০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ওজন কমানোর বিজ্ঞাপনের আড়ালে ওষুধের প্রচার? নতুন বিতর্কে স্বাস্থ্যখাত সংরক্ষিত বন নয়, কৃষিজমিই ভরসা—বন্য বিড়াল রক্ষায় নতুন গবেষণার বার্তা যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে হলিউড অভিনেত্রী মেরি বেথ হার্ট আর নেই, আলঝেইমারসে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যু চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
  • 267

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

আর তারপর, বোমাগুলো ফের বেলুটের নিচে আটকে নিয়ে, পিঠের ওপর কোণাকুণিভাবে রাইফেলগুলো ঝুলিয়ে ফেদিয়ার স্কাউটরা তাদের এই সাফল্যে আটখানা হয়ে নিঃশব্দে তাদের ঠান্ডা, ক্ষুরধার তরোয়ালগুলোর সাহায্যে কাজ শুরু করে দেবে। আমাদের ফেদিয়া সিসভের ধারাই ছিল ওইরকম। তাই সেদিন আমার মনে হয়েছিল, ‘এমন একটা লোককে কিনা আমাদের বাহিনী থেকে অকারণে তাড়িয়ে দেয়ার কথা হচ্ছে! কী জন্যে, না তুচ্ছ কতকগুলো মুরগি আর খানিকটা ননী চুরি করার দায়ে! ভাবো একবার কাণ্ডটা!’

ফেদিয়া আর শেবালভের মধ্যে ঝগড়ার ব্যাপারটা নিয়ে তখনও আমি মনে-মনে তোলাপাড়ায় মশগুল হয়ে আছি, এমন সময় খামারবাড়ির ছাদের ওপর থেকে চুবুক চিৎকার করে নিচে সবাইকে জানিয়ে দিলেন যে শত্রুর প্রকাণ্ড একদল পদাতিক সৈন্য রাস্তা ধরে ওই খামারের দিকেই আসছে। চুবুকের ওপর ভার ছিল ওই ছাদের ওপর থেকে চারিদিকে নজর রাখার। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের লাল ফৌজের লোকজনের মধ্যে প্রচণ্ড ছুটোছুটি আর তাড়াহুড়ো পড়ে গেল। দেখেশুনে মনে হল, কোনো কম্যান্ডারের পক্ষেই ওই উত্তেজিত জনতাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা বোধহয় সম্ভব নয়। কেউই তখন হুকুমের জন্যে অপেক্ষা করছিল না, আগে থেকেই সকলে জানত এ-সময়ে কাকে কী করতে হবে বা না-হবে।

প্রত্যেকে দৌড়তে-দৌড়তেই একে একে পরীক্ষা করতে লাগল প্রত্যেকের রাইফেলের ম্যাগাজিনে কটা করে কার্তুজ আছে। প্রাতরাশে বাধা পড়ায় প্রত্যেকে বাকি খাবারটুকু গোগ্রাসে গিলে কিংবা চিবোতে চিবোতেই ছুট লাগাল। গাল্দার অধীনে এক-নম্বর কোম্পানির লোকজন নিচু হয়ে ছুটতে-ছুটতে গ্রামটার একেবারে প্রান্তে গেল চলে, আর সেখানে মাটিতে শুয়ে পড়ে রক্ষা ব্যূহটাকে অনেক লম্বা করে বাড়িয়ে নিলে। ঘোড়ার পিঠের জিনগুলোকে শক্ত করে বেধে ফেলে ঘোড়ার মুখে লাগাম পরিয়ে নিল স্কাউটরা। তারপর ঘোড়ার পায়ের বাঁধন খুলে নিতে লাগল, খুলতে অসুবিধে বোধ করলে তরোয়ালের এক-এক কোপে

বাঁধুনিগুলো কেটেও দিতে লাগল। মেশিনগান-চালকরা তাদের অস্ত্রশস্য আর গুলির ফিতেগুলো গাড়ি থেকে নামাতে লাগল টেনে-টেনে। লাল হয়ে উঠে ঘামতে-ঘামতে সুখারেভ তাঁর দু-নম্বর কোম্পানির লোকজন নিয়ে বনের ধারটায় ছুটে চলে গেলেন। এরপর মিনিট-খানেক মিনিট-দুয়েকের মধ্যে সব চুপচাপ হয়ে গেল।

খামারবাড়ির সি’ড়ি দিয়ে নেমে এসে শেবালভ ‘ফেদিয়াকে কী-যেন একটা হকুম দিলেন। ফেদিয়াও ‘ঠিক আছে, করে ফেলচি’-গোছের একটা ভঙ্গি করে মাথা নাড়ল। তারপর বাড়ির জানলা-দরজা গেল দুমদাম বন্ধ হয়ে আর খামারের মালিক চাষীটি বাড়ির মেয়ে আর কাচ্চা-বাচ্চাদের নিয়ে মাটির নিচে ভাঁড়ারঘরে নেমে গেলেন।

 

ওজন কমানোর বিজ্ঞাপনের আড়ালে ওষুধের প্রচার? নতুন বিতর্কে স্বাস্থ্যখাত

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৪৮)

০৮:০০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মে ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

আর তারপর, বোমাগুলো ফের বেলুটের নিচে আটকে নিয়ে, পিঠের ওপর কোণাকুণিভাবে রাইফেলগুলো ঝুলিয়ে ফেদিয়ার স্কাউটরা তাদের এই সাফল্যে আটখানা হয়ে নিঃশব্দে তাদের ঠান্ডা, ক্ষুরধার তরোয়ালগুলোর সাহায্যে কাজ শুরু করে দেবে। আমাদের ফেদিয়া সিসভের ধারাই ছিল ওইরকম। তাই সেদিন আমার মনে হয়েছিল, ‘এমন একটা লোককে কিনা আমাদের বাহিনী থেকে অকারণে তাড়িয়ে দেয়ার কথা হচ্ছে! কী জন্যে, না তুচ্ছ কতকগুলো মুরগি আর খানিকটা ননী চুরি করার দায়ে! ভাবো একবার কাণ্ডটা!’

ফেদিয়া আর শেবালভের মধ্যে ঝগড়ার ব্যাপারটা নিয়ে তখনও আমি মনে-মনে তোলাপাড়ায় মশগুল হয়ে আছি, এমন সময় খামারবাড়ির ছাদের ওপর থেকে চুবুক চিৎকার করে নিচে সবাইকে জানিয়ে দিলেন যে শত্রুর প্রকাণ্ড একদল পদাতিক সৈন্য রাস্তা ধরে ওই খামারের দিকেই আসছে। চুবুকের ওপর ভার ছিল ওই ছাদের ওপর থেকে চারিদিকে নজর রাখার। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের লাল ফৌজের লোকজনের মধ্যে প্রচণ্ড ছুটোছুটি আর তাড়াহুড়ো পড়ে গেল। দেখেশুনে মনে হল, কোনো কম্যান্ডারের পক্ষেই ওই উত্তেজিত জনতাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা বোধহয় সম্ভব নয়। কেউই তখন হুকুমের জন্যে অপেক্ষা করছিল না, আগে থেকেই সকলে জানত এ-সময়ে কাকে কী করতে হবে বা না-হবে।

প্রত্যেকে দৌড়তে-দৌড়তেই একে একে পরীক্ষা করতে লাগল প্রত্যেকের রাইফেলের ম্যাগাজিনে কটা করে কার্তুজ আছে। প্রাতরাশে বাধা পড়ায় প্রত্যেকে বাকি খাবারটুকু গোগ্রাসে গিলে কিংবা চিবোতে চিবোতেই ছুট লাগাল। গাল্দার অধীনে এক-নম্বর কোম্পানির লোকজন নিচু হয়ে ছুটতে-ছুটতে গ্রামটার একেবারে প্রান্তে গেল চলে, আর সেখানে মাটিতে শুয়ে পড়ে রক্ষা ব্যূহটাকে অনেক লম্বা করে বাড়িয়ে নিলে। ঘোড়ার পিঠের জিনগুলোকে শক্ত করে বেধে ফেলে ঘোড়ার মুখে লাগাম পরিয়ে নিল স্কাউটরা। তারপর ঘোড়ার পায়ের বাঁধন খুলে নিতে লাগল, খুলতে অসুবিধে বোধ করলে তরোয়ালের এক-এক কোপে

বাঁধুনিগুলো কেটেও দিতে লাগল। মেশিনগান-চালকরা তাদের অস্ত্রশস্য আর গুলির ফিতেগুলো গাড়ি থেকে নামাতে লাগল টেনে-টেনে। লাল হয়ে উঠে ঘামতে-ঘামতে সুখারেভ তাঁর দু-নম্বর কোম্পানির লোকজন নিয়ে বনের ধারটায় ছুটে চলে গেলেন। এরপর মিনিট-খানেক মিনিট-দুয়েকের মধ্যে সব চুপচাপ হয়ে গেল।

খামারবাড়ির সি’ড়ি দিয়ে নেমে এসে শেবালভ ‘ফেদিয়াকে কী-যেন একটা হকুম দিলেন। ফেদিয়াও ‘ঠিক আছে, করে ফেলচি’-গোছের একটা ভঙ্গি করে মাথা নাড়ল। তারপর বাড়ির জানলা-দরজা গেল দুমদাম বন্ধ হয়ে আর খামারের মালিক চাষীটি বাড়ির মেয়ে আর কাচ্চা-বাচ্চাদের নিয়ে মাটির নিচে ভাঁড়ারঘরে নেমে গেলেন।