০২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
 নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি ব্রাইটন অধিনায়ক মেইসি সিমন্ডসের সঙ্গে নতুন চুক্তি নর্ডিক ওয়াকিং: হাঁটলেই মিলবে শরীরের প্রায় সব পেশির ব্যায়াম থাইল্যান্ডে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অসদাচরণে তীব্র ক্ষোভ, প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল ইতালির দূতাবাস ৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা প্যারিসে তিন নারীকে ছুরিকাঘাত, ‘আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন’ দাবি; তবু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স প্রবীণদের ভুলে যাচ্ছে সমাজ, বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহ বোঝা খাবার নিয়ে ‘খেলা’! মৃত মাছকে আঘাত করে টুকরো টুকরো করছে ঘাতক তিমি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিতর্কে আবারও আলোচনায় রেনে রিচার্ডস পাসওয়ার্ড না জেনেও এআইকে দিয়ে লগইন, বাড়ছে সুবিধার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির সিলেট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পানির সরবরাহ ব্যাহত

তীব্র গরমের মধ্যেই সিলেটজুড়ে নেমে এসেছে অসহনীয় লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমেছে চরম দুর্ভোগ। পানির সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা, এমনকি হাসপাতাল ও সেবাখাতেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব।


তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের থাবা

বুধবার সিলেটে তাপমাত্রা পৌঁছায় পঁয়ত্রিশ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের অস্থিরতায় গোটা শহর ও আশপাশের এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, এই সংকট দশ থেকে বারো বছর আগের বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে।


সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সিলেট শহরে দৈনিক একশ চব্বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র বাষট্টি মেগাওয়াট। পুরো জেলায় চাহিদা একশ পঞ্চাশ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ মাত্র আশি মেগাওয়াট। সিলেট বিভাগের মোট চাহিদা দুইশ ত্রিশ মেগাওয়াট, অথচ পাওয়া যাচ্ছে একশ ত্রিশ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পুষিয়ে উঠতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।


নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। লালদিঘীরপাড়ের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, “এই কী লোডশেডিং! বিদ্যুৎ যায়, আর আসে না। এইভাবে কেমন করে চলবে?”
উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। গোলাপগঞ্জের খাগাইলের ফজলুর রহমান ও বিয়ানীবাজারের বড়দেশের সাদেক আহমদ জানান, উৎপাদন বন্ধ হয়ে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিনই।


পানির সংকটে দুর্ভোগ দ্বিগুণ

বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালু করা যাচ্ছে না, ফলে শহরের বহু এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন কাজ—রান্না, স্নান ও পানীয় জল সংগ্রহ—সবই হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ।


প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও আশার কথা

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জারজিসুর রহমান বলেন, “গ্যাসের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন বাড়লেই সরবরাহও উন্নত হবে।”
পিডিবির সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা থাকায় সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের শেষে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


তীব্র তাপদাহের সঙ্গে অস্থির বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলে সিলেটবাসীর জীবনযাত্রা এখন সংকটে নিমজ্জিত। প্রশাসন আশার কথা বললেও সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া—নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরে আসুক যত দ্রুত সম্ভব।

#সিলেট, লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকট, পানি সংকট, পিডিবি, সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

 নিকোলাস ওতামেন্দি: এক বিদায়, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের একটি যুগের সমাপ্তি

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির সিলেট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পানির সরবরাহ ব্যাহত

১২:৪৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

তীব্র গরমের মধ্যেই সিলেটজুড়ে নেমে এসেছে অসহনীয় লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমেছে চরম দুর্ভোগ। পানির সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা, এমনকি হাসপাতাল ও সেবাখাতেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব।


তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের থাবা

বুধবার সিলেটে তাপমাত্রা পৌঁছায় পঁয়ত্রিশ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের অস্থিরতায় গোটা শহর ও আশপাশের এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, এই সংকট দশ থেকে বারো বছর আগের বিদ্যুৎ ঘাটতির সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে।


সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সিলেট শহরে দৈনিক একশ চব্বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র বাষট্টি মেগাওয়াট। পুরো জেলায় চাহিদা একশ পঞ্চাশ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ মাত্র আশি মেগাওয়াট। সিলেট বিভাগের মোট চাহিদা দুইশ ত্রিশ মেগাওয়াট, অথচ পাওয়া যাচ্ছে একশ ত্রিশ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পুষিয়ে উঠতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।


নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। লালদিঘীরপাড়ের ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, “এই কী লোডশেডিং! বিদ্যুৎ যায়, আর আসে না। এইভাবে কেমন করে চলবে?”
উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। গোলাপগঞ্জের খাগাইলের ফজলুর রহমান ও বিয়ানীবাজারের বড়দেশের সাদেক আহমদ জানান, উৎপাদন বন্ধ হয়ে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিনই।


পানির সংকটে দুর্ভোগ দ্বিগুণ

বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালু করা যাচ্ছে না, ফলে শহরের বহু এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবারগুলোর দৈনন্দিন কাজ—রান্না, স্নান ও পানীয় জল সংগ্রহ—সবই হয়ে পড়েছে দুর্বিষহ।


প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও আশার কথা

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জারজিসুর রহমান বলেন, “গ্যাসের ঘাটতি ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন বাড়লেই সরবরাহও উন্নত হবে।”
পিডিবির সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা থাকায় সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের শেষে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


তীব্র তাপদাহের সঙ্গে অস্থির বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলে সিলেটবাসীর জীবনযাত্রা এখন সংকটে নিমজ্জিত। প্রশাসন আশার কথা বললেও সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া—নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ফিরে আসুক যত দ্রুত সম্ভব।

#সিলেট, লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকট, পানি সংকট, পিডিবি, সারাক্ষণ_রিপোর্ট