১২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
বাবাদের স্বীকৃতি দেওয়ার সময় কি এখনও আসেনি? কাতারের উপহারের বিমানই নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান, উন্মোচন করলেন ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ভর্তুকি বিতর্ক: ধনীরাই পাচ্ছেন বেশি সুবিধা, বাড়ছে আর্থিক চাপ ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে সমুদ্রতল উঠে এলো ডাঙায়, বদলে গেল শত কিলোমিটার উপকূল ভারতের ক্রীড়া পাসপোর্ট পরিকল্পনা: প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য জাতীয় দলে খেলার নতুন সুযোগ? নতুন মার্কিন শুল্কে অনিশ্চয়তা, আদালতের চ্যালেঞ্জে টিকবে তো ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা? বাবার ভালোবাসার দাম নেই: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাবাকে ঘিরে দুই ছেলের অনন্য গল্প পুলাউ উবিনে বিরল আবিষ্কার, বিশ্বের অজানা নতুন গুবরে পোকা ও মাকড়সার সন্ধান ডেভিড হকনির বিদায়: সুইমিং পুল, রঙ আর আলোর জাদুকরের শেষ অধ্যায় নেটফ্লিক্সে হারলান কোবেন ঝড়: কেন বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন রহস্যকাহিনির এই জাদুকর?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৫)

ডোরা কাটা মসলিনকে বলা হতো ডোরিয়া। ডোরিয়া লম্বায় ছিল দশ থেকে বারো গজের মতো আর চওড়ায় এক গজ।

ওয়াইজ লিখেছেন, আদমশুমারিতে ডোমদের। সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। অনেক নিম্নবর্গের মানুষকে ডোমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৮৭২ সালের আদমশুমারিতে ঢাকায় ডোমদের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬৪১ জন, অথচ ওয়াইজের মতে, ঢাকায় তখন ডোম পরিবারের সংখ্যা খুব বেশি হলে ২০, মোট সংখ্যা প্রায় ১০০।

ঢাকায় জনশ্রুতি এই যে, নবাবি আমলে পাটনা থেকে ডোমদের আনা হয় মৃতদেহ সৎকারের জন্য। ডোমরা যে পূর্ববঙ্গে বহিরাগত এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। দেশে তারা জল্লাদের কাজ করতেন। এখনও মর্গে অনেক ক্ষেত্রে ডোমরাই কাজ করেন।

ডোম

ঢাকায় ডোমদের গুরু ভগবৎ, আবার একাংশ মানেন রাজা হরিশচন্দ্রকে। হরিশচন্দ্র নাকি তার ধন-সম্পদ ছেড়ে ডোমদের সঙ্গে থাকতেন এবং তাদের হিন্দুধর্মে দীক্ষিত করেন। এদের প্রধান পূজা শ্রাবণী পূজা অনুষ্ঠিত হয় শ্রাবণ মাসে।

ডোমরা মাংসপ্রিয় তবে গরুর মাংস খান না। নিজেদের অনুষ্ঠানে মেয়েরা গান গাইলেও অন্যদের অনুষ্ঠানে যান না। হিন্দু সমাবেশে ডোম অদ্ভুত। ডোম থাকলে সবাই হয়ে যায় অপবিত্র। কিন্তু শ্বশানে ডোম উপস্থিত থাকলে জাত যায় না।’

ডোরিয়া

ডোরিয়া নামে মুঘল আমলে ঢাকায় তৈরি হতো এক ধরনের মসলিন যা অত সূক্ষ্ম ছিল না। ডোরা কাটা মসলিনকে বলা হতো ডোরিয়া। ডোরিয়া লম্বায় ছিল দশ থেকে বারো গজের মতো আর চওড়ায় এক গজ। বাচ্চা ছেলেমেয়েদের জামা তৈরি জন্য ব্যবহার করা হতো।

(চলবে)

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবাদের স্বীকৃতি দেওয়ার সময় কি এখনও আসেনি?

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৫৫)

০৭:০০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

ডোরা কাটা মসলিনকে বলা হতো ডোরিয়া। ডোরিয়া লম্বায় ছিল দশ থেকে বারো গজের মতো আর চওড়ায় এক গজ।

ওয়াইজ লিখেছেন, আদমশুমারিতে ডোমদের। সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। অনেক নিম্নবর্গের মানুষকে ডোমদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৮৭২ সালের আদমশুমারিতে ঢাকায় ডোমদের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬৪১ জন, অথচ ওয়াইজের মতে, ঢাকায় তখন ডোম পরিবারের সংখ্যা খুব বেশি হলে ২০, মোট সংখ্যা প্রায় ১০০।

ঢাকায় জনশ্রুতি এই যে, নবাবি আমলে পাটনা থেকে ডোমদের আনা হয় মৃতদেহ সৎকারের জন্য। ডোমরা যে পূর্ববঙ্গে বহিরাগত এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। দেশে তারা জল্লাদের কাজ করতেন। এখনও মর্গে অনেক ক্ষেত্রে ডোমরাই কাজ করেন।

ডোম

ঢাকায় ডোমদের গুরু ভগবৎ, আবার একাংশ মানেন রাজা হরিশচন্দ্রকে। হরিশচন্দ্র নাকি তার ধন-সম্পদ ছেড়ে ডোমদের সঙ্গে থাকতেন এবং তাদের হিন্দুধর্মে দীক্ষিত করেন। এদের প্রধান পূজা শ্রাবণী পূজা অনুষ্ঠিত হয় শ্রাবণ মাসে।

ডোমরা মাংসপ্রিয় তবে গরুর মাংস খান না। নিজেদের অনুষ্ঠানে মেয়েরা গান গাইলেও অন্যদের অনুষ্ঠানে যান না। হিন্দু সমাবেশে ডোম অদ্ভুত। ডোম থাকলে সবাই হয়ে যায় অপবিত্র। কিন্তু শ্বশানে ডোম উপস্থিত থাকলে জাত যায় না।’

ডোরিয়া

ডোরিয়া নামে মুঘল আমলে ঢাকায় তৈরি হতো এক ধরনের মসলিন যা অত সূক্ষ্ম ছিল না। ডোরা কাটা মসলিনকে বলা হতো ডোরিয়া। ডোরিয়া লম্বায় ছিল দশ থেকে বারো গজের মতো আর চওড়ায় এক গজ। বাচ্চা ছেলেমেয়েদের জামা তৈরি জন্য ব্যবহার করা হতো।

(চলবে)