০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা গ্যান্ডারবাল কেন্দ্রীয় কাশ্মীরে সন্ত্রাসী নিহত, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতিকে UAPA-তে মামলা “ভোটাধিকার চিরস্থায়ীভাবে বিলোপ করা যায় না” পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদপ্রাপ্তদের প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি ও বিমান ভ্রমণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শেনানডোহ তেলের ক্ষেত্রের জন্য বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দৌড়, মার্কিন উপসাগরীয় প্রযুক্তিগত তেলে বিপুল আগ্রহ তেলের দাম আকাশছোঁয়া, মার্কিন–ইরান সংঘাতের তীব্র প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল, শেয়ারবাজারে অস্থিরতার ছায়া নেমেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে: আসিফ মাহমুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী-ছাত্রদের হেলমেট পরিধান, ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্ক লক্ষ্মীপুরে স্কুলের ছাদ ধসে তিন শিক্ষার্থী আহত

দুই দিনে কেজিতে ৭০০ টাকা বেড়েছে ইলিশের দাম, সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে বেশিরভাগ মাছ

বাংলাদেশের নদীর গর্ব ইলিশের দাম মাত্র দুই দিনে কেজিতে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দ্রুত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু ইলিশ নয়, বাজারের বেশিরভাগ মাছই এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ

শুক্রবার সকালে মিরকাদিম বাজারে ভিড় ছিল আগের মতোই, কিন্তু ক্রেতাদের মুখে হতাশা স্পষ্ট।
এখন এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০–২,৭০০ টাকায়। দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৩,২০০ টাকা—যা বেশিরভাগ পরিবারের জন্য বিলাসিতা।
এমনকি ১৫০–২০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশও ৬৫০–৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ—সিন্ডিকেট দাম বাড়াচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন—সমস্যা আরও গভীরে।


কেন বাড়ছে ইলিশের দাম?

বালু উত্তোলন ও অবৈধ জালের প্রভাব

মিরকাদিম মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আল হেলাল রয়েল জানান, নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলনে ইলিশের প্রজনন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ কারেন্ট জালে ছোট-বড় সব মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের মজুত কমে গেছে।

তার ভাষায়,
“মাছের মজুত কমে গেছে। চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম—তাই দাম বাড়ছে।”

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, গত বছর মুন্সিগঞ্জে ৩১,৩৪৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হলেও শীতকালে সরবরাহ কমে যায়, তখন দাম বাড়তে থাকে।


শুধু ইলিশ নয়, বেশিরভাগ মাছের দামেই আগুন

মিরকাদিম বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছের দামই একযোগে বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে নিচের দামগুলো—

  • নদীর পাঙাস: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • খামারি পাঙাস: ১৫০–২০০ টাকা
  • রুই: ৩৫০–৪৫০ টাকা
  • কাতলা (খামারি): ৪০০–৫০০ টাকা
  • কাতলা (নদীর): ৬০০–৭০০ টাকা
  • দেশি বওয়াল: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • খামারি বওয়াল: ৫০০–৫৫০ টাকা
  • গোলদা চিংড়ি: ৭০০–১,০০০ টাকা
  • বাগদা চিংড়ি: ৬০০–৭০০ টাকা
  • আইড়: ১,০০০–১,২০০ টাকা
  • খামারি কৈ: ২০০–২২০ টাকা
  • দেশি কৈ: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • দেশি সিং: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • খামারি সিং: ৩০০–৪০০ টাকা
  • চিতল: ৫০০–৬০০ টাকা
  • কোরাল: ৬০০–৭০০ টাকা

বিক্রেতারা বলছেন—নদীর বা খামারি, যে উৎসেরই হোক, মাছের সরবরাহ অনিশ্চিত থাকায় দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না।


শতবর্ষী বাজারে দামের কামড়

দেশের অন্যতম প্রাচীন মিরকাদিম মাছ বাজারে ৪৩টি পাইকারি শেড রয়েছে। প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টায় প্রায় এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। ছুটির দিনে এই বেচাকেনা আরও বাড়ে।

তবে ইলিশসহ সব মাছের উচ্চমূল্যে বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য কমে গেছে।
যে ইলিশ একসময় ঘরোয়া খাবারের সাধারণ অংশ ছিল, তা এখন অনেক পরিবারের জন্য বছরে এক-দু’বার খাওয়ার মতো বিলাসপণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 

#ইলিশদাম #মাছেরবাজার #দামবৃদ্ধি #বাংলাদেশবাজার #মিরকাদিমবাজার

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

দুই দিনে কেজিতে ৭০০ টাকা বেড়েছে ইলিশের দাম, সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে বেশিরভাগ মাছ

১২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের নদীর গর্ব ইলিশের দাম মাত্র দুই দিনে কেজিতে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দ্রুত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু ইলিশ নয়, বাজারের বেশিরভাগ মাছই এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির চাপ

শুক্রবার সকালে মিরকাদিম বাজারে ভিড় ছিল আগের মতোই, কিন্তু ক্রেতাদের মুখে হতাশা স্পষ্ট।
এখন এক কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০–২,৭০০ টাকায়। দেড় কেজি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ৩,২০০ টাকা—যা বেশিরভাগ পরিবারের জন্য বিলাসিতা।
এমনকি ১৫০–২০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশও ৬৫০–৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ—সিন্ডিকেট দাম বাড়াচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন—সমস্যা আরও গভীরে।


কেন বাড়ছে ইলিশের দাম?

বালু উত্তোলন ও অবৈধ জালের প্রভাব

মিরকাদিম মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আল হেলাল রয়েল জানান, নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলনে ইলিশের প্রজনন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ কারেন্ট জালে ছোট-বড় সব মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের মজুত কমে গেছে।

তার ভাষায়,
“মাছের মজুত কমে গেছে। চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম—তাই দাম বাড়ছে।”

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, গত বছর মুন্সিগঞ্জে ৩১,৩৪৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হলেও শীতকালে সরবরাহ কমে যায়, তখন দাম বাড়তে থাকে।


শুধু ইলিশ নয়, বেশিরভাগ মাছের দামেই আগুন

মিরকাদিম বাজারে প্রায় সব ধরনের মাছের দামই একযোগে বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে নিচের দামগুলো—

  • নদীর পাঙাস: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • খামারি পাঙাস: ১৫০–২০০ টাকা
  • রুই: ৩৫০–৪৫০ টাকা
  • কাতলা (খামারি): ৪০০–৫০০ টাকা
  • কাতলা (নদীর): ৬০০–৭০০ টাকা
  • দেশি বওয়াল: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • খামারি বওয়াল: ৫০০–৫৫০ টাকা
  • গোলদা চিংড়ি: ৭০০–১,০০০ টাকা
  • বাগদা চিংড়ি: ৬০০–৭০০ টাকা
  • আইড়: ১,০০০–১,২০০ টাকা
  • খামারি কৈ: ২০০–২২০ টাকা
  • দেশি কৈ: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • দেশি সিং: ৮০০–১,০০০ টাকা
  • খামারি সিং: ৩০০–৪০০ টাকা
  • চিতল: ৫০০–৬০০ টাকা
  • কোরাল: ৬০০–৭০০ টাকা

বিক্রেতারা বলছেন—নদীর বা খামারি, যে উৎসেরই হোক, মাছের সরবরাহ অনিশ্চিত থাকায় দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না।


শতবর্ষী বাজারে দামের কামড়

দেশের অন্যতম প্রাচীন মিরকাদিম মাছ বাজারে ৪৩টি পাইকারি শেড রয়েছে। প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টায় প্রায় এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। ছুটির দিনে এই বেচাকেনা আরও বাড়ে।

তবে ইলিশসহ সব মাছের উচ্চমূল্যে বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য কমে গেছে।
যে ইলিশ একসময় ঘরোয়া খাবারের সাধারণ অংশ ছিল, তা এখন অনেক পরিবারের জন্য বছরে এক-দু’বার খাওয়ার মতো বিলাসপণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।


 

#ইলিশদাম #মাছেরবাজার #দামবৃদ্ধি #বাংলাদেশবাজার #মিরকাদিমবাজার