১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
৮০ ছুঁয়েও থামেননি জোয়ানা লামলি: জীবন, মৃত্যু আর কাজের প্রতি অদম্য ভালোবাসা ডেভিড অ্যাটেনবরোর শতবর্ষে ফিরে দেখা সাহস, বিজ্ঞান আর প্রকৃতির অনন্য যাত্রা ডাকোটা জনসন: সত্যিকারের অভিনয় আর সাহসী পথচলায় এক অনন্য নাম ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেন:  থ্রিলার   সহজ গল্পে ভয় আর চমকের দুনিয়া ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ? বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে, জ্বালানি সংকট ও রাজনীতির টানাপোড়েনে নতুন অনিশ্চয়তা তেলের যুদ্ধেই বদলে যাচ্ছে শক্তির হিসাব, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থানে নতুন দিশা বৃষ্টি, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড়, লঘুচাপ-মে মাসে কেমন থাকবে বাংলাদেশের আবহাওয়া? বর্তমান ইরান ২০১৫ সালের চেয়ে ভিন্ন—এখন আইআরজিসির প্রভাব আরও বেশি ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

হিউএনচাঙ (শেষ পর্ব)

পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না।

‘হিউএনচাঙ’ নামের বানান 

পৃথিবীতে প্রথম তিনজনের কাল অতীত হয়েছে। বর্তমান কালের ধ্যানীবুদ্ধ হচ্ছেন অমিতাভ, বোধিসত্ত্ব হচ্ছেন অবলোকিতেশ্বর, মানুষী বুদ্ধ গৌতম। ভবিষ্যৎ কালের ধ্যানীবুদ্ধ হবেন অমোঘসিদ্ধি, বোধিসত্ত্ব বিশ্বপাণি ও মানুষীবুদ্ধ মৈত্রেয়।

এরাই প্রধান। তাছাড়া বহু বোধিসত্ত্ব, স্ত্রীদেবতা (তারা), তার নীচের পদবীর দেবতারা (হেবজ্র, হারিতী, ধর্মপালগণ ইত্যাদি), ক্রমশঃ বৌদ্ধ স্বর্গে স্থান পেয়েছেন। স্বর্গও নানা স্তরের কল্পিত হয়েছে। বৌদ্ধ পণ্ডিত (যথা নাগার্জুন) ও সাধু ব্যক্তিগণ বোধিসত্ত্বরূপে পূজিত হন। (এঁদের দেখাদেখি খৃস্টানরাও সাধু খৃস্টানদের ‘সেন্ট’ রূপে পূজা করেন)।

মোটামুটি বলতে গেলে, ‘মহাযানী’ ও ‘হীনযানী’র প্রভেদ হচ্ছে যে যাঁরা বোধিসত্ত্ব ইত্যাদির পূজা করেন আর মহাযানী শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরাই মহাযানী, অন্য বৌদ্ধরা হীনযানী। এই দুই যানেরই আবার বহু শাখা আছে, আর প্রত্যেক শাখারই (বিশেষত মহাযানীদের) অসংখ্য ‘শাস্ত্র’ ও ‘সূত্র’ আছে। (সূত্রগুলি মৌলিক গ্রন্থ আর শাস্ত্রগুলি হচ্ছে ভাষ্য)।

অবশ্য ‘হীনযানীরা’ নিজেদের হীনযানী বলেন না। তাঁদের মতে তাঁরাই প্রকৃত বৌদ্ধ, অপররা ‘আকাশকুসুমবাদী’।

পরিব্রাজকের নামের বানান রোমান অক্ষরে নানাভাবে লেখা
হয়েছে, যথা-
Hiouen Thsang (Julien)
Huen Tsiang (Beal)
Huan Chwang (Mayers)
Yuen Chwang (Wylie)
Hhuen Kisan (Bunyiu Nanjio)
Hsuan Chuang (Giles)
Hsuan Tsang (Grousset)
Hiuen Tsang (V. A. Smith)
Yuan Chwang (Watters ও পরে V. A. Smith)

এ বিভিন্নতার কারণ কতকগুলি। প্রথমত, চীন ভাষায় ভাবাঙ্কন লিপি প্রচলিত থাকায়, একই লেখা ভিন্ন ভিন্নভাবে উচ্চারিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না। en-এর উচ্চারণ আঁ। অতএব ফরাসী ভাষায় লেখা Hiouen-ইউআঁ। তৃতীয়ত, চীন ভাষায় দুই রকম চ আছে; তার একটা রোমান অক্ষরে ts লেখা হয়। বাঙলায় ৎস না বলে সোজাসুজি চ বলাই ভাল। আর রোমান হরফে যা Hs লেখা হয় তার চীন উচ্চারণ ‘শ’ এরই মতন। (এই দুই বিষয়ে আমার প্রমাণ-Lin Yutang-এর My Country and My People Appendix II)1 Grousset লিখিত বানানই এখন চলিত, অর্থাৎ Hsuan Tsang-শৃআন্ চাঙ। কিন্তু এ নামটা আমাদের ইতিহাসে অপ্রচলিত বলে Smithএর Hiuen Tsang-হিউএনচাঙ-ই আমি গ্রহণ করেছি।

পরিচয় জানা থাকলে নামের বানানে কী আসে যায়? শেক্সপীয়ার নিজের নামই তিন চার রকম করে বানান করতেন। কিন্তু ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম এক রকম বানান না করলে, ইতিহাসের বইতে তাঁদের বিষয় খুজে পাওয়া কঠিন হয়।

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)

৮০ ছুঁয়েও থামেননি জোয়ানা লামলি: জীবন, মৃত্যু আর কাজের প্রতি অদম্য ভালোবাসা

হিউএনচাঙ (শেষ পর্ব)

০৯:০০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না।

‘হিউএনচাঙ’ নামের বানান 

পৃথিবীতে প্রথম তিনজনের কাল অতীত হয়েছে। বর্তমান কালের ধ্যানীবুদ্ধ হচ্ছেন অমিতাভ, বোধিসত্ত্ব হচ্ছেন অবলোকিতেশ্বর, মানুষী বুদ্ধ গৌতম। ভবিষ্যৎ কালের ধ্যানীবুদ্ধ হবেন অমোঘসিদ্ধি, বোধিসত্ত্ব বিশ্বপাণি ও মানুষীবুদ্ধ মৈত্রেয়।

এরাই প্রধান। তাছাড়া বহু বোধিসত্ত্ব, স্ত্রীদেবতা (তারা), তার নীচের পদবীর দেবতারা (হেবজ্র, হারিতী, ধর্মপালগণ ইত্যাদি), ক্রমশঃ বৌদ্ধ স্বর্গে স্থান পেয়েছেন। স্বর্গও নানা স্তরের কল্পিত হয়েছে। বৌদ্ধ পণ্ডিত (যথা নাগার্জুন) ও সাধু ব্যক্তিগণ বোধিসত্ত্বরূপে পূজিত হন। (এঁদের দেখাদেখি খৃস্টানরাও সাধু খৃস্টানদের ‘সেন্ট’ রূপে পূজা করেন)।

মোটামুটি বলতে গেলে, ‘মহাযানী’ ও ‘হীনযানী’র প্রভেদ হচ্ছে যে যাঁরা বোধিসত্ত্ব ইত্যাদির পূজা করেন আর মহাযানী শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরাই মহাযানী, অন্য বৌদ্ধরা হীনযানী। এই দুই যানেরই আবার বহু শাখা আছে, আর প্রত্যেক শাখারই (বিশেষত মহাযানীদের) অসংখ্য ‘শাস্ত্র’ ও ‘সূত্র’ আছে। (সূত্রগুলি মৌলিক গ্রন্থ আর শাস্ত্রগুলি হচ্ছে ভাষ্য)।

অবশ্য ‘হীনযানীরা’ নিজেদের হীনযানী বলেন না। তাঁদের মতে তাঁরাই প্রকৃত বৌদ্ধ, অপররা ‘আকাশকুসুমবাদী’।

পরিব্রাজকের নামের বানান রোমান অক্ষরে নানাভাবে লেখা
হয়েছে, যথা-
Hiouen Thsang (Julien)
Huen Tsiang (Beal)
Huan Chwang (Mayers)
Yuen Chwang (Wylie)
Hhuen Kisan (Bunyiu Nanjio)
Hsuan Chuang (Giles)
Hsuan Tsang (Grousset)
Hiuen Tsang (V. A. Smith)
Yuan Chwang (Watters ও পরে V. A. Smith)

এ বিভিন্নতার কারণ কতকগুলি। প্রথমত, চীন ভাষায় ভাবাঙ্কন লিপি প্রচলিত থাকায়, একই লেখা ভিন্ন ভিন্নভাবে উচ্চারিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না। en-এর উচ্চারণ আঁ। অতএব ফরাসী ভাষায় লেখা Hiouen-ইউআঁ। তৃতীয়ত, চীন ভাষায় দুই রকম চ আছে; তার একটা রোমান অক্ষরে ts লেখা হয়। বাঙলায় ৎস না বলে সোজাসুজি চ বলাই ভাল। আর রোমান হরফে যা Hs লেখা হয় তার চীন উচ্চারণ ‘শ’ এরই মতন। (এই দুই বিষয়ে আমার প্রমাণ-Lin Yutang-এর My Country and My People Appendix II)1 Grousset লিখিত বানানই এখন চলিত, অর্থাৎ Hsuan Tsang-শৃআন্ চাঙ। কিন্তু এ নামটা আমাদের ইতিহাসে অপ্রচলিত বলে Smithএর Hiuen Tsang-হিউএনচাঙ-ই আমি গ্রহণ করেছি।

পরিচয় জানা থাকলে নামের বানানে কী আসে যায়? শেক্সপীয়ার নিজের নামই তিন চার রকম করে বানান করতেন। কিন্তু ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম এক রকম বানান না করলে, ইতিহাসের বইতে তাঁদের বিষয় খুজে পাওয়া কঠিন হয়।

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)