০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
ট্রাম্পের ক্ষোভে বিতর্ক, শিল্পীরা সরে দাঁড়াতেই ‘ফ্রিডম ২৫০’ উৎসব বাতিলের ইঙ্গিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বৈঠক: দিল্লিতে বসছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনা ঢাকায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর রহস্য ঘনীভূত, ময়নাতদন্ত না হওয়ায় তদন্তে জটিলতা আফঈদাকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন বাটলার, হার এড়াতে পারল না বাংলাদেশ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই শহর শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়: মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কেন্দ্র করেই নগর পরিকল্পনা হওয়া উচিত মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ, বাধ্যতামূলক হচ্ছে বয়স যাচাই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, শপথ নিলেন ৩৫ নতুন মন্ত্রী কোরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের আড়ালে বাড়ছে বৈষম্যের নতুন রেখা পাকিস্তানে কৌশলগত তেল মজুতের পরিকল্পনা, ইরান সংকটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্যোগ

শীতকালেই জমে ওঠে নড়াইলের শুঁটকি বাণিজ্য

শালুয়া (মাইজপাড়া ইউনিয়ন) ও শোলপুর (সিংগাশোলপুর ইউনিয়ন) এলাকার খোলা মাঠে শীত নামতেই শুরু হয় নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি তৈরির মৌসুম। উঁচু বাঁশের মাচায় সারি সারি মাছ শুকানোর দৃশ্য যেন পুরো এলাকার অর্থনীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

এই শুঁটকি মৌসুম শুধু একটা রীতি নয়—এটি শত শত পরিবারের জীবিকা। জেলেসমাজ, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পরিবহনকর্মী—সবাই এই শুঁটকি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। রাসায়নিকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য নড়াইল এখন দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উৎপাদন প্রক্রিয়া: পুরোপুরিই প্রাকৃতিক

খাল, বিল ও নদী থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা মাছ পরিষ্কার করে লবণ মেখে রোদে শুকানো হয়। কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। স্থানীয়দের মতে, এ কারণেই নড়াইলের শুঁটকির চাহিদা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে।

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) থেকে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে আসা কাবির শেখ ও কামরুল শেখ জানান, তারা পুরো শীতজুড়ে কৈ, চাঁদা, চাপা শুঁটকি—এমন নানা প্রজাতির মাছ শুকিয়ে থাকেন। তাদের কথায়, “কোনো কেমিক্যাল নয়—শুধুই লবণ।”

====================================================================

মূল সমস্যা: বিক্রি আরও কঠিন

জেলে মোছা মিয়া বলেন, শীতে পানির পরিমাণ কমে গিয়ে মাছ ধরা সহজ হয়, ফলে কাঁচা মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

তার ভাষায়, “আমরা মাছ কিনে শুঁটকি বানাই। কিন্তু দালাল ছাড়া বিক্রি করা কঠিন। ক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারলে লাভ বাড়ত।”

আরেক জেলে অলোক বিশ্বাস জানান, দুই থেকে তিন মণ কাঁচা মাছ শুকিয়ে এক মণ হয়।
তিনি বলেন, “মাছভেদে এক মণ শুঁটকি ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকায় বিক্রি হয়।”

সরকারি লক্ষ্য ও বাড়তি সুনাম

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার ভাষায়, “রাসায়নিকমুক্ত হওয়ার কারণে নড়াইলের শুঁটকির চাহিদা শুধু জেলার মধ্যেই নয়, সারাদেশেই বাড়ছে।”
মৎস্য অফিস উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, যাতে মান বজায় রেখে তারা বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

শীতের রোদে বাঁশের মাচা যেন আশার আলো ছড়িয়ে দেয় নড়াইলের শত শত পরিবারের জন্য। পদ্ধতি সহজ, চ্যালেঞ্জ পুরনো—তবুও এই শুঁটকি বাণিজ্যই নড়াইলের অর্থনীতিকে সচল রাখে, এমনকি মৌসুম শেষ হওয়ার অনেক পরও।

#ট্যাগ: নড়াইল | শুঁটকি | মৎস্য | শীতকাল | অর্থনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ক্ষোভে বিতর্ক, শিল্পীরা সরে দাঁড়াতেই ‘ফ্রিডম ২৫০’ উৎসব বাতিলের ইঙ্গিত

শীতকালেই জমে ওঠে নড়াইলের শুঁটকি বাণিজ্য

১২:২৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

শালুয়া (মাইজপাড়া ইউনিয়ন) ও শোলপুর (সিংগাশোলপুর ইউনিয়ন) এলাকার খোলা মাঠে শীত নামতেই শুরু হয় নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি তৈরির মৌসুম। উঁচু বাঁশের মাচায় সারি সারি মাছ শুকানোর দৃশ্য যেন পুরো এলাকার অর্থনীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

এই শুঁটকি মৌসুম শুধু একটা রীতি নয়—এটি শত শত পরিবারের জীবিকা। জেলেসমাজ, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পরিবহনকর্মী—সবাই এই শুঁটকি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। রাসায়নিকমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য নড়াইল এখন দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উৎপাদন প্রক্রিয়া: পুরোপুরিই প্রাকৃতিক

খাল, বিল ও নদী থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা মাছ পরিষ্কার করে লবণ মেখে রোদে শুকানো হয়। কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। স্থানীয়দের মতে, এ কারণেই নড়াইলের শুঁটকির চাহিদা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে।

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) থেকে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে আসা কাবির শেখ ও কামরুল শেখ জানান, তারা পুরো শীতজুড়ে কৈ, চাঁদা, চাপা শুঁটকি—এমন নানা প্রজাতির মাছ শুকিয়ে থাকেন। তাদের কথায়, “কোনো কেমিক্যাল নয়—শুধুই লবণ।”

====================================================================

মূল সমস্যা: বিক্রি আরও কঠিন

জেলে মোছা মিয়া বলেন, শীতে পানির পরিমাণ কমে গিয়ে মাছ ধরা সহজ হয়, ফলে কাঁচা মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। কিন্তু বাজারে পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ।

তার ভাষায়, “আমরা মাছ কিনে শুঁটকি বানাই। কিন্তু দালাল ছাড়া বিক্রি করা কঠিন। ক্রেতাদের কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারলে লাভ বাড়ত।”

আরেক জেলে অলোক বিশ্বাস জানান, দুই থেকে তিন মণ কাঁচা মাছ শুকিয়ে এক মণ হয়।
তিনি বলেন, “মাছভেদে এক মণ শুঁটকি ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকায় বিক্রি হয়।”

সরকারি লক্ষ্য ও বাড়তি সুনাম

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তার ভাষায়, “রাসায়নিকমুক্ত হওয়ার কারণে নড়াইলের শুঁটকির চাহিদা শুধু জেলার মধ্যেই নয়, সারাদেশেই বাড়ছে।”
মৎস্য অফিস উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে, যাতে মান বজায় রেখে তারা বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

শীতের রোদে বাঁশের মাচা যেন আশার আলো ছড়িয়ে দেয় নড়াইলের শত শত পরিবারের জন্য। পদ্ধতি সহজ, চ্যালেঞ্জ পুরনো—তবুও এই শুঁটকি বাণিজ্যই নড়াইলের অর্থনীতিকে সচল রাখে, এমনকি মৌসুম শেষ হওয়ার অনেক পরও।

#ট্যাগ: নড়াইল | শুঁটকি | মৎস্য | শীতকাল | অর্থনীতি