১১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা ৩০ হাজার হামলা, তবু জয় নেই: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কি সত্যিই এগিয়ে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  • 165
শ্রী নিখিলনাথ রায়
নবাব আলীবদ্দী থাকে মহারাষ্ট্রীয়গণের অত্যাচার নিবারণের জন্য তাঁহাদের সহিত বারংবার যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইতে হয়। তজ্জন্য যখনই তাঁহার অর্থের প্রয়োজন হইত, শেঠেরা তৎক্ষণাৎ তাঁহাকে সাহায্য করিতেন এবং তিন শেঠদিগের পরামর্শ ব্যতীত কখনও রাজকার্যা নির্ব্বাহ করিতেন না। আলিবন্দী তাঁহার প্রিয়তম সিরাজকে শেঠদিগের পরামর্শানুসারে কার্য্য করিতে উপদেশ দিয়া যান। সিরাজ কিছুদিন পর্যন্ত মাতামহের উপদেশপালনে চেষ্টা করিয়াছিলেন। ১৭৫৬ খৃঃ অব্দের এপ্রিল মাসে আলিবদ্দীর মৃত্যু হইলে, সিরাজ বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁহার সিংহাসন প্রাপ্তির পূর্ব্ব ‘হইতে এক ভীষণ ষড়যন্ত্রের আয়োজন হইতেছিল।
জগৎশেঠ মহাতপ চাঁদও অবশেষে এই যড়যন্ত্রে যোগদান করেন। সিরাজ অত্যন্ত অস্থির- বুদ্ধি ও চঞ্চল প্রকৃতি ছিলেন। যাঁহার সহিত যেরূপ ব্যবহার করা উচিত, তিনি সকলসময়ে তাহা করিয়া উঠিতে পারিতেন না। তাঁহার কটুবাক্য প্রয়োগে প্রধান প্রধান কর্মচারিগণ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হইয়া উঠেন। এই সময়ে কৃতকগুলি স্বার্থপর লোকও আপনাদিগের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সিরাজকে পদচ্যুত করিবার সুযোগ অনুসন্ধান করিতে ছিল। ক্রমে এক ষড়যন্ত্রের আয়োজন হইলে, জগৎশেঠও তাহাতে লিপ্ত হইয়া পড়েন।
পূর্ব্বে কথিত হইয়াছে যে, সিরাজ চাপল্যবশতঃ সময়ে সময়ে অনেককে অযথা বাক্য প্রয়োগ করিতেন। জগৎশেঠ মহাতপ ‘চাঁদের প্রতিও সেইরূপ বাক্য প্রযুক্ত হইত। মুতাক্ষরীনে লিখিত আছে যে, সিরাজ মহাতপচাঁদকে প্রায়ই তুচ্ছতাচ্ছল্য করিতেন, এবং সময়ে সময়ে মুসল্মানী করার ভয়ও দেখাইতেন।। এইসমস্ত কারণে জগৎ- শেঠ তাঁহার প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। ব্যাপার ক্রমশঃ অত্যন্ত গুরুতর হইয়া উঠে।
পূর্ব্বে নিয়ম ছিল যে, কোন নূতন নবাব মসনদে উপবিষ্ট হইলে, জগৎশেঠ দিল্লী হইতে তাঁহার সনন্দ আনাইয়া দিতেন। সিরাজের সিংহাসনারোহণের সময় সনন্দ আনীত হয় নাই। সিরাজ সনন্দ না পাওয়ায় তাঁহার জ্যেষ্ঠতাত নওয়াজেস্ মহম্মদ ও মাতৃধসার পুত্র পূর্ণিয়ার নবাব সকতজঙ্গ বাঙ্গলার সুবেদারীলাভের চেষ্টা করিতেছিলেন। সিরাজ মোহনলাল, মীরজাফর প্রভৃতিকে সকতজঙ্গের দমনে পাঠাইয়া জগৎশেঠকে সনন্দ না আনার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন।

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১)

পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩২)

১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
শ্রী নিখিলনাথ রায়
নবাব আলীবদ্দী থাকে মহারাষ্ট্রীয়গণের অত্যাচার নিবারণের জন্য তাঁহাদের সহিত বারংবার যুদ্ধে প্রবৃত্ত হইতে হয়। তজ্জন্য যখনই তাঁহার অর্থের প্রয়োজন হইত, শেঠেরা তৎক্ষণাৎ তাঁহাকে সাহায্য করিতেন এবং তিন শেঠদিগের পরামর্শ ব্যতীত কখনও রাজকার্যা নির্ব্বাহ করিতেন না। আলিবন্দী তাঁহার প্রিয়তম সিরাজকে শেঠদিগের পরামর্শানুসারে কার্য্য করিতে উপদেশ দিয়া যান। সিরাজ কিছুদিন পর্যন্ত মাতামহের উপদেশপালনে চেষ্টা করিয়াছিলেন। ১৭৫৬ খৃঃ অব্দের এপ্রিল মাসে আলিবদ্দীর মৃত্যু হইলে, সিরাজ বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁহার সিংহাসন প্রাপ্তির পূর্ব্ব ‘হইতে এক ভীষণ ষড়যন্ত্রের আয়োজন হইতেছিল।
জগৎশেঠ মহাতপ চাঁদও অবশেষে এই যড়যন্ত্রে যোগদান করেন। সিরাজ অত্যন্ত অস্থির- বুদ্ধি ও চঞ্চল প্রকৃতি ছিলেন। যাঁহার সহিত যেরূপ ব্যবহার করা উচিত, তিনি সকলসময়ে তাহা করিয়া উঠিতে পারিতেন না। তাঁহার কটুবাক্য প্রয়োগে প্রধান প্রধান কর্মচারিগণ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হইয়া উঠেন। এই সময়ে কৃতকগুলি স্বার্থপর লোকও আপনাদিগের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সিরাজকে পদচ্যুত করিবার সুযোগ অনুসন্ধান করিতে ছিল। ক্রমে এক ষড়যন্ত্রের আয়োজন হইলে, জগৎশেঠও তাহাতে লিপ্ত হইয়া পড়েন।
পূর্ব্বে কথিত হইয়াছে যে, সিরাজ চাপল্যবশতঃ সময়ে সময়ে অনেককে অযথা বাক্য প্রয়োগ করিতেন। জগৎশেঠ মহাতপ ‘চাঁদের প্রতিও সেইরূপ বাক্য প্রযুক্ত হইত। মুতাক্ষরীনে লিখিত আছে যে, সিরাজ মহাতপচাঁদকে প্রায়ই তুচ্ছতাচ্ছল্য করিতেন, এবং সময়ে সময়ে মুসল্মানী করার ভয়ও দেখাইতেন।। এইসমস্ত কারণে জগৎ- শেঠ তাঁহার প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। ব্যাপার ক্রমশঃ অত্যন্ত গুরুতর হইয়া উঠে।
পূর্ব্বে নিয়ম ছিল যে, কোন নূতন নবাব মসনদে উপবিষ্ট হইলে, জগৎশেঠ দিল্লী হইতে তাঁহার সনন্দ আনাইয়া দিতেন। সিরাজের সিংহাসনারোহণের সময় সনন্দ আনীত হয় নাই। সিরাজ সনন্দ না পাওয়ায় তাঁহার জ্যেষ্ঠতাত নওয়াজেস্ মহম্মদ ও মাতৃধসার পুত্র পূর্ণিয়ার নবাব সকতজঙ্গ বাঙ্গলার সুবেদারীলাভের চেষ্টা করিতেছিলেন। সিরাজ মোহনলাল, মীরজাফর প্রভৃতিকে সকতজঙ্গের দমনে পাঠাইয়া জগৎশেঠকে সনন্দ না আনার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন।

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১)

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩১)