০১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৩৬)

ক্রমে ক্রমে সমস্ত দেশ মহাশ্মশানের। ভ্যায় হইয়া দাঁড়াইল। যাহারা অবশিষ্ট রহিল, তাহাদের নিকট হইতে সমস্ত টাকা আদায়ের চেষ্টা হইতে লাগিল। এই সময়ে রঙ্গপুর অঞ্চলে কতকগুলি রাক্ষসপ্রকৃতির কুসীদজীৰী বাস করিতেছিল। মহাকবি সেক্ষপীয়রের বর্ণিত শাইলকও তাহাদের সমকক্ষ ছিল না। কৃষিজীবিগণ অসহনীয় কষ্টে পতিত হইয়া, তাহাদের নিকট আপনাদের জমাজমি আবদ্ধ রাখিতে বাধ্য হইয়া, যাহা কিছু অর্থ পাইল, তদ্দ্বারা দেবীসিংহের করপরিশোধের জন্য চেষ্টা করিতে লাগিল।

এ দিকে তাহাদের ঋণ দিন দিন বন্যাস্রোতের ন্যায় বৃদ্ধি পাইয়া তাহা-দিগকে চিরদিনের মত ভাসাইবার উপক্রম করিল। শুনিলে হৃৎকম্প উপস্থিত হয় যে, সেই সমস্ত কুসীদজীবী বিপন্ন কৃষকদিগের নিকট হইতে শতকরা বার্ষিক ছয় শত টাকা সুদ আদায় করিতে চেষ্টা পাইয়াছিল!! একদিকে দেবীসিংহের, অন্যদিকে কুসীদজীবিগণের ভীষণ অত্যা-চারে সেই নিরীহ প্রজাগণ প্রতিনিয়ত উর্দ্ধমুখে ভগবানকে আহ্বান করিত; কিন্তু জানি না, কি কারণে তাঁহারও করুণাকণা তাহাদের উপর নিপতিত হয় নাই।

তাহাদের কঠোর-পরিশ্রমোৎপাদিত শস্যরাশি বল-পূর্ব্বক বাজারে লইয়া এক চতুর্থাংশেরও কম মূল্যে বিক্রীত হইতে লাগিল! হতভাগ্যগণের সংবৎসরের আহার্য্য সম্পত্তি অপহৃত হইল, অথচ তাহাদের ঋণপরিশোধের বিশেষ কোন সুবিধাও হইল না!! অবশেষে তাহাদের লাঙ্গল, বলদ, মই, বিদা প্রভৃতি বিক্রয় করিতে আরম্ভ করা হয়। এই-রূপে তাহাদিগের ভবিষ্যৎ শন্তোৎপাদনের পথও একেবারে নিরুদ্ধ হইল। তাহার পর, তাহাদিগের জীর্ণ পর্ণকুটীর লুণ্ঠন করিয়া, দেবীসিংহের অনুচর-গণ সেই সকল কুচীর অগ্নিমুখে সমর্পণ করিয়া চলিয়া যায়।

দরিদ্রের দীর্ঘশ্বাসের সহিত সেই অগ্নিশিখা চতুদ্দিকে পরিব্যাপ্ত হইয়া পড়িল। এতদিন যাহারা শত কষ্ট স্বীকার করিয়াও আপনাদের আশ্রয়স্থান পরি-ত্যাগ করে নাই, এক্ষণে তাহারা বাধ্য হইয়া বন্যপশুর জ্ঞায় বনে বনে ভ্রমণ করিতে লাগিল! ইহাতেও নিস্তার নাই, তাহার উপরও আবার অত্যাচারের স্রোত চলিল! অনাহারে রঙ্গপুরবাসী প্রজাগণের মধ্যে ঘোর কষ্ট দেখা দিল; পিতা পুত্রকে বিক্রয় করিতে বাধ্য হইল, স্বামী স্ত্রীকে চিরবিসর্জন দিল। এইরূপে প্রত্যেক গৃহস্থসংসার হাহাকার ধ্বনিতে পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল।

 

মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৩৬)

১১:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ক্রমে ক্রমে সমস্ত দেশ মহাশ্মশানের। ভ্যায় হইয়া দাঁড়াইল। যাহারা অবশিষ্ট রহিল, তাহাদের নিকট হইতে সমস্ত টাকা আদায়ের চেষ্টা হইতে লাগিল। এই সময়ে রঙ্গপুর অঞ্চলে কতকগুলি রাক্ষসপ্রকৃতির কুসীদজীৰী বাস করিতেছিল। মহাকবি সেক্ষপীয়রের বর্ণিত শাইলকও তাহাদের সমকক্ষ ছিল না। কৃষিজীবিগণ অসহনীয় কষ্টে পতিত হইয়া, তাহাদের নিকট আপনাদের জমাজমি আবদ্ধ রাখিতে বাধ্য হইয়া, যাহা কিছু অর্থ পাইল, তদ্দ্বারা দেবীসিংহের করপরিশোধের জন্য চেষ্টা করিতে লাগিল।

এ দিকে তাহাদের ঋণ দিন দিন বন্যাস্রোতের ন্যায় বৃদ্ধি পাইয়া তাহা-দিগকে চিরদিনের মত ভাসাইবার উপক্রম করিল। শুনিলে হৃৎকম্প উপস্থিত হয় যে, সেই সমস্ত কুসীদজীবী বিপন্ন কৃষকদিগের নিকট হইতে শতকরা বার্ষিক ছয় শত টাকা সুদ আদায় করিতে চেষ্টা পাইয়াছিল!! একদিকে দেবীসিংহের, অন্যদিকে কুসীদজীবিগণের ভীষণ অত্যা-চারে সেই নিরীহ প্রজাগণ প্রতিনিয়ত উর্দ্ধমুখে ভগবানকে আহ্বান করিত; কিন্তু জানি না, কি কারণে তাঁহারও করুণাকণা তাহাদের উপর নিপতিত হয় নাই।

তাহাদের কঠোর-পরিশ্রমোৎপাদিত শস্যরাশি বল-পূর্ব্বক বাজারে লইয়া এক চতুর্থাংশেরও কম মূল্যে বিক্রীত হইতে লাগিল! হতভাগ্যগণের সংবৎসরের আহার্য্য সম্পত্তি অপহৃত হইল, অথচ তাহাদের ঋণপরিশোধের বিশেষ কোন সুবিধাও হইল না!! অবশেষে তাহাদের লাঙ্গল, বলদ, মই, বিদা প্রভৃতি বিক্রয় করিতে আরম্ভ করা হয়। এই-রূপে তাহাদিগের ভবিষ্যৎ শন্তোৎপাদনের পথও একেবারে নিরুদ্ধ হইল। তাহার পর, তাহাদিগের জীর্ণ পর্ণকুটীর লুণ্ঠন করিয়া, দেবীসিংহের অনুচর-গণ সেই সকল কুচীর অগ্নিমুখে সমর্পণ করিয়া চলিয়া যায়।

দরিদ্রের দীর্ঘশ্বাসের সহিত সেই অগ্নিশিখা চতুদ্দিকে পরিব্যাপ্ত হইয়া পড়িল। এতদিন যাহারা শত কষ্ট স্বীকার করিয়াও আপনাদের আশ্রয়স্থান পরি-ত্যাগ করে নাই, এক্ষণে তাহারা বাধ্য হইয়া বন্যপশুর জ্ঞায় বনে বনে ভ্রমণ করিতে লাগিল! ইহাতেও নিস্তার নাই, তাহার উপরও আবার অত্যাচারের স্রোত চলিল! অনাহারে রঙ্গপুরবাসী প্রজাগণের মধ্যে ঘোর কষ্ট দেখা দিল; পিতা পুত্রকে বিক্রয় করিতে বাধ্য হইল, স্বামী স্ত্রীকে চিরবিসর্জন দিল। এইরূপে প্রত্যেক গৃহস্থসংসার হাহাকার ধ্বনিতে পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল।