০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
জাপান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, তাইওয়ান কেবল অজুহাত প্রস্তুত করছে ৯২% মানুষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করছে, সাইবার নিরাপত্তায় বাড়ছে সতর্কতা ওজন কমানোর বিজ্ঞাপনের আড়ালে ওষুধের প্রচার? নতুন বিতর্কে স্বাস্থ্যখাত সংরক্ষিত বন নয়, কৃষিজমিই ভরসা—বন্য বিড়াল রক্ষায় নতুন গবেষণার বার্তা যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে হলিউড অভিনেত্রী মেরি বেথ হার্ট আর নেই, আলঝেইমারসে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যু চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৫)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫
  • 173

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

এই পর্যন্ত বলে ফেদিয়া ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগল যেন সেইমাত্র ও ষাঁড়টার হাত থেকে উদ্ধার পেয়ে এসেছে। আবার জিভের সেই আওয়াজটা করল ও, তার মানে গল্পটা আবার শুরু করতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে কে যেন খামারবাড়ির বারান্দা থেকে হাঁক দিয়ে বললে:

‘ফিয়োদর… সির্ত্সভ! কম্যান্ডার তোমারে দেখা করতি বলচে।’

‘এই-যে, মিনিটখানেকের মধ্যি যাচ্ছি,’ বলে ফেদিয়া বিরক্তিভরে হাত নাড়ল। তারপর হেসে ফের শুরু করল: ‘অন্য সবাই যখন জানেতের জ্ঞান ফেরাতি ব্যস্ত, এদিকে কাউন্টেস এমিলিয়া তখন আমার কাছে এগিয়ে আলেন। দেখি, ওঁর মুখখান কাগজের মতো শাদা, দু-চোখে জল, বুকটা তোলাপাড়া করতে নেগেছে। কাউন্টেস আমারে কইলেন, ‘ছোকরা, তুমি কে কও তো?’ তা আমি কলাম, ‘মাননীয়া, আমি একজন রাখাল। আমার নাম সিভ, ফিয়োদর সিভ।’ শুনে কাউন্টেস ফোঁস করে এক লিশ্বাস ছেড়ে আমারে কলেন: ‘থিয়োদোর,’ সত্যি কলেন, ওরা নাকি ফিয়োদররে থিয়োদোর কয় কলেন, ‘থিয়োদোর, আমার আরও কাচে এস’।’

কাউন্টেস ফেদিয়াকে কী বলেছিল, আর তার সঙ্গে পরে ফেদিয়ার লাল ফৌজের দলে যোগ দেয়ার সম্পর্ক’ই বা কী ছিল তা তখন জানতে পারি নি, কারণ ঠিক সেই সময়েই ঘোড়সওয়ারের নালের ক্লিঙ্ক-ক্লিঙ্ক আওয়াজ কানে এল, আর সাংঘাতিক চটে-মটে ঠিক আমার পেছনেই শেবালেভ এসে হাজির হলেন।

নিজের তরোয়ালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কঠিন সূরে তিনি বললেন, ‘ফিয়োদর, তোমারে-যে ডেকে পাঠিয়েচি শোন নি?’

দাঁড়িয়ে উঠে ফিয়োদর ঘোঁত-ঘোঁত করে বললে, ‘শুনেচি। তা, ডেকেছিলেন কেন?’

‘কী কইতে চাও তুমি, ‘ডেকেছিলেন কেন’ মানে? কম্যান্ডার ডেকে পাঠালি যে যেতি হয়, জান না?’

ফেদিয়া আবার স্বমূর্তি ধারণ করল। ঠাট্টার সুরে বলল, ‘হ্যাঁ, হুজুর। তা, মহামহিম হুজুর কেন তলব করেছিলেন হুকুম করুন?’

শেবালভ ছিলেন সাধারণভাবে নির্ঝঞ্ঝাট আর নরম স্বভাবের মানুষ। কিন্তু এই ঠাট্টায় সাংঘাতিক খেপে গেলেন।

ওঁর গলার স্বরে বেদনার আভাস ফুটে উঠল। গম্ভীরভাবে বললেন, ‘আমি তোমার মহামহিম হুজুর নই, বুইলে? আমারে ‘হুজুর, হুজুর’ করতে হবে না তোমারে। কিন্তু, মনে রেখো, আমি এই বাহিনীর কম্যান্ডার, আর আমি চাইতে পারি তুমি আমার হুকুম মেনে চলবে। শোন, তেমুল্লুকভ গাঁয়ের চাষীরা এইমাত্তর এসেছিল এখেনে।’

ফেদিয়ার কালো চোখ দুটো বোঁ-করে একবার চারদিক ঘুরে এল। ও বলল, ‘তাতে কী হল?’

‘ওরা নালিশ জানাল, আবার কী। কইল: ‘আপনেদের স্কাউটরা এসেছিল। তা আমরা ওদের পেয়ে খুশিই হলাম ওরা তো আমাদের আপনজন, কমরেড সব। ওদের দলপতি, কালোমতো নোকটি, গাঁয়ে একটা সভা ডাকল। ডেকে সোভিয়েত রাষ্ট্রশক্তির পক্ষে বক্তিতা দিলে, জমি আর জমিদারদের কথাও বললে। কিন্তু আমরা গাঁয়ের সবাই যখন বক্তিতা শুনচি আর পরস্তাব পাশ করচি তখন ওর দলের ছেলেপিলেরা আমাদের ঘরে-ঘরে ঢুকে ভাঁড়ার হাঁটকে ননীর খোঁজ করতি নাগল আর মুরগি ধরতে ছুটোছুটি নাগাল।’ এসব কী, ফিয়োদর? তবে কি তুমি ভুল করি আমাদের দলে এসেচ, গাইদামাকদের দলে না-গিয়ে? এ সব কাজ তো ওরাই করে বলে জানি। আমাদের বাহিনীতে এ কাজ চলতি পারে না, কখনও না- এ নজ্জার কথা!’

জাপান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, তাইওয়ান কেবল অজুহাত প্রস্তুত করছে

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৫)

০৮:০০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

এই পর্যন্ত বলে ফেদিয়া ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলতে লাগল যেন সেইমাত্র ও ষাঁড়টার হাত থেকে উদ্ধার পেয়ে এসেছে। আবার জিভের সেই আওয়াজটা করল ও, তার মানে গল্পটা আবার শুরু করতে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়ে কে যেন খামারবাড়ির বারান্দা থেকে হাঁক দিয়ে বললে:

‘ফিয়োদর… সির্ত্সভ! কম্যান্ডার তোমারে দেখা করতি বলচে।’

‘এই-যে, মিনিটখানেকের মধ্যি যাচ্ছি,’ বলে ফেদিয়া বিরক্তিভরে হাত নাড়ল। তারপর হেসে ফের শুরু করল: ‘অন্য সবাই যখন জানেতের জ্ঞান ফেরাতি ব্যস্ত, এদিকে কাউন্টেস এমিলিয়া তখন আমার কাছে এগিয়ে আলেন। দেখি, ওঁর মুখখান কাগজের মতো শাদা, দু-চোখে জল, বুকটা তোলাপাড়া করতে নেগেছে। কাউন্টেস আমারে কইলেন, ‘ছোকরা, তুমি কে কও তো?’ তা আমি কলাম, ‘মাননীয়া, আমি একজন রাখাল। আমার নাম সিভ, ফিয়োদর সিভ।’ শুনে কাউন্টেস ফোঁস করে এক লিশ্বাস ছেড়ে আমারে কলেন: ‘থিয়োদোর,’ সত্যি কলেন, ওরা নাকি ফিয়োদররে থিয়োদোর কয় কলেন, ‘থিয়োদোর, আমার আরও কাচে এস’।’

কাউন্টেস ফেদিয়াকে কী বলেছিল, আর তার সঙ্গে পরে ফেদিয়ার লাল ফৌজের দলে যোগ দেয়ার সম্পর্ক’ই বা কী ছিল তা তখন জানতে পারি নি, কারণ ঠিক সেই সময়েই ঘোড়সওয়ারের নালের ক্লিঙ্ক-ক্লিঙ্ক আওয়াজ কানে এল, আর সাংঘাতিক চটে-মটে ঠিক আমার পেছনেই শেবালেভ এসে হাজির হলেন।

নিজের তরোয়ালের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে কঠিন সূরে তিনি বললেন, ‘ফিয়োদর, তোমারে-যে ডেকে পাঠিয়েচি শোন নি?’

দাঁড়িয়ে উঠে ফিয়োদর ঘোঁত-ঘোঁত করে বললে, ‘শুনেচি। তা, ডেকেছিলেন কেন?’

‘কী কইতে চাও তুমি, ‘ডেকেছিলেন কেন’ মানে? কম্যান্ডার ডেকে পাঠালি যে যেতি হয়, জান না?’

ফেদিয়া আবার স্বমূর্তি ধারণ করল। ঠাট্টার সুরে বলল, ‘হ্যাঁ, হুজুর। তা, মহামহিম হুজুর কেন তলব করেছিলেন হুকুম করুন?’

শেবালভ ছিলেন সাধারণভাবে নির্ঝঞ্ঝাট আর নরম স্বভাবের মানুষ। কিন্তু এই ঠাট্টায় সাংঘাতিক খেপে গেলেন।

ওঁর গলার স্বরে বেদনার আভাস ফুটে উঠল। গম্ভীরভাবে বললেন, ‘আমি তোমার মহামহিম হুজুর নই, বুইলে? আমারে ‘হুজুর, হুজুর’ করতে হবে না তোমারে। কিন্তু, মনে রেখো, আমি এই বাহিনীর কম্যান্ডার, আর আমি চাইতে পারি তুমি আমার হুকুম মেনে চলবে। শোন, তেমুল্লুকভ গাঁয়ের চাষীরা এইমাত্তর এসেছিল এখেনে।’

ফেদিয়ার কালো চোখ দুটো বোঁ-করে একবার চারদিক ঘুরে এল। ও বলল, ‘তাতে কী হল?’

‘ওরা নালিশ জানাল, আবার কী। কইল: ‘আপনেদের স্কাউটরা এসেছিল। তা আমরা ওদের পেয়ে খুশিই হলাম ওরা তো আমাদের আপনজন, কমরেড সব। ওদের দলপতি, কালোমতো নোকটি, গাঁয়ে একটা সভা ডাকল। ডেকে সোভিয়েত রাষ্ট্রশক্তির পক্ষে বক্তিতা দিলে, জমি আর জমিদারদের কথাও বললে। কিন্তু আমরা গাঁয়ের সবাই যখন বক্তিতা শুনচি আর পরস্তাব পাশ করচি তখন ওর দলের ছেলেপিলেরা আমাদের ঘরে-ঘরে ঢুকে ভাঁড়ার হাঁটকে ননীর খোঁজ করতি নাগল আর মুরগি ধরতে ছুটোছুটি নাগাল।’ এসব কী, ফিয়োদর? তবে কি তুমি ভুল করি আমাদের দলে এসেচ, গাইদামাকদের দলে না-গিয়ে? এ সব কাজ তো ওরাই করে বলে জানি। আমাদের বাহিনীতে এ কাজ চলতি পারে না, কখনও না- এ নজ্জার কথা!’