০২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন কূটনীতি, ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও তীব্র বিশ্ব যখন বিভক্তির পথে: অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা কীভাবে নতুন সংঘাতের ভিত্তি তৈরি করছে ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার ‘দেশে ফেরার’ বক্তব্য নিয়ে যা বলছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি জন্মের পরই জিন বিশ্লেষণ, আশীর্বাদ নাকি নতুন দুশ্চিন্তা? এক বছরে ২৫ শতাংশ বেড়েছে মাইক্রোসফটের কার্বন নিঃসরণ, এআই ডেটা সেন্টারের বিস্তারেই বাড়ছে চাপ বিটকয়েন ধসে এরিক ট্রাম্পের ৬০ কোটি ডলারেরও বেশি লোকসান, সংকটে পারিবারিক ক্রিপ্টো উদ্যোগ আইরল্যান্ডে পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পর দেশ ছাড়লেন নিউইয়র্কের নারীর হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, তদন্তে নতুন শঙ্কা যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহের দাপট অব্যাহত, ৩৫ ডিগ্রি ছুঁয়েও স্বস্তির দেখা নেই ইন্টারনেটে ভুয়া ‘পোর্টেবল এসি’র ছড়াছড়ি, ৯০ সেকেন্ডে ঘর ঠান্ডার দাবি আসলে কতটা সত্য?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১১০)

একাদশ পরিচ্ছেদ

ওই রাত্রেই, সৈন্যদলের যাত্রা শুরু হবার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের বিশ্রামের সময় আমি পালিয়ে গেলুম। সঙ্গে রাখলুম আমার মাওজারটা। আর ক্যাটেনের গাড়িতে একটা বোমা পড়ে থাকতে দেখে সেটাও পকেটে ভরে নিয়েছিলুম।

সারাটা রাত্তির একবারও না-থেমে, বিপজ্জনক রাস্তাগুলো এড়িয়ে যাবার চেষ্টা না-করে, অন্ধ একগুয়ের মতো সোজা উত্তরমুখো ছুটে চললুম আমি। বিপজ্জনক জায়গাগুলো, যেমন ঝোপঝাড়ের অন্ধকার, জনশূন্য পাহাড়ী খাদ, ছোট-ছোট পুল, এইসব এড়িয়ে চলার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করলুম না। অথচ অন্য যে-কোনো সময়ে

ওই সব জায়গায় শত্রু ওত পেতে আছে সন্দেহ করে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে পথ চলতুম। শেষ কয়েক ঘণ্টার অভিজ্ঞতার চেয়ে ভয়াবহ আর কিছুই তখন আমার কাছে ঠেকছিল না।

হোঁচট খেতে-খেতে এগিয়ে চললুম আমি। কোনো কিছু ভাবা, কিছু মনে করা, কোনো কিছু চাওয়ার চেষ্টা না-করে, কত তাড়াতাড়ি আমার বাহিনীর সঙ্গে মিলতে পারব একমাত্র এই আশা সম্বল করে পথ চলতে লাগলুম।

পরদিন দুপুর থেকে সন্ধে পর্যন্ত একটা ঝোপঝাড়ে-ঢাকা লুকনো খাদের মধ্যে ক্লোরোফর্ম-করা রুগীর মতো নিঃসাড়ে ঘুমোলুম আমি। রাত্রে ঘুম থেকে উঠে ফের শুরু হল আমার পথচলা। শ্বেতরক্ষীদের সদর দপ্তরে যে-কথাবার্তা আমি শুনেছিলুম তা থেকে আমার বাহিনীকে কোথায় খুঁজতে হবে সে-সম্পর্কে অস্পষ্ট একটা ধারণা জন্মেছিল। জায়গাটা খুব কাছেই কোথাও হবে বলে আমার মনে হল।

কিন্তু আমি পায়ে চলা-পথ আর গ্রাম্য মেঠো পথ ধরে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরে-ঘুরে বেড়ালুম, তবু কেউ আমার পথ আটকে দাঁড়াল না।

পাখপাখালির অফুরন্ত কিচিরমিচির, ব্যাঙের ডাক আর মশার গুনগুনানিতে রাতের বুক ধুকপুক করতে লাগল। গায়ে-গায়ে লেপটে-থাকা, তারার চুকি-বসানো সেই রাত একটা পোচার অশান্ত চিৎকারে, ঘন, সবুজ পাতার খসখসানিতে আর বুনো অর্কিড আর হোগুলা ফুলের গন্ধে মনে হচ্ছিল যেন জীবন্ত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন কূটনীতি, ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও তীব্র

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১১০)

০৮:০০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

একাদশ পরিচ্ছেদ

ওই রাত্রেই, সৈন্যদলের যাত্রা শুরু হবার পর প্রথম পাঁচ মিনিটের বিশ্রামের সময় আমি পালিয়ে গেলুম। সঙ্গে রাখলুম আমার মাওজারটা। আর ক্যাটেনের গাড়িতে একটা বোমা পড়ে থাকতে দেখে সেটাও পকেটে ভরে নিয়েছিলুম।

সারাটা রাত্তির একবারও না-থেমে, বিপজ্জনক রাস্তাগুলো এড়িয়ে যাবার চেষ্টা না-করে, অন্ধ একগুয়ের মতো সোজা উত্তরমুখো ছুটে চললুম আমি। বিপজ্জনক জায়গাগুলো, যেমন ঝোপঝাড়ের অন্ধকার, জনশূন্য পাহাড়ী খাদ, ছোট-ছোট পুল, এইসব এড়িয়ে চলার বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করলুম না। অথচ অন্য যে-কোনো সময়ে

ওই সব জায়গায় শত্রু ওত পেতে আছে সন্দেহ করে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে পথ চলতুম। শেষ কয়েক ঘণ্টার অভিজ্ঞতার চেয়ে ভয়াবহ আর কিছুই তখন আমার কাছে ঠেকছিল না।

হোঁচট খেতে-খেতে এগিয়ে চললুম আমি। কোনো কিছু ভাবা, কিছু মনে করা, কোনো কিছু চাওয়ার চেষ্টা না-করে, কত তাড়াতাড়ি আমার বাহিনীর সঙ্গে মিলতে পারব একমাত্র এই আশা সম্বল করে পথ চলতে লাগলুম।

পরদিন দুপুর থেকে সন্ধে পর্যন্ত একটা ঝোপঝাড়ে-ঢাকা লুকনো খাদের মধ্যে ক্লোরোফর্ম-করা রুগীর মতো নিঃসাড়ে ঘুমোলুম আমি। রাত্রে ঘুম থেকে উঠে ফের শুরু হল আমার পথচলা। শ্বেতরক্ষীদের সদর দপ্তরে যে-কথাবার্তা আমি শুনেছিলুম তা থেকে আমার বাহিনীকে কোথায় খুঁজতে হবে সে-সম্পর্কে অস্পষ্ট একটা ধারণা জন্মেছিল। জায়গাটা খুব কাছেই কোথাও হবে বলে আমার মনে হল।

কিন্তু আমি পায়ে চলা-পথ আর গ্রাম্য মেঠো পথ ধরে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরে-ঘুরে বেড়ালুম, তবু কেউ আমার পথ আটকে দাঁড়াল না।

পাখপাখালির অফুরন্ত কিচিরমিচির, ব্যাঙের ডাক আর মশার গুনগুনানিতে রাতের বুক ধুকপুক করতে লাগল। গায়ে-গায়ে লেপটে-থাকা, তারার চুকি-বসানো সেই রাত একটা পোচার অশান্ত চিৎকারে, ঘন, সবুজ পাতার খসখসানিতে আর বুনো অর্কিড আর হোগুলা ফুলের গন্ধে মনে হচ্ছিল যেন জীবন্ত।