১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার সহায়তা প্রাপ্ত মৃত্যুর পথে আমেরিকার বড় মোড়, এক তৃতীয়াংশ মানুষের সামনে নতুন আইন ইরানের ক্ষমতার কাঠামো ভাঙার প্রশ্নে নতুন সমীকরণ, পরিবর্তনের পথে গণভোটের আহ্বান নতুন একক গানে আরও ব্যক্তিগত পথে নিক জোনাস চিকিৎসার খোঁজে চীনে বিদেশিদের ঢল, কম খরচে দ্রুত সেবায় বাড়ছে মেডিকেল পর্যটন বিজ্ঞান বাজেটে কংগ্রেসের প্রতিরোধ, ট্রাম্পের কাটছাঁট পরিকল্পনায় ধাক্কা কলম্বিয়ার সাবেক সেনাদের বিদেশযুদ্ধে টান, ঝুঁকি বাড়াচ্ছে অস্থির ভবিষ্যৎ চীনের পুনর্ব্যবহারযোগ্য ‘শেনলং’ মহাকাশযানের চতুর্থ মিশন কক্ষপথে মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ সদস্য নিহত ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, জানিয়েছে সেনাবাহিনী

গাজা শহরে আশ্রয়ের অভাবে মানুষ: বোমার ঝুঁকিতে সবাই

সারসংক্ষেপ

  • মাওয়াসি ও অন্যান্য শরণার্থী শিবিরে ভিড় এবং সংকট চরমে পৌঁছেছে।
  • আশ্রয়,খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে অনেকে আবার গাজা শহরে ফিরছে।
  • ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহন ও জ্বালানির ঘাটতিতে চলাচল ব্যয়বহুল ও কষ্টকর।
  • ইসরায়েল ঘোষিত নিরাপদ জোনেও হামলা অব্যাহত,হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে।

আশ্রয় সংকটে হতাশ মানুষ

গাজার উপকূলীয় শিবিরগুলোতে ভিড় ও দুর্দশা এতটাই বেড়েছে যে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আবার গাজা শহরে ফিরছে, যদিও সেখানে প্রতিদিনই চলছে বোমা হামলা। বেশিরভাগ মানুষ মাওয়াসি বা গাজা শহরের পশ্চিম উপকূলে আশ্রয় খুঁজতে গেলেও পাচ্ছে না তাঁবু, পানি বা চিকিৎসার মতো মৌলিক সুবিধা।

মোহাম্মদ আল-শরিফ, যিনি পরিবার নিয়ে সাবরা এলাকা থেকে পালিয়েছিলেন, বলেন:
“দুই দিন ধরে জায়গা খুঁজে পাইনি। শেষমেশ সব মালপত্র নিয়ে আবার গাজা শহরে ফিরতে হলো।”

যাতায়াতের দুর্ভোগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় চলাচল ধীর ও ব্যয়বহুল। অধিকাংশ গাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তেলও নেই। ফলে অনেকেই গাধার গাড়িতে মালপত্র বোঝাই করে দক্ষিণের দিকে যাচ্ছেন। কিন্তু ভিড়ের কারণে আশ্রয় মিলছে না, অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন বিপদের মুখে।

স্যাটেলাইট ছবির প্রমাণ

রয়টার্স বিশ্লেষিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, মাওয়াসি আগেই ঘনবসতিপূর্ণ ছিল। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিবিরের সংখ্যা আরও বেড়েছে। কৃষিজমি প্রায় হারিয়ে যাওয়ায় খাদ্যাভাবও তীব্র হয়েছে।

ইসরায়েলের অভিযান ও বাস্তুচ্যুতি

আগস্টের শেষ দিকে ইসরায়েল গাজা শহরে নতুন অভিযান শুরু করে, দাবি করে যে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য এ পদক্ষেপ। শহর খালি করে মাওয়াসিতে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এখনও শহর ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে কয়েক দিনে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ দক্ষিণে পালিয়েছে।

জাতিসংঘের সমালোচনা

জাতিসংঘ বলছে, মাওয়াসিকে মানবিক অঞ্চল বলা হলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত সুরক্ষা বা সেবা নেই। তবে ইসরায়েলি সেনা মুখপাত্র নাদাভ শোশানি দাবি করেন, সেখানে তাঁবু, পানি, খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে এবং আরও সরবরাহ করা হবে।

শিবিরে উত্তেজনা

মাওয়াসিতে ভিড় এতটাই বেড়েছে যে নতুন আসা মানুষদের জায়গা নিয়ে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। আবু ফাদি আবু উদা বলেন, “এখানে আর জায়গা নেই, মানুষ একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছে।”

খরচের চাপ

দক্ষিণে আশ্রয় নেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না, কারণ সেখানে যেতে ভাড়া লাগে ৬০০–৭০০ ডলার এবং একটি নতুন তাঁবুর দাম ১,০০০–১,২০০ ডলার। অধিকাংশ মানুষের পক্ষে এ ব্যয় বহন অসম্ভব। ফলে তারা হয় গাজা শহরে ফিরে যাচ্ছে, নয়তো শুধুমাত্র বহনযোগ্য কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।

মানবিক সংকট

ইউনিসেফ জানিয়েছে, মাওয়াসিতে জায়গার অভাব এতই ভয়াবহ যে অনেকেই রাস্তার পাশে তাঁবু ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। পানি ও মৌলিক সেবার অভাব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।

বাস্তুচ্যুত রায়েদা আল-ফার বলেন, “আমাকে পাঁচবার স্থানান্তরিত হতে হয়েছে। এখন আবর্জনার স্তূপের পাশে বসবাস করছি, যেখানে রাতে কুকুর ঘুরে বেড়ায়। যুদ্ধ বন্ধ করুন, আর সহ্য করতে পারছি না।”

গাজার মানুষদের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ—শহরের বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নিয়ে ফেরা অথবা দক্ষিণে ভিড়াক্রান্ত, অসহনীয় শিবিরে থাকা। দুই পথই তাদের নিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চিত জীবন ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রের মুখোশে সাংবাদিক দমন, বাড়ছে দুর্নীতির অন্ধকার

গাজা শহরে আশ্রয়ের অভাবে মানুষ: বোমার ঝুঁকিতে সবাই

০৬:২৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সারসংক্ষেপ

  • মাওয়াসি ও অন্যান্য শরণার্থী শিবিরে ভিড় এবং সংকট চরমে পৌঁছেছে।
  • আশ্রয়,খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে অনেকে আবার গাজা শহরে ফিরছে।
  • ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহন ও জ্বালানির ঘাটতিতে চলাচল ব্যয়বহুল ও কষ্টকর।
  • ইসরায়েল ঘোষিত নিরাপদ জোনেও হামলা অব্যাহত,হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে।

আশ্রয় সংকটে হতাশ মানুষ

গাজার উপকূলীয় শিবিরগুলোতে ভিড় ও দুর্দশা এতটাই বেড়েছে যে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আবার গাজা শহরে ফিরছে, যদিও সেখানে প্রতিদিনই চলছে বোমা হামলা। বেশিরভাগ মানুষ মাওয়াসি বা গাজা শহরের পশ্চিম উপকূলে আশ্রয় খুঁজতে গেলেও পাচ্ছে না তাঁবু, পানি বা চিকিৎসার মতো মৌলিক সুবিধা।

মোহাম্মদ আল-শরিফ, যিনি পরিবার নিয়ে সাবরা এলাকা থেকে পালিয়েছিলেন, বলেন:
“দুই দিন ধরে জায়গা খুঁজে পাইনি। শেষমেশ সব মালপত্র নিয়ে আবার গাজা শহরে ফিরতে হলো।”

যাতায়াতের দুর্ভোগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় চলাচল ধীর ও ব্যয়বহুল। অধিকাংশ গাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তেলও নেই। ফলে অনেকেই গাধার গাড়িতে মালপত্র বোঝাই করে দক্ষিণের দিকে যাচ্ছেন। কিন্তু ভিড়ের কারণে আশ্রয় মিলছে না, অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন বিপদের মুখে।

স্যাটেলাইট ছবির প্রমাণ

রয়টার্স বিশ্লেষিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, মাওয়াসি আগেই ঘনবসতিপূর্ণ ছিল। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিবিরের সংখ্যা আরও বেড়েছে। কৃষিজমি প্রায় হারিয়ে যাওয়ায় খাদ্যাভাবও তীব্র হয়েছে।

ইসরায়েলের অভিযান ও বাস্তুচ্যুতি

আগস্টের শেষ দিকে ইসরায়েল গাজা শহরে নতুন অভিযান শুরু করে, দাবি করে যে হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য এ পদক্ষেপ। শহর খালি করে মাওয়াসিতে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এখনও শহর ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে কয়েক দিনে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ দক্ষিণে পালিয়েছে।

জাতিসংঘের সমালোচনা

জাতিসংঘ বলছে, মাওয়াসিকে মানবিক অঞ্চল বলা হলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত সুরক্ষা বা সেবা নেই। তবে ইসরায়েলি সেনা মুখপাত্র নাদাভ শোশানি দাবি করেন, সেখানে তাঁবু, পানি, খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে এবং আরও সরবরাহ করা হবে।

শিবিরে উত্তেজনা

মাওয়াসিতে ভিড় এতটাই বেড়েছে যে নতুন আসা মানুষদের জায়গা নিয়ে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। আবু ফাদি আবু উদা বলেন, “এখানে আর জায়গা নেই, মানুষ একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছে।”

খরচের চাপ

দক্ষিণে আশ্রয় নেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না, কারণ সেখানে যেতে ভাড়া লাগে ৬০০–৭০০ ডলার এবং একটি নতুন তাঁবুর দাম ১,০০০–১,২০০ ডলার। অধিকাংশ মানুষের পক্ষে এ ব্যয় বহন অসম্ভব। ফলে তারা হয় গাজা শহরে ফিরে যাচ্ছে, নয়তো শুধুমাত্র বহনযোগ্য কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।

মানবিক সংকট

ইউনিসেফ জানিয়েছে, মাওয়াসিতে জায়গার অভাব এতই ভয়াবহ যে অনেকেই রাস্তার পাশে তাঁবু ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। পানি ও মৌলিক সেবার অভাব পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।

বাস্তুচ্যুত রায়েদা আল-ফার বলেন, “আমাকে পাঁচবার স্থানান্তরিত হতে হয়েছে। এখন আবর্জনার স্তূপের পাশে বসবাস করছি, যেখানে রাতে কুকুর ঘুরে বেড়ায়। যুদ্ধ বন্ধ করুন, আর সহ্য করতে পারছি না।”

গাজার মানুষদের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ—শহরের বোমাবর্ষণের ঝুঁকি নিয়ে ফেরা অথবা দক্ষিণে ভিড়াক্রান্ত, অসহনীয় শিবিরে থাকা। দুই পথই তাদের নিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চিত জীবন ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে।