১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী চীন

  • Sarakhon Report
  • ০৪:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • 135

চীন জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন উভয় দেশের জন্য লাভজনক। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর থেকে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সম্পর্ক উন্নয়নের প্রেক্ষাপট

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৯ আগস্ট এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, “চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন দুই দেশের সাধারণ স্বার্থের বিষয় এবং উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টার ফল।”
তারা আরও জানায়, এখানে কোনো “গোপন কূটনীতি” চলছে না, বরং “স্বাভাবিক যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া” হচ্ছে।

চিঠি নিয়ে বিতর্ক

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে বেইজিং গোপনে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ যাচাই করতে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট শি নাকি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুকে এক চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের চিঠির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

কাজান বৈঠকের গুরুত্ব

চীন জানায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে মোদি-শি বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়ক ছিল। এর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পুনরায় সূচনা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাভাবিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

সীমান্ত সমস্যা ও কূটনৈতিক অগ্রগতি

চীন ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত অচলাবস্থা নিরসনের পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি সাত বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন।
চীন জানিয়েছে, “আমরা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে দেখা যায়।”

মার্কিন শুল্ক নীতি ও নতুন বাস্তবতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ উভয় দেশকেই প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত উভয়েই কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে।

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন

আগস্ট ৩১ থেকে সেপ্টেম্বর ১ পর্যন্ত তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সেখানে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
মোদির আরও একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে।

চীনা গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি

২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, চীন-ভারত সম্পর্কের উষ্ণতা কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে যথার্থ এবং এটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “আজকে চীন ও ভারত এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুটি ইঞ্জিন, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং এসসিও, ব্রিকস ও জি-২০ এর সদস্য। তাদের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য পথে এগিয়ে নেওয়া।”

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট, চীন ও ভারত উভয়েই বৈশ্বিক চাপ ও আঞ্চলিক স্বার্থের কারণে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী চীন

০৪:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

চীন জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন উভয় দেশের জন্য লাভজনক। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর থেকে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সম্পর্ক উন্নয়নের প্রেক্ষাপট

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৯ আগস্ট এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, “চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়ন দুই দেশের সাধারণ স্বার্থের বিষয় এবং উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টার ফল।”
তারা আরও জানায়, এখানে কোনো “গোপন কূটনীতি” চলছে না, বরং “স্বাভাবিক যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া” হচ্ছে।

চিঠি নিয়ে বিতর্ক

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে বেইজিং গোপনে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ যাচাই করতে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট শি নাকি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুকে এক চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের চিঠির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে।

কাজান বৈঠকের গুরুত্ব

চীন জানায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে মোদি-শি বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়ক ছিল। এর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পুনরায় সূচনা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাভাবিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

সীমান্ত সমস্যা ও কূটনৈতিক অগ্রগতি

চীন ও ভারত সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত অচলাবস্থা নিরসনের পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি সাত বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন।
চীন জানিয়েছে, “আমরা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে দেখা যায়।”

মার্কিন শুল্ক নীতি ও নতুন বাস্তবতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ উভয় দেশকেই প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত উভয়েই কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে।

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন

আগস্ট ৩১ থেকে সেপ্টেম্বর ১ পর্যন্ত তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সেখানে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
মোদির আরও একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে।

চীনা গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি

২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, চীন-ভারত সম্পর্কের উষ্ণতা কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে যথার্থ এবং এটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “আজকে চীন ও ভারত এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুটি ইঞ্জিন, গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি এবং এসসিও, ব্রিকস ও জি-২০ এর সদস্য। তাদের দায়িত্ব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য পথে এগিয়ে নেওয়া।”

এই প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট, চীন ও ভারত উভয়েই বৈশ্বিক চাপ ও আঞ্চলিক স্বার্থের কারণে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী হয়েছে।