০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার? বিদেশি ঋণ বড় চ্যালেঞ্জ, নতুন সরকারের সতর্ক পদক্ষেপ অপরিহার্য: দেবাপ্রিয় মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-১৬)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 99

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

মাত্র সাইত্রিশ আটত্রিশ বছর পূর্বে (১৯০০ সালে) “আট-জাতির সেনাবাহিনী’র সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রাজকীয় জাপানের পাশাপাশি নির্ভয়ে যুদ্ধ করেছে, কিন্তু চীনে জাপানী বাহিনীর দুর্ধর্ষ অনমনীয় অগ্রগতি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে আতঙ্কিত করে তোলে। জাপান কি ব্রিটিশ উপনিবেশের রত্ন ভারতবর্ষসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোকে গ্রাস করে নেবে না?

এই ভীতি ও আতঙ্ক এবং এককভাবে সাম্রাজ্য সংরক্ষণের সামর্থ্যহীনতায় পীড়িত ব্রিটিশদের মূল স্বার্থ ছিল জাপানিদের দখল প্রয়াসকে নিবৃত্ত করা। অপরদিকে, আমেরিকানদের স্বার্থ ছিল- জাপানের বিশাল সেনাবাহিনীকে চীনে যুদ্ধরত রাখা, যাতে তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য ফ্রন্টে তাদের বিশাল সেনাবাহিনী ‘ডিপ্লয়’ করে ব্যবহার করতে না পারে।

আবার, ব্রিটিশদের আরেকটি বাড়তি উদ্বেগ দুশ্চিন্তার কারণ ছিল যে “লেন্ডলীজ”-য়ের মাধ্যমে চীনকে প্রদত্ত মার্কিন সামরিক সাপ্লাই চীনকে এমন শক্তিশালী দেশে পরিণত করবে যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ-স্বার্থ তুলাধুনো হবে।

ফলে, মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, চীন-পলিসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতানৈক্য এই অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের দুই সেনাবাহিনীর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়।

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে, ব্রিটিশ ভারতের নয়াদিল্লীতে একটি হেড-কোয়ার্টার এবং চীনের চুংকিন-য়ে (১৯৩৭ সাল থেকে চিয়াং কাইশেকের জাতীয়তাবাদী সরকারের যুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাজধানীতে) দ্বিতীয় হেড-কোয়ার্টার স্থাপনের মাধ্যমে চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটার আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অর্থাৎ সিবিআই থিয়েটারে অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের প্রবেশ ঘটে।

১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আর্নল্ড প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে জানান যে অত্যন্ত বিপর্যয়সফুস্কুল এবং পরিমাণের বিবেচনায় কম হলেও ব্রিটিশ ভারত থেকে হিমালয় পর্বতমালা টপকে চীনে দরকারি সাপ্লাই প্রেরণের ‘রুট’ ব্যবহার করা সম্ভব।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়, চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটারের অপরিহার্য্য অংশ হিসেবে আমেরিকান বিমান-ক্রুরা ঢাকা থেকে, হিমালয় পর্বতমালা বা হাম্প টপকে চীনে অবস্থিত ১৪তম বিমান বহরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাতে সাপ্লাই দিয়ে আসতেন এবং একই পথে, দুর্গম মহাবিপজ্জনক হাম্প টপকে ঢাকার কুর্মিটোলা, তেজগাঁও ঘাঁটিতে ফিরে আসতেন।

(চলবে)

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-১৬)

০৯:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

মাত্র সাইত্রিশ আটত্রিশ বছর পূর্বে (১৯০০ সালে) “আট-জাতির সেনাবাহিনী’র সদস্য হিসেবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রাজকীয় জাপানের পাশাপাশি নির্ভয়ে যুদ্ধ করেছে, কিন্তু চীনে জাপানী বাহিনীর দুর্ধর্ষ অনমনীয় অগ্রগতি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে আতঙ্কিত করে তোলে। জাপান কি ব্রিটিশ উপনিবেশের রত্ন ভারতবর্ষসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোকে গ্রাস করে নেবে না?

এই ভীতি ও আতঙ্ক এবং এককভাবে সাম্রাজ্য সংরক্ষণের সামর্থ্যহীনতায় পীড়িত ব্রিটিশদের মূল স্বার্থ ছিল জাপানিদের দখল প্রয়াসকে নিবৃত্ত করা। অপরদিকে, আমেরিকানদের স্বার্থ ছিল- জাপানের বিশাল সেনাবাহিনীকে চীনে যুদ্ধরত রাখা, যাতে তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্যান্য ফ্রন্টে তাদের বিশাল সেনাবাহিনী ‘ডিপ্লয়’ করে ব্যবহার করতে না পারে।

আবার, ব্রিটিশদের আরেকটি বাড়তি উদ্বেগ দুশ্চিন্তার কারণ ছিল যে “লেন্ডলীজ”-য়ের মাধ্যমে চীনকে প্রদত্ত মার্কিন সামরিক সাপ্লাই চীনকে এমন শক্তিশালী দেশে পরিণত করবে যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার উপনিবেশগুলোতে ব্রিটিশ-স্বার্থ তুলাধুনো হবে।

ফলে, মহাযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, চীন-পলিসিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতানৈক্য এই অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের দুই সেনাবাহিনীর পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় প্রতিফলিত হয়।

১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে, ব্রিটিশ ভারতের নয়াদিল্লীতে একটি হেড-কোয়ার্টার এবং চীনের চুংকিন-য়ে (১৯৩৭ সাল থেকে চিয়াং কাইশেকের জাতীয়তাবাদী সরকারের যুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাজধানীতে) দ্বিতীয় হেড-কোয়ার্টার স্থাপনের মাধ্যমে চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটার আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসের নয় তারিখে চিয়াং কাইশেকের চুংকিং ‘জাতীয়তাবাদী সরকার’ জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অর্থাৎ সিবিআই থিয়েটারে অ্যাংলো-আমেরিকান জোটের প্রবেশ ঘটে।

১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন বিমান বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল আর্নল্ড প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে জানান যে অত্যন্ত বিপর্যয়সফুস্কুল এবং পরিমাণের বিবেচনায় কম হলেও ব্রিটিশ ভারত থেকে হিমালয় পর্বতমালা টপকে চীনে দরকারি সাপ্লাই প্রেরণের ‘রুট’ ব্যবহার করা সম্ভব।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়, চীন-বার্মা-ইন্ডিয়া থিয়েটারের অপরিহার্য্য অংশ হিসেবে আমেরিকান বিমান-ক্রুরা ঢাকা থেকে, হিমালয় পর্বতমালা বা হাম্প টপকে চীনে অবস্থিত ১৪তম বিমান বহরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাতে সাপ্লাই দিয়ে আসতেন এবং একই পথে, দুর্গম মহাবিপজ্জনক হাম্প টপকে ঢাকার কুর্মিটোলা, তেজগাঁও ঘাঁটিতে ফিরে আসতেন।

(চলবে)