০২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রশিক্ষণে তরুণদের চুক্তি আলোচনার দক্ষতা উন্নয়ন  ৭ জুন নিজস্ব সম্পদ রক্ষার স্মারক ও পথ হিসেবে সকলেরই পালন জরুরি  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ উন্মাদনা: স্থায়ী শিল্পবিপ্লব নাকি আরেকটি বাজার-ভ্রম? মতিঝিলে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, সিসিটিভি ফুটেজে খোঁজ চলছে দুর্বৃত্তদের গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সংসদে অভিযোগ রুমিন ফারহানার নতুন ৯ম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন, বেতন-ভাতায় বড় সুবিধা পাবেন চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা শূন্যরেখায় ৪০ ঘণ্টা আটকা ১১ জন, অনিশ্চয়তায় নারী-শিশুসহ পুশইনের শিকার পরিবার লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সাতক্ষীরায়, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার ময়মনসিংহে বেইলি সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ, নদীতে পড়ল বালুবাহী ট্রাক নওগাঁয় জমি বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

হার্ডিঞ্জ সেতু: পদ্মার ওপরে শতবর্ষের রেলঐতিহ্য

হার্ডিঞ্জ সেতু পদ্মা নদীর ওপর পাকশী (পাবনা) ও ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংযোগকারী ঐতিহাসিক রেলসেতু। ১৯১৫ সালে নির্মাণ সম্পন্ন এই সেতু শতবর্ষ পার করে এখনও রেলগমন-আগমনে ব্যবহৃত হয় এবং অঞ্চলের ইতিহাস ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সেতুটির নির্মাণ কাজ বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শুরু হয়ে ১৯১৫ সালে শেষ হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে লর্ড হার্ডিঞ্জের নামে নামকরণ করা এই সেতু তখনকার প্রকৌশল কৌশলের প্রতীক ছিল এবং বহু শ্রমিকের শ্রমে বাস্তবায়িত হয়।


হার্ডিঞ্জ সেতু প্রধানত লোহা ও গার্ডার ভিত্তিক নির্মিত; এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৮ কিলোমিটার। সেতুর পাইয়ার ও স্প্যান নির্মাণশৈলী ব্রিটিশ যুগের প্রকৌশল দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

সেতুটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সরাসরি রেলযোগাযোগ স্থাপন করে কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও যাত্রী পরিবহন দ্রুত ও সহজ করে তুলেছিল। ফলত অঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতি গতি পেয়েছিল।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হার্ডিঞ্জ সেতু কৌশলগত গুরুত্ব রাখত; সেই কালে সেতু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবার কারণে যুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহে এর একটি উল্লেখযোগ্য স্থান আছে। ফলে সেতুটিকে জাতীয় স্মৃতির এক অংশও বলা যায়।


অধিকাংশ রেল চলাচলের প্রয়োজন এখনও মেটায় এই সেতু; যদিও আধুনিক পদ্মা সেতু নির্মাণের পরে অনেক দৃষ্টি সরে গেছে, হার্ডিঞ্জ সেতুর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। পর্যটন ও স্থানীয় ইতিহাসচর্চায় এর ভূমিকা দেখা যায়।

শতবর্ষ পার করে যাওয়া সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পর্যবেক্ষণ জরুরি। পরিকল্পিত সংস্কার ও পর্যটন-বন্ধুত্ব উদ্যোগ সেতুটিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে সাহায্য করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রশিক্ষণে তরুণদের চুক্তি আলোচনার দক্ষতা উন্নয়ন

হার্ডিঞ্জ সেতু: পদ্মার ওপরে শতবর্ষের রেলঐতিহ্য

০৩:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

হার্ডিঞ্জ সেতু পদ্মা নদীর ওপর পাকশী (পাবনা) ও ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংযোগকারী ঐতিহাসিক রেলসেতু। ১৯১৫ সালে নির্মাণ সম্পন্ন এই সেতু শতবর্ষ পার করে এখনও রেলগমন-আগমনে ব্যবহৃত হয় এবং অঞ্চলের ইতিহাস ও অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সেতুটির নির্মাণ কাজ বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শুরু হয়ে ১৯১৫ সালে শেষ হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে লর্ড হার্ডিঞ্জের নামে নামকরণ করা এই সেতু তখনকার প্রকৌশল কৌশলের প্রতীক ছিল এবং বহু শ্রমিকের শ্রমে বাস্তবায়িত হয়।


হার্ডিঞ্জ সেতু প্রধানত লোহা ও গার্ডার ভিত্তিক নির্মিত; এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৮ কিলোমিটার। সেতুর পাইয়ার ও স্প্যান নির্মাণশৈলী ব্রিটিশ যুগের প্রকৌশল দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব

সেতুটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সরাসরি রেলযোগাযোগ স্থাপন করে কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও যাত্রী পরিবহন দ্রুত ও সহজ করে তুলেছিল। ফলত অঞ্চলের বাণিজ্য ও অর্থনীতি গতি পেয়েছিল।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় হার্ডিঞ্জ সেতু কৌশলগত গুরুত্ব রাখত; সেই কালে সেতু নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবার কারণে যুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহে এর একটি উল্লেখযোগ্য স্থান আছে। ফলে সেতুটিকে জাতীয় স্মৃতির এক অংশও বলা যায়।


অধিকাংশ রেল চলাচলের প্রয়োজন এখনও মেটায় এই সেতু; যদিও আধুনিক পদ্মা সেতু নির্মাণের পরে অনেক দৃষ্টি সরে গেছে, হার্ডিঞ্জ সেতুর ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যগত গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে। পর্যটন ও স্থানীয় ইতিহাসচর্চায় এর ভূমিকা দেখা যায়।

শতবর্ষ পার করে যাওয়া সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও পর্যবেক্ষণ জরুরি। পরিকল্পিত সংস্কার ও পর্যটন-বন্ধুত্ব উদ্যোগ সেতুটিকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে সাহায্য করবে।