০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য রবিন হুডের অন্ধকার অধ্যায়: কিংবদন্তিকে নতুনভাবে দেখাল ‘দ্য ডেথ অব রবিন হুড’ প্লেভের সাফল্যে উজ্জীবিত দক্ষিণ কোরিয়ার ভার্চুয়াল আইডল বাজার, একের পর এক নতুন গ্রুপের আত্মপ্রকাশ গাজীপুরের টঙ্গীতে মবিল রিসাইক্লিং কারখানায় আগুন, দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে সাইবার হামলা কি যুদ্ধের সমান? আন্তর্জাতিক আইনের নতুন সীমারেখা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-১৬)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 132

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

মাত্র সাইত্রিশ আটত্রিশ বছর পূর্বে (১৯০০ সালে) “আট-জাতির সেনাবাহিনী’র সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রাজকীয় জাপানের পাশাপাশি নির্ভয়ে যুদ্ধ করেছে, কিন্তু চীনে জাপানী বাহিনীর দুর্ধর্ষ অনমনীয় অগ্রগতি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে আতঙ্কিত করে তোলে। জাপান কি ব্রিটিশ উপনিবেশের রত্ন ভারতবর্ষসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোকে গ্রাস করে নেবে না?

এই ভীতি ও আতঙ্ক এবং এককভাবে সাম্রাজ্য সংরক্ষণের সামর্থ্যহীনতায় পীড়িত ব্রিটিশদের মূল স্বার্থ ছিল জাপানিদের দখল প্রয়াসকে নিবৃত্ত করা। অপরদিকে, আমেরিকানদের স্বার্থ ছিল- জাপানের বিশাল সেনাবাহিনীকে চীনে যুদ্ধরত রাখা, যাতে তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য ফ্রন্টে তাদের বিশাল সেনাবাহিনী ‘ডিপ্লয়’ করে ব্যবহার করতে না পারে।

আবার, ব্রিটিশদের আরেকটি বাড়তি উদ্বেগ দুশ্চিন্তার কারণ ছিল যে “লেন্ডলীজ”-য়ের মাধ্যমে চীনকে প্রদত্ত মার্কিন সামরিক সাপ্লাই চীনকে এমন শক্তিশালী দেশে পরিণত করবে যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ-স্বার্থ তুলাধুনো হবে।

ফলে, মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, চীন-পলিসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতানৈক্য এই অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের দুই সেনাবাহিনীর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়।

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে, ব্রিটিশ ভারতের নয়াদিল্লীতে একটি হেড-কোয়ার্টার এবং চীনের চুংকিন-য়ে (১৯৩৭ সাল থেকে চিয়াং কাইশেকের জাতীয়তাবাদী সরকারের যুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাজধানীতে) দ্বিতীয় হেড-কোয়ার্টার স্থাপনের মাধ্যমে চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটার আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অর্থাৎ সিবিআই থিয়েটারে অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের প্রবেশ ঘটে।

১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আর্নল্ড প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে জানান যে অত্যন্ত বিপর্যয়সফুস্কুল এবং পরিমাণের বিবেচনায় কম হলেও ব্রিটিশ ভারত থেকে হিমালয় পর্বতমালা টপকে চীনে দরকারি সাপ্লাই প্রেরণের ‘রুট’ ব্যবহার করা সম্ভব।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়, চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটারের অপরিহার্য্য অংশ হিসেবে আমেরিকান বিমান-ক্রুরা ঢাকা থেকে, হিমালয় পর্বতমালা বা হাম্প টপকে চীনে অবস্থিত ১৪তম বিমান বহরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাতে সাপ্লাই দিয়ে আসতেন এবং একই পথে, দুর্গম মহাবিপজ্জনক হাম্প টপকে ঢাকার কুর্মিটোলা, তেজগাঁও ঘাঁটিতে ফিরে আসতেন।

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-১৬)

০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

মাত্র সাইত্রিশ আটত্রিশ বছর পূর্বে (১৯০০ সালে) “আট-জাতির সেনাবাহিনী’র সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রাজকীয় জাপানের পাশাপাশি নির্ভয়ে যুদ্ধ করেছে, কিন্তু চীনে জাপানী বাহিনীর দুর্ধর্ষ অনমনীয় অগ্রগতি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে আতঙ্কিত করে তোলে। জাপান কি ব্রিটিশ উপনিবেশের রত্ন ভারতবর্ষসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোকে গ্রাস করে নেবে না?

এই ভীতি ও আতঙ্ক এবং এককভাবে সাম্রাজ্য সংরক্ষণের সামর্থ্যহীনতায় পীড়িত ব্রিটিশদের মূল স্বার্থ ছিল জাপানিদের দখল প্রয়াসকে নিবৃত্ত করা। অপরদিকে, আমেরিকানদের স্বার্থ ছিল- জাপানের বিশাল সেনাবাহিনীকে চীনে যুদ্ধরত রাখা, যাতে তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য ফ্রন্টে তাদের বিশাল সেনাবাহিনী ‘ডিপ্লয়’ করে ব্যবহার করতে না পারে।

আবার, ব্রিটিশদের আরেকটি বাড়তি উদ্বেগ দুশ্চিন্তার কারণ ছিল যে “লেন্ডলীজ”-য়ের মাধ্যমে চীনকে প্রদত্ত মার্কিন সামরিক সাপ্লাই চীনকে এমন শক্তিশালী দেশে পরিণত করবে যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ-স্বার্থ তুলাধুনো হবে।

ফলে, মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, চীন-পলিসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতানৈক্য এই অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের দুই সেনাবাহিনীর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়।

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে, ব্রিটিশ ভারতের নয়াদিল্লীতে একটি হেড-কোয়ার্টার এবং চীনের চুংকিন-য়ে (১৯৩৭ সাল থেকে চিয়াং কাইশেকের জাতীয়তাবাদী সরকারের যুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাজধানীতে) দ্বিতীয় হেড-কোয়ার্টার স্থাপনের মাধ্যমে চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটার আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অর্থাৎ সিবিআই থিয়েটারে অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের প্রবেশ ঘটে।

১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আর্নল্ড প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে জানান যে অত্যন্ত বিপর্যয়সফুস্কুল এবং পরিমাণের বিবেচনায় কম হলেও ব্রিটিশ ভারত থেকে হিমালয় পর্বতমালা টপকে চীনে দরকারি সাপ্লাই প্রেরণের ‘রুট’ ব্যবহার করা সম্ভব।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়, চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটারের অপরিহার্য্য অংশ হিসেবে আমেরিকান বিমান-ক্রুরা ঢাকা থেকে, হিমালয় পর্বতমালা বা হাম্প টপকে চীনে অবস্থিত ১৪তম বিমান বহরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাতে সাপ্লাই দিয়ে আসতেন এবং একই পথে, দুর্গম মহাবিপজ্জনক হাম্প টপকে ঢাকার কুর্মিটোলা, তেজগাঁও ঘাঁটিতে ফিরে আসতেন।

(চলবে)