০৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে কবে কারা জয় পেয়েছিল? তারপর কী হয়েছিল? জ্বালানি রিজার্ভ ছাড়লেও অপিরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে গাদ্দাফি থেকে খামেনি: মিত্রদের পতনে পুতিন কখনও সরব, কখনও নিশ্চুপ ইরান যুদ্ধে জ্বালানি তেল নিয়ে হিসাব ভুল করেছিলো ট্রাম্প প্রশাসন  ইউরোপের নিরাপত্তায় নতুন পারমাণবিক কৌশল ঘোষণা ফ্রান্সের, মিত্রদের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ ঐতিহাসিক তেল মজুদ নিঃসরণ কার্যত ‘ব্যান্ড-এইড’, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থায় বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট গভীরতর জেপিমর্গান বেসরকারি ঋণ তহবিলের ঋণমান কমিয়েছে, এআই-আতঙ্কে সফটওয়্যার খাত রেকর্ড মজুদ নিঃসরণের পরেও তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়েছে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দূর হয়নি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন স্থাপন, জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করা আরও জটিল হয়ে পড়ল সমুদ্র ড্রোনে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নতুন মাত্রায়

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২৮)

রমজানের সেহেরির সময় ঢাকায় মহল্লায় মহল্লায় কয়েকজনের দল ধর্মীয় গান গেয়ে রোজাদারদের ঘুম ভাঙ্গাতেন

কাসিদা টুপি

বিশ শতকের প্রথম থেকে চার দশক পর্যন্ত ঢাকায় জনপ্রিয় ছিল কাসিদা টুপি। হাকিম হাবিবুর লিখেছেন, “আমার সময় কাসিদা করা টুপিও তৈরি হতে লাগল। গোলাকার এবং কিস্তির মতো… যা ধোলাই করলে পরিষ্কার হয়ে যেত এবং কাঠামোতে রেখে লোকেরা পরে আবার তা পরতো। এভাবে অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকত।”

ক্বাসিদা

আরবি ক্লাসাদ থেকে এসেছে ক্বাসিদা শব্দটি। আমাদের এখানে ক্বাসিদা হলো প্রিয় নবীর গুণগান করে গাওয়া গান। রমজানের সেহেরির সময় ঢাকায় মহল্লায় মহল্লায় কয়েকজনের দল ধর্মীয় গান গেয়ে রোজাদারদের ঘুম ভাঙ্গাতেন। ক্বাসিদার বিষয় ছিল আল্লাহ রসুল (দ:) কে স্মরণ। রোজার ফজিলত বর্ণনা ইত্যাদি। আমার এখনও মনে পড়ে, ইসলামপুরে আশেক লেনের গলিতে নানাবাড়িতে ছেলেবেলায় ক্বাসিদার সুরে জেগে ওঠা। তবে, ঢাকায় নয়, সারা দেশে অনেকখানে এর চল ছিল।

রমজানের ভোর রাতে ক্বাসিদা

ঢাকায় ক্বাসিদার চল কবে হয়েছিল জানি না। চল হলেও তা ছিল সীমিতাকারে। কারণ, মুসলমানের সংখ্যা ছিল কম। বিকাশ আরো পড়ে। হাকিম হাবিবুর লিখছেন, বিশ শতকের শুরুতে, গরিব ও বৃদ্ধ কয়েজন এক হাতে লাঠি আরেক হাতে লণ্ঠন নিয়ে মহল্লায় বেরুতেন ও হাঁক দিতেন, ‘রোজাদারো উঠঠো, সেহেরী খাও, ওয়াক্ত হো গিয়া।” এদের বলা হলো সেহেরীওয়ালা। কিন্তু এটি ক্বাসিদা নয়।

আরো পরে হতে পারে মহল্লার সর্দাররা ক্বাসিদা শুরু করেন তবে তা বিকশিত হয় ১৯৪৭-এর পর, যখন প্রচুর উর্দুভাষী ঢাকায় ও পূর্ববঙ্গের নানা জায়গায় আশ্রয় নেন। শায়েলা লিখছেন, তারা “ঢাকার বিশেষ বিশেষ উর্দু সঙ্গীতের রচনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তারা রজ্জব মাসে কাওয়ালি, রামজান মাসে ক্বাসিদা, রবিউল আউয়াল মাসে নওজ-এ রাসুল ছাড়াও ওলাদান, শের ও শায়নী রচনা করতেন। ফলে সীমিতাকারে খেলাফত কাঠামোর মধ্যে দিয়ে ক্বাসিদা আরো জনপ্রিয়তা অর্জন করে।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২৭)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২৭)

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে কবে কারা জয় পেয়েছিল? তারপর কী হয়েছিল?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২৮)

০৭:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

রমজানের সেহেরির সময় ঢাকায় মহল্লায় মহল্লায় কয়েকজনের দল ধর্মীয় গান গেয়ে রোজাদারদের ঘুম ভাঙ্গাতেন

কাসিদা টুপি

বিশ শতকের প্রথম থেকে চার দশক পর্যন্ত ঢাকায় জনপ্রিয় ছিল কাসিদা টুপি। হাকিম হাবিবুর লিখেছেন, “আমার সময় কাসিদা করা টুপিও তৈরি হতে লাগল। গোলাকার এবং কিস্তির মতো… যা ধোলাই করলে পরিষ্কার হয়ে যেত এবং কাঠামোতে রেখে লোকেরা পরে আবার তা পরতো। এভাবে অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকত।”

ক্বাসিদা

আরবি ক্লাসাদ থেকে এসেছে ক্বাসিদা শব্দটি। আমাদের এখানে ক্বাসিদা হলো প্রিয় নবীর গুণগান করে গাওয়া গান। রমজানের সেহেরির সময় ঢাকায় মহল্লায় মহল্লায় কয়েকজনের দল ধর্মীয় গান গেয়ে রোজাদারদের ঘুম ভাঙ্গাতেন। ক্বাসিদার বিষয় ছিল আল্লাহ রসুল (দ:) কে স্মরণ। রোজার ফজিলত বর্ণনা ইত্যাদি। আমার এখনও মনে পড়ে, ইসলামপুরে আশেক লেনের গলিতে নানাবাড়িতে ছেলেবেলায় ক্বাসিদার সুরে জেগে ওঠা। তবে, ঢাকায় নয়, সারা দেশে অনেকখানে এর চল ছিল।

রমজানের ভোর রাতে ক্বাসিদা

ঢাকায় ক্বাসিদার চল কবে হয়েছিল জানি না। চল হলেও তা ছিল সীমিতাকারে। কারণ, মুসলমানের সংখ্যা ছিল কম। বিকাশ আরো পড়ে। হাকিম হাবিবুর লিখছেন, বিশ শতকের শুরুতে, গরিব ও বৃদ্ধ কয়েজন এক হাতে লাঠি আরেক হাতে লণ্ঠন নিয়ে মহল্লায় বেরুতেন ও হাঁক দিতেন, ‘রোজাদারো উঠঠো, সেহেরী খাও, ওয়াক্ত হো গিয়া।” এদের বলা হলো সেহেরীওয়ালা। কিন্তু এটি ক্বাসিদা নয়।

আরো পরে হতে পারে মহল্লার সর্দাররা ক্বাসিদা শুরু করেন তবে তা বিকশিত হয় ১৯৪৭-এর পর, যখন প্রচুর উর্দুভাষী ঢাকায় ও পূর্ববঙ্গের নানা জায়গায় আশ্রয় নেন। শায়েলা লিখছেন, তারা “ঢাকার বিশেষ বিশেষ উর্দু সঙ্গীতের রচনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তারা রজ্জব মাসে কাওয়ালি, রামজান মাসে ক্বাসিদা, রবিউল আউয়াল মাসে নওজ-এ রাসুল ছাড়াও ওলাদান, শের ও শায়নী রচনা করতেন। ফলে সীমিতাকারে খেলাফত কাঠামোর মধ্যে দিয়ে ক্বাসিদা আরো জনপ্রিয়তা অর্জন করে।”

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২৭)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ২৭)