০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-১৭)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 91

সাম্প্রদায়িক কোনো ভাব তাঁর মনে ছিল না। মুসলমান ছেলেদের কাছে আসতে তিনি কোনো দ্বিধা করতেন না।

সরদার ফজলুল করিম ও আনাতোল র‍্যাপাপোর্ট

২০০৪ সালে প্রফেসর সরদার ফজলুল করিমের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাত ঘট। আলাপ আলোচনার সময় বললেন। “হ্যাঁ হ্যাঁ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় টাকায় মার্কিন সেনাদের ছাউনি ছিল”। “সেনাদের মধ্যে অসাধারণ এক সৈনিকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়- তাঁর নাম ছিল আনাতোল র‍্যাপাপোর্ট। সেসময়ে আমি ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। একদিন আনাতোল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসে হাজির। আমরা কয়েকজন বন্ধু ক্যাম্পাসের ভেতরে ইতঃস্তত ঘুরছিলাম। ব্যাপাপোর্ট সরাসরি আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের বোস-তে খুঁজছি, কোথায় পাবো ওনাকে?”

আনাতোল র‍্যাপাপোর্ট

উৎস: র‍্যাপাপোর্টের “Certainties and Doubts” গ্রন্থ থেকে নেয়া।

প্রফেসর করিম আত্মজীবনীতে গল্পটি বলেন এভাবে: “একবার অধ্যাপক র‍্যাপাপোর্ট এসে আমাদের বললেন, ‘হোয়েরার ইজ ইয়োর বোস?’ বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের নাম তিনি শুনেছেন। কতখানি শুনেছেন আমি জানি না। কিন্তু তিনি এসে অধ্যাপক বোসের খোঁজ করলেন এবং জানালেন যে বোসের সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান। আমরা তাঁকে নিয়ে গেলাম অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছে।

তিনি তখন বসতেন কার্জন হলের পশ্চিম সাইডের একটা ঘরে। ঘরটা এখনো আছে। সত্যেন বোস রোমান্টিক ক্যারেক্টারের ছিলেন। চেহারাটাই তাঁর রোমান্টিক ছিল। দিন দুনিয়া বোঝেন না তিনি। সাম্প্রদায়িক কোনো ভাব তাঁর মনে ছিল না। মুসলমান ছেলেদের কাছে আসতে তিনি কোনো দ্বিধা করতেন না।

ছেলেরা বলতো, অন্য কেউ কম্যুনাল হতে পারে, সত্যেন বোস কিছুতেই কম্যুনাল হতে পারেন না। কাজী মোতাহার হোসেন লিখেছেন, তাঁর লেখা পড়ে সত্যেন বোস সবাইকে ডেকে বলেছিলেন, ‘দেখো, দেখো, আমার ছেলে এ রকম বাংলা লিখেছে। তোমরা কেউ কি এ রকম বাংলা লিখতে পারো?’ তখন তিনি কলকাতায় খয়রা প্রফেসর।

(চলবে)

 

 

 

মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-১৭)

০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাম্প্রদায়িক কোনো ভাব তাঁর মনে ছিল না। মুসলমান ছেলেদের কাছে আসতে তিনি কোনো দ্বিধা করতেন না।

সরদার ফজলুল করিম ও আনাতোল র‍্যাপাপোর্ট

২০০৪ সালে প্রফেসর সরদার ফজলুল করিমের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাত ঘট। আলাপ আলোচনার সময় বললেন। “হ্যাঁ হ্যাঁ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় টাকায় মার্কিন সেনাদের ছাউনি ছিল”। “সেনাদের মধ্যে অসাধারণ এক সৈনিকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়- তাঁর নাম ছিল আনাতোল র‍্যাপাপোর্ট। সেসময়ে আমি ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। একদিন আনাতোল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসে হাজির। আমরা কয়েকজন বন্ধু ক্যাম্পাসের ভেতরে ইতঃস্তত ঘুরছিলাম। ব্যাপাপোর্ট সরাসরি আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের বোস-তে খুঁজছি, কোথায় পাবো ওনাকে?”

আনাতোল র‍্যাপাপোর্ট

উৎস: র‍্যাপাপোর্টের “Certainties and Doubts” গ্রন্থ থেকে নেয়া।

প্রফেসর করিম আত্মজীবনীতে গল্পটি বলেন এভাবে: “একবার অধ্যাপক র‍্যাপাপোর্ট এসে আমাদের বললেন, ‘হোয়েরার ইজ ইয়োর বোস?’ বিজ্ঞানী সত্যেন বোসের নাম তিনি শুনেছেন। কতখানি শুনেছেন আমি জানি না। কিন্তু তিনি এসে অধ্যাপক বোসের খোঁজ করলেন এবং জানালেন যে বোসের সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান। আমরা তাঁকে নিয়ে গেলাম অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাছে।

তিনি তখন বসতেন কার্জন হলের পশ্চিম সাইডের একটা ঘরে। ঘরটা এখনো আছে। সত্যেন বোস রোমান্টিক ক্যারেক্টারের ছিলেন। চেহারাটাই তাঁর রোমান্টিক ছিল। দিন দুনিয়া বোঝেন না তিনি। সাম্প্রদায়িক কোনো ভাব তাঁর মনে ছিল না। মুসলমান ছেলেদের কাছে আসতে তিনি কোনো দ্বিধা করতেন না।

ছেলেরা বলতো, অন্য কেউ কম্যুনাল হতে পারে, সত্যেন বোস কিছুতেই কম্যুনাল হতে পারেন না। কাজী মোতাহার হোসেন লিখেছেন, তাঁর লেখা পড়ে সত্যেন বোস সবাইকে ডেকে বলেছিলেন, ‘দেখো, দেখো, আমার ছেলে এ রকম বাংলা লিখেছে। তোমরা কেউ কি এ রকম বাংলা লিখতে পারো?’ তখন তিনি কলকাতায় খয়রা প্রফেসর।

(চলবে)