০৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
ভিয়েতনামের গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলতে চায় কাইটি নগুয়েন, অনুপ্রেরণা দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা স্থানীয় গল্প, বৈশ্বিক সাফল্য: কেন কোরিয়ান পরিচয়ই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদন সম্পদ এইচএসসির প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার ৭ এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পশ্চিম এশিয়ায় সব ফ্লাইট পুনরায় চালু, ফিরছে কুয়েত ও সালালাহ রুট বিজয়ের ‘জনা নায়াগন’ মুক্তির অপেক্ষার অবসান? সেন্সর ছাড়পত্র মিললেই জুলাইয়ে প্রেক্ষাগৃহে হোটেল ভাড়ার ১২ লাখ টাকা বকেয়া, এনসিপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তামিলনাড়ুতে ‘৩৫ কোটি রুপির ভোট প্রস্তাব’ বিতর্ক: এমএলএ কেনাবেচার অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনীতি বিটিএস শুধু একটি ব্যান্ড নয়, সম্পর্কের নতুন ভাষাও পাঁচ নতুন আইফোন নিয়ে বড় বাজি অ্যাপলের, বাজার দখলে ফোল্ডেবল মডেলেও জোর রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭

ড্যারেন অ্যারোনোফস্কির নতুন ছবি ‘কট স্টিলিং’: রোমাঞ্চ, রক্তপাত আর ব্যর্থ হাস্যরসের এক জটিল মিশ্রণ

নিউইয়র্কের রাত্রির পটভূমিতে এক অরাজক অভিযান

ড্যারেন অ্যারোনোফস্কি, যিনি শারীরিক যন্ত্রণার দিকটি ফুটিয়ে তুলতে পারদর্শী পরিচালক (‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর কথা মনে করলেই যথেষ্ট), তাঁর নতুন ছবি ‘কট স্টিলিং’-এ আবারও গভীর, কিন্তু অসম্পূর্ণ এক জগৎ নির্মাণ করেছেন। ছবিটি নির্মিত হয়েছে চার্লি হাস্টনের ২০০৪ সালের উপন্যাস অবলম্বনে, যিনি নিজেই এর চিত্রনাট্যও লিখেছেন। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হ্যাঙ্ক—অস্টিন বাটলার অভিনীত—একজন সাধারণ বারটেন্ডার, যিনি এক অদ্ভুত ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েন রক্তাক্ত অপরাধজগতে।


কাহিনি সংক্ষেপ: নির্দোষ থেকে শিকার

গল্পের সূচনা ১৯৯০-এর দশকের শেষের নিউইয়র্কে, যখন রুডি জুলিয়ানি শহর পরিষ্কার অভিযানে ব্যস্ত। হ্যাঙ্ক তার প্রতিদিনের কাজ শেষ করে প্রেমিকা ইভন (জো ক্রাভিটজ)-এর সঙ্গে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাস (ম্যাট স্মিথ) তার বিড়ালটি হ্যাঙ্কের কাছে রেখে লন্ডনে রওনা হন। কিন্তু এই আপাত সহজ দায়িত্বটি দ্রুত ভয়ঙ্কর বিপদে পরিণত হয় – রাসের অনুপস্থিতিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং হ্যাঙ্কের পিছু নেয়। প্রথম সাক্ষাতেই তারা হ্যাঙ্ককে এমনভাবে পেটায় যে সে একটি কিডনি হারায়।

একদল রাশিয়ান গ্যাংস্টার, আর অন্যদল দুই অরথোডক্স ইহুদি ভাই (লিভ শ্রাইবার ও ভিনসেন্ট ডি’অনোফ্রিও) মিলে হ্যাঙ্কের জীবনকে নরক বানায়। একমাত্র সহায় হিসেবে হাজির হন পুলিশ কর্মকর্তা রোমান (রেজিনা কিং), যিনি হ্যাঙ্কের সমস্যাগুলো কিছুটা বেশিই ভালো জানেন।


আবহ ও নির্মাণশৈলী: নিউইয়র্কের অন্ধকার দিক

ছবির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো নিউইয়র্ক শহরের নোংরা, অন্ধকার আর বিশৃঙ্খল চিত্রায়ণ। অ্যারোনোফস্কি যে শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা অপরাধ আর হতাশার দুনিয়াকে তুলে ধরতে দক্ষ, সেটি এই চলচ্চিত্রে স্পষ্ট। বাটলারের কাঁচা, দুর্বল অথচ আকর্ষণীয় উপস্থিতিও দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে।

তবে চলচ্চিত্রের হাস্যরসাত্মক উপাদানগুলো ঠিকঠাক কাজ করে না। গল্পে বারবার বেসবল প্রসঙ্গ উঠে আসে – যা হ্যাঙ্কের অতীত ও হারানো জীবনের প্রতীক – কিন্তু এটি যতবার ফিরে আসে, ততই ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। এমনকি ইভনও একসময় হ্যাঙ্ককে বলে ওঠেন, “এটা বাদ দাও, এখন বাস্তবে ফিরে এসো।”


চরিত্র ও সংলাপ: সম্ভাবনা থাকলেও অপচয়

ছবিটি আরও ভালো হতে পারত যদি ইহুদি ভাইদের চরিত্রে আরও দৃশ্য থাকত, কিংবা ক্রাভিটজের চরিত্রটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু পরিচালক অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেছেন বিড়াল ও বেসবলের অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যে। রাস চরিত্রটি যখন পুনরায় গল্পে ফিরে আসে, তখন সিনেমা খানিকটা প্রাণ পায়, তবে সেই উদ্দীপনা বেশিক্ষণ টেকে না।


চূড়ান্ত মূল্যায়ন: চোখের আরাম, মনের নয়

‘কট স্টিলিং’ এমন একটি সিনেমা, যা চোখে আনন্দ দেয় কিন্তু মনে ছাপ ফেলে না। বাটলারের সৌন্দর্য আর নিউইয়র্কের ধূসর আবহ দর্শকের দৃষ্টি ধরে রাখে, কিন্তু গল্পের গতি, ব্যঙ্গ ও তীক্ষ্ণতা অনুপস্থিত। শেষ পর্যন্ত দর্শক কেবল এটুকুই বুঝতে পারেন – আজও ‘মোহক’ হেয়ারকাটের মতো সাহসী কিছু নেই, কিন্তু অ্যারোনোফস্কির এই চলচ্চিত্রে সেই ধারও অনুপস্থিত।—-

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিয়েতনামের গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলতে চায় কাইটি নগুয়েন, অনুপ্রেরণা দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমা

ড্যারেন অ্যারোনোফস্কির নতুন ছবি ‘কট স্টিলিং’: রোমাঞ্চ, রক্তপাত আর ব্যর্থ হাস্যরসের এক জটিল মিশ্রণ

০১:০১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

নিউইয়র্কের রাত্রির পটভূমিতে এক অরাজক অভিযান

ড্যারেন অ্যারোনোফস্কি, যিনি শারীরিক যন্ত্রণার দিকটি ফুটিয়ে তুলতে পারদর্শী পরিচালক (‘ব্ল্যাক সোয়ান’-এর কথা মনে করলেই যথেষ্ট), তাঁর নতুন ছবি ‘কট স্টিলিং’-এ আবারও গভীর, কিন্তু অসম্পূর্ণ এক জগৎ নির্মাণ করেছেন। ছবিটি নির্মিত হয়েছে চার্লি হাস্টনের ২০০৪ সালের উপন্যাস অবলম্বনে, যিনি নিজেই এর চিত্রনাট্যও লিখেছেন। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হ্যাঙ্ক—অস্টিন বাটলার অভিনীত—একজন সাধারণ বারটেন্ডার, যিনি এক অদ্ভুত ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েন রক্তাক্ত অপরাধজগতে।


কাহিনি সংক্ষেপ: নির্দোষ থেকে শিকার

গল্পের সূচনা ১৯৯০-এর দশকের শেষের নিউইয়র্কে, যখন রুডি জুলিয়ানি শহর পরিষ্কার অভিযানে ব্যস্ত। হ্যাঙ্ক তার প্রতিদিনের কাজ শেষ করে প্রেমিকা ইভন (জো ক্রাভিটজ)-এর সঙ্গে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঠিক তখনই প্রতিবেশী রাস (ম্যাট স্মিথ) তার বিড়ালটি হ্যাঙ্কের কাছে রেখে লন্ডনে রওনা হন। কিন্তু এই আপাত সহজ দায়িত্বটি দ্রুত ভয়ঙ্কর বিপদে পরিণত হয় – রাসের অনুপস্থিতিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং হ্যাঙ্কের পিছু নেয়। প্রথম সাক্ষাতেই তারা হ্যাঙ্ককে এমনভাবে পেটায় যে সে একটি কিডনি হারায়।

একদল রাশিয়ান গ্যাংস্টার, আর অন্যদল দুই অরথোডক্স ইহুদি ভাই (লিভ শ্রাইবার ও ভিনসেন্ট ডি’অনোফ্রিও) মিলে হ্যাঙ্কের জীবনকে নরক বানায়। একমাত্র সহায় হিসেবে হাজির হন পুলিশ কর্মকর্তা রোমান (রেজিনা কিং), যিনি হ্যাঙ্কের সমস্যাগুলো কিছুটা বেশিই ভালো জানেন।


আবহ ও নির্মাণশৈলী: নিউইয়র্কের অন্ধকার দিক

ছবির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো নিউইয়র্ক শহরের নোংরা, অন্ধকার আর বিশৃঙ্খল চিত্রায়ণ। অ্যারোনোফস্কি যে শহরের বুকে লুকিয়ে থাকা অপরাধ আর হতাশার দুনিয়াকে তুলে ধরতে দক্ষ, সেটি এই চলচ্চিত্রে স্পষ্ট। বাটলারের কাঁচা, দুর্বল অথচ আকর্ষণীয় উপস্থিতিও দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে।

তবে চলচ্চিত্রের হাস্যরসাত্মক উপাদানগুলো ঠিকঠাক কাজ করে না। গল্পে বারবার বেসবল প্রসঙ্গ উঠে আসে – যা হ্যাঙ্কের অতীত ও হারানো জীবনের প্রতীক – কিন্তু এটি যতবার ফিরে আসে, ততই ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। এমনকি ইভনও একসময় হ্যাঙ্ককে বলে ওঠেন, “এটা বাদ দাও, এখন বাস্তবে ফিরে এসো।”


চরিত্র ও সংলাপ: সম্ভাবনা থাকলেও অপচয়

ছবিটি আরও ভালো হতে পারত যদি ইহুদি ভাইদের চরিত্রে আরও দৃশ্য থাকত, কিংবা ক্রাভিটজের চরিত্রটি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু পরিচালক অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেছেন বিড়াল ও বেসবলের অপ্রয়োজনীয় দৃশ্যে। রাস চরিত্রটি যখন পুনরায় গল্পে ফিরে আসে, তখন সিনেমা খানিকটা প্রাণ পায়, তবে সেই উদ্দীপনা বেশিক্ষণ টেকে না।


চূড়ান্ত মূল্যায়ন: চোখের আরাম, মনের নয়

‘কট স্টিলিং’ এমন একটি সিনেমা, যা চোখে আনন্দ দেয় কিন্তু মনে ছাপ ফেলে না। বাটলারের সৌন্দর্য আর নিউইয়র্কের ধূসর আবহ দর্শকের দৃষ্টি ধরে রাখে, কিন্তু গল্পের গতি, ব্যঙ্গ ও তীক্ষ্ণতা অনুপস্থিত। শেষ পর্যন্ত দর্শক কেবল এটুকুই বুঝতে পারেন – আজও ‘মোহক’ হেয়ারকাটের মতো সাহসী কিছু নেই, কিন্তু অ্যারোনোফস্কির এই চলচ্চিত্রে সেই ধারও অনুপস্থিত।—-