০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল আজ রাতে পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে – ট্রাম্প

শিক্ষক সমাজের আর্তনাদ: ‘প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হচ্ছে নাগরিকদের’

এক নাজুক সময়ের সাক্ষ্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রোববার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে দাঁড়িয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা শোনালেন দেশের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র। তাঁর কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, হতাশা আর তীব্র প্রতিবাদ। তিনি সরাসরি বললেন, “এর চেয়ে জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি দেখি নাই। প্রতিদিন মানুষকে প্রাণ হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।”

অস্থিরতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ

সামিনা লুৎফার বিশ্লেষণ, দেশের বর্তমান অস্থিরতা কেবল দৈবক্রমে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো সচেতনভাবে আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগাচ্ছে। আর সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ: ভয় আর অনিশ্চয়তা

সমাবেশে শিক্ষক সমাজের উদ্বেগ ভেসে উঠল শিক্ষকদের ওপর অব্যাহত হামলা, চাকরিচ্যুতি, অযৌক্তিক মামলা ও নিপীড়নের প্রসঙ্গে। সামিনা লুৎফা মনে করিয়ে দেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই এখন অস্থিরতাকে আরও পুষ্ট করছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে মব সংস্কৃতির চাষাবাদ

তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভেতরে ছড়িয়ে পড়া মব সংস্কৃতির। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি ‘ভয়ংকর সামাজিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সহকর্মীদের লাঞ্ছনাপ্রশাসনের নীরবতা

ডিআরইউতে অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে লাঞ্ছনার ঘটনাকে টেনে আনেন সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, বরং রাজনৈতিক স্বার্থই প্রাধান্য পাচ্ছে। “আসলেই শিক্ষকের স্বার্থ রক্ষা করবে কে?”—প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের ওপর আঘাত

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত এক বছরে বাউল, মাজার, নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর হামলা হলেও রাষ্ট্র নির্বিকার থেকেছে।

নুরুল হকের ওপর হামলা: প্রতিবাদের ঝড়

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর নির্মম আক্রমণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সামিনা লুৎফা। তাঁর মতে, এর পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।

নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

সবশেষে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা স্বাভাবিক। যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি হবে না।”

শিক্ষক সমাজের কণ্ঠস্বর

সমাবেশে শুধু সামিনা লুৎফা নন, আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা খানম, সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ এবং মোশাহিদা সুলতানা। তাঁদের কণ্ঠেও ছিল একই উদ্বেগ—নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি।

একটি বিপন্ন সময়ের আখ্যান

আজকের এই সমাবেশ ছিল কেবল একটি প্রতিবাদ নয়; এটি ছিল একটি নীরব আর্তনাদ। দেশের শিক্ষকেরা মনে করছেন, আইনের শাসন যদি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে সামনে আরও অন্ধকার সময় অপেক্ষা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা

শিক্ষক সমাজের আর্তনাদ: ‘প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হচ্ছে নাগরিকদের’

০৬:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

এক নাজুক সময়ের সাক্ষ্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে রোববার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশে দাঁড়িয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা শোনালেন দেশের ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র। তাঁর কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ, হতাশা আর তীব্র প্রতিবাদ। তিনি সরাসরি বললেন, “এর চেয়ে জঘন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি দেখি নাই। প্রতিদিন মানুষকে প্রাণ হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।”

অস্থিরতার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ

সামিনা লুৎফার বিশ্লেষণ, দেশের বর্তমান অস্থিরতা কেবল দৈবক্রমে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো সচেতনভাবে আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগাচ্ছে। আর সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

শিক্ষকদের ওপর আক্রমণ: ভয় আর অনিশ্চয়তা

সমাবেশে শিক্ষক সমাজের উদ্বেগ ভেসে উঠল শিক্ষকদের ওপর অব্যাহত হামলা, চাকরিচ্যুতি, অযৌক্তিক মামলা ও নিপীড়নের প্রসঙ্গে। সামিনা লুৎফা মনে করিয়ে দেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই এখন অস্থিরতাকে আরও পুষ্ট করছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ে মব সংস্কৃতির চাষাবাদ

তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভেতরে ছড়িয়ে পড়া মব সংস্কৃতির। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি ‘ভয়ংকর সামাজিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সহকর্মীদের লাঞ্ছনাপ্রশাসনের নীরবতা

ডিআরইউতে অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে লাঞ্ছনার ঘটনাকে টেনে আনেন সামিনা লুৎফা। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, বরং রাজনৈতিক স্বার্থই প্রাধান্য পাচ্ছে। “আসলেই শিক্ষকের স্বার্থ রক্ষা করবে কে?”—প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।

সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের ওপর আঘাত

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত এক বছরে বাউল, মাজার, নারী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর হামলা হলেও রাষ্ট্র নির্বিকার থেকেছে।

নুরুল হকের ওপর হামলা: প্রতিবাদের ঝড়

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর নির্মম আক্রমণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সামিনা লুৎফা। তাঁর মতে, এর পরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই।

নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

সবশেষে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা স্বাভাবিক। যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি হবে না।”

শিক্ষক সমাজের কণ্ঠস্বর

সমাবেশে শুধু সামিনা লুৎফা নন, আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা খানম, সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ এবং মোশাহিদা সুলতানা। তাঁদের কণ্ঠেও ছিল একই উদ্বেগ—নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি।

একটি বিপন্ন সময়ের আখ্যান

আজকের এই সমাবেশ ছিল কেবল একটি প্রতিবাদ নয়; এটি ছিল একটি নীরব আর্তনাদ। দেশের শিক্ষকেরা মনে করছেন, আইনের শাসন যদি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে সামনে আরও অন্ধকার সময় অপেক্ষা করছে।