি হল। যাই হোক, আমরা বেশ চটপটই কাজ গুছিয়ে লিয়েছিলাম। তারপর পিছনে যখন বোমের আওয়াজ শুনলাম তখন ভাবলাম তোমার আর চুবুকের বুঝি দফা নিকেশ হয়ে গেল। সত্যি, কথাটা তখন মনে হইছিল বটে। তাই ঘোড়া ছুটিয়ে এসে এখেনে সবাইরে বললাম: ‘মনে হচ্চে, ওদের ও-কম্মো শেষ হয়ে গ্যাচে।’ আর নিজের মনে বললাম: ‘যেমন ছোঁড়া আমার সঙ্গে ওর চামড়ার ব্যাগটা বদলাবদলি করতে চায় নি, তা এখন হল তো?

শ্বেতরক্ষীগুলা এখন ওটা এমনিই লিয়ে লেবে!! আহা, ব্যাগটা বড় সোন্দর ছিল গো।’ কথা কটা বলে বনের মধ্যে ছোকরাটাকে মেরে ফেলে তার যে-ব্যাগটা আমি হাতিয়েছিলুম তখনও আমার কাঁধে-ঝোলানো সেই চ্যাপ্টা ম্যাপকেস্টার গায়ে ভাস্কা একবার হাত বুলিয়ে নিলে। ‘ঠিক আচে, ঠিক আচে, লিতে আমার ভারি বয়েই গ্যাচে ইচ্ছে হলি তুমিই ওটা রেখে দিতি পার,’ ও বলল। ‘গত মাসে ওটার চাইতেও বেশি সোন্দর একটা ব্যাগ পেয়েছিলাম, তা সেটারে বেচে দিলাম। ওটার জন্যি অত টান ভালো নয়, বুইলে?’ অবজ্ঞার ভঙ্গিতে নাক সিটকে কথাটা শেষ করল ও।