১১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক চার রাজ্য, চার মুখ্যমন্ত্রী—২০২৬ সালের নির্বাচনে ‘মুখ’ই শেষ কথা মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদায় ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ রাশিয়ায় নোবেলজয়ী মানবাধিকার সংগঠন ‘মেমোরিয়াল’কে ‘চরমপন্থী’ ঘোষণা “চাবিটি হারিয়ে গেছে” হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি কৌশলগত চাপ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সামনে আরও বাড়তে পারে তেলের দাম পোপাইসের বেইজিংয়ে প্রত্যাবর্তন, ২৪ বছর পর নতুন করে চীনা বাজারে জোরালো উপস্থিতি ট্রাম্পের ‘আনুগত্য পরীক্ষা’ কি ন্যাটোর ঐক্যে ফাটল ধরাচ্ছে? কুষ্টিয়ার স্কুলে অচেতন অবস্থায় ছাত্রী উদ্ধার, যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৮)

  • নাঈম হক
  • ০৯:০০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • 120

ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন সৈনিকের কেউ একজন হয়তো সাতসকালে প্লেনে করে চলে যেতেন সোজা চুংকিং-এ

প্রফেসর করিম জোর দিয়ে বলেন যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সুবাদে ঢাকা সত্যিকারের আন্তর্জাতিক শহরে পরিণত হয়েছিল। তাঁর স্পষ্ট মনে আছে যে ঢাকা হল ও ফজলুল হক হলের মাঝখানে একটি পুকুর ছিল; আর সেই পুকুরটির ছিল সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো সিঁড়ির ধাপ।

সিঁড়ির ধাপগুলোতে বসে প্রফেসর করিম ও তাঁর বন্ধুরা মার্কিন সৈনিকদের সঙ্গে কতো যে আড্ডা দিয়েছেন, বলবার নয়! অজান্তেই, তাঁদের এই আড্ডাগুলো আন্তর্জাতিক মেজাজের রূপ নিতই নিত। যেমন: সেসময়ে চীনের “কুমিংটন” (চাইনিজ ন্যাশনাল পার্টি) ও কমিউনিস্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছিল। দক্ষিণ চীনের মেগাসিটি চুংকিং-এ ছিল চীনের জাতীয়তাবাদি সরকারের প্রধান অফিস।

ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন সৈনিকের কেউ একজন হয়তো সাতসকালে প্লেনে করে চলে যেতেন সোজা চুংকিং-এ; সেখানে দিনভর যুদ্ধটুদ্ধ করে সেদিনই আবার ফিরে আসতেন ঢাকায়; সে-ই সন্ধ্যায় পুকুরের ধাপে- প্রফেসর করিম ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বসে চা খেতে খেতে যুদ্ধের কাহিনি শোনাতেন। বলতেন: “জানো, আজ সকালে প্লেনে করে চুংকিং-এ গিয়েছিলাম?”

“চুংকিং বিমানবন্দরে নামার পর কমিউনিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ফিসফিস করে মাও সে তুং এবং অন্যান্য কমিউনিস্টদের নাম ধরে ডাকাডাকি করেছি! সেসময়ে চুংকিং-এর সব কমিউনিস্টরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিলেন। তাদের সদাই ভয় ছিল পাছে না তাদের গোপনীয়তা ফাঁস না হয়ে যায়; তাই তাদের মধ্যে প্রচলিত হুঁশিয়ারি ছিল যে- ‘যে মার্কিন সেনা কথা বলে না তার থেকে সাবধান।’

(চলবে)

জনপ্রিয় সংবাদ

এনভিডিয়ার বাইরে নতুন পথ? নিজস্ব এআই চিপ ভাবনায় অ্যানথ্রপিক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-২৮)

০৯:০০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন সৈনিকের কেউ একজন হয়তো সাতসকালে প্লেনে করে চলে যেতেন সোজা চুংকিং-এ

প্রফেসর করিম জোর দিয়ে বলেন যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সুবাদে ঢাকা সত্যিকারের আন্তর্জাতিক শহরে পরিণত হয়েছিল। তাঁর স্পষ্ট মনে আছে যে ঢাকা হল ও ফজলুল হক হলের মাঝখানে একটি পুকুর ছিল; আর সেই পুকুরটির ছিল সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো সিঁড়ির ধাপ।

সিঁড়ির ধাপগুলোতে বসে প্রফেসর করিম ও তাঁর বন্ধুরা মার্কিন সৈনিকদের সঙ্গে কতো যে আড্ডা দিয়েছেন, বলবার নয়! অজান্তেই, তাঁদের এই আড্ডাগুলো আন্তর্জাতিক মেজাজের রূপ নিতই নিত। যেমন: সেসময়ে চীনের “কুমিংটন” (চাইনিজ ন্যাশনাল পার্টি) ও কমিউনিস্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছিল। দক্ষিণ চীনের মেগাসিটি চুংকিং-এ ছিল চীনের জাতীয়তাবাদি সরকারের প্রধান অফিস।

ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন সৈনিকের কেউ একজন হয়তো সাতসকালে প্লেনে করে চলে যেতেন সোজা চুংকিং-এ; সেখানে দিনভর যুদ্ধটুদ্ধ করে সেদিনই আবার ফিরে আসতেন ঢাকায়; সে-ই সন্ধ্যায় পুকুরের ধাপে- প্রফেসর করিম ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে বসে চা খেতে খেতে যুদ্ধের কাহিনি শোনাতেন। বলতেন: “জানো, আজ সকালে প্লেনে করে চুংকিং-এ গিয়েছিলাম?”

“চুংকিং বিমানবন্দরে নামার পর কমিউনিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ফিসফিস করে মাও সে তুং এবং অন্যান্য কমিউনিস্টদের নাম ধরে ডাকাডাকি করেছি! সেসময়ে চুংকিং-এর সব কমিউনিস্টরা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিলেন। তাদের সদাই ভয় ছিল পাছে না তাদের গোপনীয়তা ফাঁস না হয়ে যায়; তাই তাদের মধ্যে প্রচলিত হুঁশিয়ারি ছিল যে- ‘যে মার্কিন সেনা কথা বলে না তার থেকে সাবধান।’

(চলবে)