০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা ‘ভুট্টার মেয়ে’ রিওর রাস্তায় থামতেই চায় না ‘বই তলো’ উন্মাদনা, ক্লান্ত শরীরেও উৎসবের জোয়ার নিজের শর্তে টিভিতে নোবেলজয়ী ওরহান পামুক, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুক্তি পেল ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ সিরিজ জাপানের মুনাফা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাকরি কাটছে, যুবশক্তি পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করল দুবাই স্কুল, সামাজিক মিডিয়ায় পোস্টে হতে পারে বড় প্রভাব রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাজারো বন্দির মুক্তি অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার বদল সংস্কৃতির মিলন মেলার আমন্ত্রণে আবুধাবি: ‘এমিরাতি ভ্যালুজ ইফতার’ শুরু

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -৩৩)

১. ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রসন্ননাথ ইংরেজি স্কুল স্থাপিত হয়। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হইবার পাঁচ বৎসর পূর্বে এই দিঘাপতিয়া স্কুল স্থাপিত। এ জেলায় এ একটি লব্ধপ্রতিষ্ঠ উচ্চ শ্রেণির স্কুল। ইহার খ্যাতি অনেকদিন হইতে এবং অনেক দূরে বিস্তৃত। স্কুল গৃহ এবং তৎসঙ্গে যাবতীয় কাগজপত্র অগ্নিভস্মীভূত হওয়াতে প্রথম হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকার ফল জানা কঠিন। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দ হইতে ৫৪ জন প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছে। এই ৮ বৎসর গড়ে প্রতি বৎসর ৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ। এই স্কুল প্রায় প্রতি বৎসর জুনিয়ার বৃত্তি প্রাপ্ত হয়।
২. পুঠিয়ার রাজা পরেশনারায়ণ রায় বাহাদুর ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে পুঠিয়াতে একটি মধ্যশ্রেণি বাংলা স্কুল স্থাপিত করেন। সেই স্কুল ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্য ইংরেজি এবং ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে উচ্চ শ্রেণি ইংরেজি স্কুলে পরিণত হইয়া আছে। এই ঊনবিংশতি বৎসর মধ্যে ৫২ জন ছাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। গড়ে প্রতি বৎসর ৩ জন উত্তীর্ণ।
৩. নাটোরে আদিতে একটি লব্ধ প্রতিষ্ঠ মধ্য শ্রেণি বাংলা স্কুল ছিল। নাটোরের মুসলমান জমিদার রশিদ এ স্কুলকে মধ্যশ্রেণি ইংরেজিতে পরিণত করেন। তদপর নাটোর মিউনিসিপালিটির সাহায্যে ও যত্নে ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ঐ স্কুল উচ্চ শ্রেণিতে পরিণত হইয়া আছে। সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার নাটোরের মহারাজা গ্রহণ করিয়াছেন। এটি এক্ষণ নাটোর মহারাজার স্কুল। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ হইতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় ছাত্র প্রথম প্রেরিত হয়। এই চতুৰ্দ্দশ বৎসরে ৫১ জন ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তন্মধ্যে ৪৩ জন ছাত্র ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ হইতে ৭ বৎসরে উত্তীর্ণ। পূর্ব সাত বৎসরে ৮ জন এবং শেষ সাত বৎসরে ৪৩ জন উত্তীর্ণ হইয়াছে এবং অনেকে জুনিয়ার বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়াছে। মফস্বল স্কুল মধ্যে এই স্কুল হইতেই মুসলমান ছাত্র বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়া আসিতেছে। বর্তমানে স্কুলের অবস্থা উন্নত।
৪. নওগাঁতে মহকুমা স্থাপিত হইবার দুই বৎসর পরে অর্থাৎ ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে গাঁজা অফিসের প্রধান কর্মচারী সবডেপুটি বাবু কৃষ্ণধন বাগচির যত্নে এবং উদ্যোগে একটি উচ্চশ্রেণি ইংরেজি স্কুল স্থাপিত হয়। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের যত্নে একটি ইস্টক নির্মিত গৃহ প্রস্তুতের উদ্যোগ হইতেছে। স্থাপিত হইবার ২/৩ বৎসর পর প্রবেশিকা পরীক্ষায় ছাত্র প্রেরিত হয়। এই ১২/১৩ বৎসরে ২২ জন ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
৫. এক বৎসরের অধিক কাল হইল উকিল ও স্থানীয় ভদ্রলোকদের যত্নে ও উদ্যোগে বোয়ালিয়াতে “বোয়ালিয়া একাডেমী” নামে একটি উচ্চশ্রেণি ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। এই বিদ্যালয়ে খাজুরা নিবাসী জমিদার বাবু জীবন্তি নাথ খাঁ এক হাজার টাকা দান করিয়া পিতা ভোলানাথ খাঁর নাম চিরস্মরণীয় করেন। অতএব এই বিদ্যালয় “ভোলানাথ একাডেমী” বলিয়া প্রসিদ্ধ।
জনপ্রিয় সংবাদ

মিত্র ও নীতিমালা ছেড়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা

রাজসাহীর ইতিহাস (পর্ব -৩৩)

০৪:৫৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
১. ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রসন্ননাথ ইংরেজি স্কুল স্থাপিত হয়। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হইবার পাঁচ বৎসর পূর্বে এই দিঘাপতিয়া স্কুল স্থাপিত। এ জেলায় এ একটি লব্ধপ্রতিষ্ঠ উচ্চ শ্রেণির স্কুল। ইহার খ্যাতি অনেকদিন হইতে এবং অনেক দূরে বিস্তৃত। স্কুল গৃহ এবং তৎসঙ্গে যাবতীয় কাগজপত্র অগ্নিভস্মীভূত হওয়াতে প্রথম হইতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকার ফল জানা কঠিন। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দ হইতে ৫৪ জন প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়াছে। এই ৮ বৎসর গড়ে প্রতি বৎসর ৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ। এই স্কুল প্রায় প্রতি বৎসর জুনিয়ার বৃত্তি প্রাপ্ত হয়।
২. পুঠিয়ার রাজা পরেশনারায়ণ রায় বাহাদুর ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে পুঠিয়াতে একটি মধ্যশ্রেণি বাংলা স্কুল স্থাপিত করেন। সেই স্কুল ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে মধ্য ইংরেজি এবং ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে উচ্চ শ্রেণি ইংরেজি স্কুলে পরিণত হইয়া আছে। এই ঊনবিংশতি বৎসর মধ্যে ৫২ জন ছাত্র প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। গড়ে প্রতি বৎসর ৩ জন উত্তীর্ণ।
৩. নাটোরে আদিতে একটি লব্ধ প্রতিষ্ঠ মধ্য শ্রেণি বাংলা স্কুল ছিল। নাটোরের মুসলমান জমিদার রশিদ এ স্কুলকে মধ্যশ্রেণি ইংরেজিতে পরিণত করেন। তদপর নাটোর মিউনিসিপালিটির সাহায্যে ও যত্নে ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ঐ স্কুল উচ্চ শ্রেণিতে পরিণত হইয়া আছে। সম্প্রতি এই বিদ্যালয়ের ব্যয়ভার নাটোরের মহারাজা গ্রহণ করিয়াছেন। এটি এক্ষণ নাটোর মহারাজার স্কুল। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ হইতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় ছাত্র প্রথম প্রেরিত হয়। এই চতুৰ্দ্দশ বৎসরে ৫১ জন ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তন্মধ্যে ৪৩ জন ছাত্র ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ হইতে ৭ বৎসরে উত্তীর্ণ। পূর্ব সাত বৎসরে ৮ জন এবং শেষ সাত বৎসরে ৪৩ জন উত্তীর্ণ হইয়াছে এবং অনেকে জুনিয়ার বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়াছে। মফস্বল স্কুল মধ্যে এই স্কুল হইতেই মুসলমান ছাত্র বৃত্তি প্রাপ্ত হইয়া আসিতেছে। বর্তমানে স্কুলের অবস্থা উন্নত।
৪. নওগাঁতে মহকুমা স্থাপিত হইবার দুই বৎসর পরে অর্থাৎ ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে গাঁজা অফিসের প্রধান কর্মচারী সবডেপুটি বাবু কৃষ্ণধন বাগচির যত্নে এবং উদ্যোগে একটি উচ্চশ্রেণি ইংরেজি স্কুল স্থাপিত হয়। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের যত্নে একটি ইস্টক নির্মিত গৃহ প্রস্তুতের উদ্যোগ হইতেছে। স্থাপিত হইবার ২/৩ বৎসর পর প্রবেশিকা পরীক্ষায় ছাত্র প্রেরিত হয়। এই ১২/১৩ বৎসরে ২২ জন ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
৫. এক বৎসরের অধিক কাল হইল উকিল ও স্থানীয় ভদ্রলোকদের যত্নে ও উদ্যোগে বোয়ালিয়াতে “বোয়ালিয়া একাডেমী” নামে একটি উচ্চশ্রেণি ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। এই বিদ্যালয়ে খাজুরা নিবাসী জমিদার বাবু জীবন্তি নাথ খাঁ এক হাজার টাকা দান করিয়া পিতা ভোলানাথ খাঁর নাম চিরস্মরণীয় করেন। অতএব এই বিদ্যালয় “ভোলানাথ একাডেমী” বলিয়া প্রসিদ্ধ।