১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৮০ ছুঁয়েও থামেননি জোয়ানা লামলি: জীবন, মৃত্যু আর কাজের প্রতি অদম্য ভালোবাসা ডেভিড অ্যাটেনবরোর শতবর্ষে ফিরে দেখা সাহস, বিজ্ঞান আর প্রকৃতির অনন্য যাত্রা ডাকোটা জনসন: সত্যিকারের অভিনয় আর সাহসী পথচলায় এক অনন্য নাম ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেন:  থ্রিলার   সহজ গল্পে ভয় আর চমকের দুনিয়া ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ? বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে, জ্বালানি সংকট ও রাজনীতির টানাপোড়েনে নতুন অনিশ্চয়তা তেলের যুদ্ধেই বদলে যাচ্ছে শক্তির হিসাব, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থানে নতুন দিশা বৃষ্টি, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড়, লঘুচাপ-মে মাসে কেমন থাকবে বাংলাদেশের আবহাওয়া? বর্তমান ইরান ২০১৫ সালের চেয়ে ভিন্ন—এখন আইআরজিসির প্রভাব আরও বেশি ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২৬)

তিনি বাধ্য হইয়া দেবী সিংহকে পূর্ণিয়ার ইজারা ও তৎসঙ্গে উক্ত প্রদেশের শাসন-ভারও অর্পণ করিলেন। দেবী সিংহ পূর্ণিয়ার ভার প্রাপ্ত হইয়া আপনার বহুদিনের সঞ্চিত আশার পরিতৃপ্তিসাধনে সচেষ্ট হইলেন। তিনি নিজ প্রকৃতির এক এক স্তর উদ্ঘাটন করিতে লাগিলেন। যে সমস্ত শালিত অস্ত্রে তাঁহার মস্তিষ্ক-তুগ পরিপূর্ণ ছিল, একে একে সে সকলের ক্রীড়া আরম্ভ হইল। অবিলম্বে পূর্ণিয়ার জমিদার ও প্রজাগণ তাঁহাকে বিশেষরূপে চিনিতে পারিল। যে একবার অল্পকালের জন্য তাঁহার হস্তে পতিত হইয়াছে, অমনি তাঁহাকে তাঁহার শাণিত অস্ত্রে ক্ষতবিক্ষত হইতে হইয়াছে।
ক্রমে কাল্পনিক অস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া, দেবীসিংহ বাস্তব অস্ত্র চালাইতে আরম্ভ করিলেন। প্রবঞ্চনা, বিশ্বাসঘাতকতায় সুযোগ না পাইয়া, তিনি প্রজা ও জমিদারগণের উপর ভীষণ অত্যাচারের অভিনয় দেখাইতে লাগিলেন। তাঁহার অত্যাচারে পূর্ণিয়াবাসিগণ আপন আপন বাসভবন পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন আরম্ভ করিল! অচিরকালমধ্যে সমগ্র প্রদেশ অর্থজনশূন্ত হইয়া ধ্বংসপথে অগ্রসর হইতে লাগিল। যাহারা অবশিষ্ট রহিল, তাহারা দ্বিগুণ অত্যাচারে অতিমাত্র প্রপীড়িত হইয়া, অবিরত ‘ত্রাহি ত্রাহি’ করিতে লাগিল।
অল্পদিনের মধ্যে বাঙ্গলার চারিদিকে দেবীসিংহের নাম রাষ্ট্র হইয়া পড়িল। পূর্ব্বে নয় লক্ষ টাকায় পূর্ণিয়ার ইজারা বন্দোবস্ত হইত, কিন্তু সুজন্মায় বৎসরেও কোন কালে ছয় লক্ষের অধিক টাকা আদায় হয় নাই। কিন্তু দেবীসিংহ ১৬ লক্ষ টাকার বন্দোবস্তে ইজারা গ্রহণ নিজের লাভ রাখিয়া সেই ষোল লক্ষ টাকা আদায় করিতে তাঁহার যাহা আবশ্যক, সমস্তই অবলম্বন করিতে হইল। যেখানে ছয় লক্ষ টাকার অধিক আদায়ের সম্ভাবনা ছিল না, সেখান হইতে কিরূপে ১৬ লক্ষের অধিক আদায় হইতে পারে, তাহা সহজেই বুঝিতে পারা যায়।
কোন স্থান হইতে পূর্ব্বনিদিষ্ট রাজস্বের তিনগুণ আদার করিতে হইলে, নিরীহ প্রজা এবং জমিদারদিগেরও প্রতি কি প্রকার অত্যাচার করিতে হয়, তাহা ভাবিয়া স্থির করা যায় না। কিন্তু মন্তব্যে যাহা ভাবিয়া স্থির করিতে না পারে, দেবীসিংহের নিকট তাহা সহজেই উপস্থিত হয়। কাজেই অত্যাচারের যত প্রকার উপায় হইতে পারে, তাঁহার উদ্ভাবনী শক্তি দিন দিন তত প্রকারের সৃষ্টি করিতে লাগিল। সেই জন্ম পূর্ণিয়া মরুভূমিতে পরিণত হইয়া উঠে। দেবীসিংহ-কর্তৃক পূর্ণিয়া কিরূপে শাসিত হইয়াছিল, নিম্নলিখিত ঘটনা হইতে তাহা বেশ বুঝা যায়।

৮০ ছুঁয়েও থামেননি জোয়ানা লামলি: জীবন, মৃত্যু আর কাজের প্রতি অদম্য ভালোবাসা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২৬)

১১:০০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
তিনি বাধ্য হইয়া দেবী সিংহকে পূর্ণিয়ার ইজারা ও তৎসঙ্গে উক্ত প্রদেশের শাসন-ভারও অর্পণ করিলেন। দেবী সিংহ পূর্ণিয়ার ভার প্রাপ্ত হইয়া আপনার বহুদিনের সঞ্চিত আশার পরিতৃপ্তিসাধনে সচেষ্ট হইলেন। তিনি নিজ প্রকৃতির এক এক স্তর উদ্ঘাটন করিতে লাগিলেন। যে সমস্ত শালিত অস্ত্রে তাঁহার মস্তিষ্ক-তুগ পরিপূর্ণ ছিল, একে একে সে সকলের ক্রীড়া আরম্ভ হইল। অবিলম্বে পূর্ণিয়ার জমিদার ও প্রজাগণ তাঁহাকে বিশেষরূপে চিনিতে পারিল। যে একবার অল্পকালের জন্য তাঁহার হস্তে পতিত হইয়াছে, অমনি তাঁহাকে তাঁহার শাণিত অস্ত্রে ক্ষতবিক্ষত হইতে হইয়াছে।
ক্রমে কাল্পনিক অস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া, দেবীসিংহ বাস্তব অস্ত্র চালাইতে আরম্ভ করিলেন। প্রবঞ্চনা, বিশ্বাসঘাতকতায় সুযোগ না পাইয়া, তিনি প্রজা ও জমিদারগণের উপর ভীষণ অত্যাচারের অভিনয় দেখাইতে লাগিলেন। তাঁহার অত্যাচারে পূর্ণিয়াবাসিগণ আপন আপন বাসভবন পরিত্যাগ করিয়া পলায়ন আরম্ভ করিল! অচিরকালমধ্যে সমগ্র প্রদেশ অর্থজনশূন্ত হইয়া ধ্বংসপথে অগ্রসর হইতে লাগিল। যাহারা অবশিষ্ট রহিল, তাহারা দ্বিগুণ অত্যাচারে অতিমাত্র প্রপীড়িত হইয়া, অবিরত ‘ত্রাহি ত্রাহি’ করিতে লাগিল।
অল্পদিনের মধ্যে বাঙ্গলার চারিদিকে দেবীসিংহের নাম রাষ্ট্র হইয়া পড়িল। পূর্ব্বে নয় লক্ষ টাকায় পূর্ণিয়ার ইজারা বন্দোবস্ত হইত, কিন্তু সুজন্মায় বৎসরেও কোন কালে ছয় লক্ষের অধিক টাকা আদায় হয় নাই। কিন্তু দেবীসিংহ ১৬ লক্ষ টাকার বন্দোবস্তে ইজারা গ্রহণ নিজের লাভ রাখিয়া সেই ষোল লক্ষ টাকা আদায় করিতে তাঁহার যাহা আবশ্যক, সমস্তই অবলম্বন করিতে হইল। যেখানে ছয় লক্ষ টাকার অধিক আদায়ের সম্ভাবনা ছিল না, সেখান হইতে কিরূপে ১৬ লক্ষের অধিক আদায় হইতে পারে, তাহা সহজেই বুঝিতে পারা যায়।
কোন স্থান হইতে পূর্ব্বনিদিষ্ট রাজস্বের তিনগুণ আদার করিতে হইলে, নিরীহ প্রজা এবং জমিদারদিগেরও প্রতি কি প্রকার অত্যাচার করিতে হয়, তাহা ভাবিয়া স্থির করা যায় না। কিন্তু মন্তব্যে যাহা ভাবিয়া স্থির করিতে না পারে, দেবীসিংহের নিকট তাহা সহজেই উপস্থিত হয়। কাজেই অত্যাচারের যত প্রকার উপায় হইতে পারে, তাঁহার উদ্ভাবনী শক্তি দিন দিন তত প্রকারের সৃষ্টি করিতে লাগিল। সেই জন্ম পূর্ণিয়া মরুভূমিতে পরিণত হইয়া উঠে। দেবীসিংহ-কর্তৃক পূর্ণিয়া কিরূপে শাসিত হইয়াছিল, নিম্নলিখিত ঘটনা হইতে তাহা বেশ বুঝা যায়।