০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান ইরান ২০১৫ সালের চেয়ে ভিন্ন—এখন আইআরজিসির প্রভাব আরও বেশি ফতেহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, সক্ষমতা আরও জোরালো করল পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম, বুকসমান পানিতে অচল সড়ক—দুর্ভোগে নগরবাসী যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী, ২০২৬ সালে বাড়তে পারে ১৬% চট্টগ্রামে চার সামাজিক সংগঠনের হাতে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনুদান, তৃণমূলে উন্নয়নে জোর নেগেরি সেম্বিলানে ক্ষমতার টানাপোড়েন, আনোয়ার জোটে নতুন সংকট ‘দেশে জঙ্গি নেই’—এই বক্তব্য ভুল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: তথ্য উপদেষ্টা খালি পেটে ৪ ঘরোয়া পানীয়, ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহজ অভ্যাস স্বামীর ছুরিকাঘাতে সিলেটে গৃহবধূ নিহত, অভিযুক্ত পলাতক ২০২৬ সালের সেরা বইগুলো: ‘কিন’, ‘লন্ডন ফলিং’সহ আরও কিছু আলোচিত বই

অ লেট অটাম ড্রিম’: স্বাধীন প্রযোজকের ভরসায় প্রামতি আনন্দের প্রথম ছবি

স্টুডিওর বাইরের গল্পের জন্য নতুন শ্বাস
ভারতের স্বাধীন চলচ্চিত্র অঙ্গনে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতি হয়েছে, যখন প্রযোজনা সংস্থা প্লাটুন ওয়ান ফিল্মস ডেব্যু পরিচালক প্রামতি আনন্দের পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘অ লেট অটাম ড্রিম’–এর লিড প্রডিউসার হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রেড পত্রিকা ভ্যারাইটিতে প্রকাশিত এই খবর দেখাচ্ছে, বড় স্টুডিওর বাইরে থাকা এক নির্মাতা এখন অভিজ্ঞ ইন্ডি ব্যানারের সমর্থন পেলেন। এমন এক সময়ে, যখন পরিচালক-নির্ভর মাঝারি বাজেটের ছবির জন্য অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠেছে, কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রযোজকের হাতে প্রকল্পের নেতৃত্ব চলে যাওয়া ছবিকে কাগজ থেকে ক্যামেরায় আনার সম্ভাবনা অনেকটাই বদলে দেয়।

চিত্রনাট্য ও গল্পের বিস্তৃত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক ট্রেড মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকল্পটি সামনে আনার সিদ্ধান্ত থেকেই উৎসবভিত্তিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত মেলে। ভারতে বড় স্টুডিও ব্যবস্থার বাইরে যারা কাজ করেন, তাদের পরিচিত পথটি এখন এমনই: তুলনামূলক ছোট বাজেটের, চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প তৈরি, কোনো বড় উৎসবে বিশ্বপ্রিমিয়ার এবং তারপর সীমিত প্রেক্ষাগৃহ ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা। এখানে কোনো বিশ্বস্ত প্রযোজনা সংস্থার নেতৃত্ব পাওয়া মানে সরকারি ফান্ড, আঞ্চলিক ইনভেস্টর ও বিদেশি অংশীদারের সামনে প্রকল্পটি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা।

স্বাধীন প্রযোজকদের ভরসায় ভারতীয় সিনেমার ‘মধ্যবর্তী’ স্তর
গত দশকে ভারতীয় পর্দা অনেকটাই দুই মেরুতে ভাগ হয়েছে—একদিকে তারকা-নির্ভর ব্লকবাস্টার, অন্যদিকে বড় প্ল্যাটফর্মের ঝকঝকে ওয়েব সিরিজ। যে মাঝারি বাজেটের, শহুরে বা অঞ্চলভিত্তিক, কখনো আঙুলের ফাঁক গলে যাওয়া গল্পভিত্তিক সিনেমা একসময় মাল্টিপ্লেক্স দর্শকের ওপর ভর করে দাঁড়াত, তাদের জায়গা সঙ্কুচিত হয়েছে। মূলধারার স্টুডিওর কাছে এ ধরনের প্রকল্প বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, আবার একেবারে লো-বাজেট ধারার জন্যও প্রযোজনার খরচ অনেক বেশি।

India's Platoon One Films Boards Pramati Anand's 'A Late Autumn Dream' as  Lead Producer (EXCLUSIVE)

এ জায়গায় ছোট কিন্তু দক্ষ বুটিক প্রডাকশন হাউসগুলোর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। সীমিত টিম নিয়ে কাজ করা এসব প্রতিষ্ঠান একবার কোনো ডেব্যু প্রকল্পে যুক্ত হলে অনেক সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকে—স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট, টেস্ট শুট, এডিটের গতি, সাউন্ড ডিজাইন, পোস্টার ও ট্রেলার—সব ক্ষেত্রেই পরামর্শ ও মেন্টরশিপ দেয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য বা বিজ্ঞাপন থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্যে ওঠার সময় এই সহায়তা অনেক নির্মাতার জন্য নির্ণায়ক। ‘অ লেট অটাম ড্রিম’–এর ক্ষেত্রেও প্লাটুন ওয়ানের লিড-প্রডিউসার ভূমিকা একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়, যা কেবল অর্থ বিনিয়োগের চেয়েও বড়।

উৎসব, স্ট্রিমিং আর নরম শক্তির সম্ভাবনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট ছোট ভারতীয় উৎসব চলচ্চিত্রের কিছু উদাহরণ দেখা গেছে, যেগুলো আগে সীমিত পরিসরে আলোচিত হলেও পরবর্তীতে গ্লোবাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে “হিডেন জেম” হিসেবে নতুন দর্শক পেয়েছে। বক্স অফিস আয় সীমিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে মৌখিক প্রশংসা ও অ্যালগরিদমের সহায়তায় এসব ছবি নতুন দেশে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। একটি দেশ হিসেবে ভারতও এখন বুঝতে পারছে, সাংস্কৃতিক নরম শক্তি গড়ে তুলতে কেবল মূলধারার গান-নাচের ছবিই নয়, বরং স্বতন্ত্র শৈলী ও কণ্ঠের সিনেমাও জরুরি।

প্রামতি আনন্দের জন্য প্লাটুন ওয়ানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব মানে অভিজ্ঞ টেকনিক্যাল টিম, আন্তর্জাতিক ল্যাব, সেলস এজেন্ট ও কো-প্রডাকশন মার্কেটের দরজা খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা, যা একা পথে পাওয়া কঠিন। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্যও এই প্রকল্প আরেকটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া—ভারতীয় সিনেমা কেবল বলিউড ব্লকবাস্টারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বহু ধারার সমষ্টি। ‘অ লেট অটাম ড্রিম’ কাস্টিং, শুটিং ও উৎসব সার্কিটে এগোতে থাকলে দেখা যাবে, নিঃশব্দে প্রকাশিত একটি প্রযোজনা ঘোষণা কীভাবে কয়েক বছরের মধ্যে বহুল আলোচিত স্বাধীন ছবিগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান ইরান ২০১৫ সালের চেয়ে ভিন্ন—এখন আইআরজিসির প্রভাব আরও বেশি

অ লেট অটাম ড্রিম’: স্বাধীন প্রযোজকের ভরসায় প্রামতি আনন্দের প্রথম ছবি

০৬:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

স্টুডিওর বাইরের গল্পের জন্য নতুন শ্বাস
ভারতের স্বাধীন চলচ্চিত্র অঙ্গনে নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক অগ্রগতি হয়েছে, যখন প্রযোজনা সংস্থা প্লাটুন ওয়ান ফিল্মস ডেব্যু পরিচালক প্রামতি আনন্দের পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘অ লেট অটাম ড্রিম’–এর লিড প্রডিউসার হিসেবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্রেড পত্রিকা ভ্যারাইটিতে প্রকাশিত এই খবর দেখাচ্ছে, বড় স্টুডিওর বাইরে থাকা এক নির্মাতা এখন অভিজ্ঞ ইন্ডি ব্যানারের সমর্থন পেলেন। এমন এক সময়ে, যখন পরিচালক-নির্ভর মাঝারি বাজেটের ছবির জন্য অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠেছে, কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রযোজকের হাতে প্রকল্পের নেতৃত্ব চলে যাওয়া ছবিকে কাগজ থেকে ক্যামেরায় আনার সম্ভাবনা অনেকটাই বদলে দেয়।

চিত্রনাট্য ও গল্পের বিস্তৃত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক ট্রেড মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকল্পটি সামনে আনার সিদ্ধান্ত থেকেই উৎসবভিত্তিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত মেলে। ভারতে বড় স্টুডিও ব্যবস্থার বাইরে যারা কাজ করেন, তাদের পরিচিত পথটি এখন এমনই: তুলনামূলক ছোট বাজেটের, চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প তৈরি, কোনো বড় উৎসবে বিশ্বপ্রিমিয়ার এবং তারপর সীমিত প্রেক্ষাগৃহ ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা। এখানে কোনো বিশ্বস্ত প্রযোজনা সংস্থার নেতৃত্ব পাওয়া মানে সরকারি ফান্ড, আঞ্চলিক ইনভেস্টর ও বিদেশি অংশীদারের সামনে প্রকল্পটি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা।

স্বাধীন প্রযোজকদের ভরসায় ভারতীয় সিনেমার ‘মধ্যবর্তী’ স্তর
গত দশকে ভারতীয় পর্দা অনেকটাই দুই মেরুতে ভাগ হয়েছে—একদিকে তারকা-নির্ভর ব্লকবাস্টার, অন্যদিকে বড় প্ল্যাটফর্মের ঝকঝকে ওয়েব সিরিজ। যে মাঝারি বাজেটের, শহুরে বা অঞ্চলভিত্তিক, কখনো আঙুলের ফাঁক গলে যাওয়া গল্পভিত্তিক সিনেমা একসময় মাল্টিপ্লেক্স দর্শকের ওপর ভর করে দাঁড়াত, তাদের জায়গা সঙ্কুচিত হয়েছে। মূলধারার স্টুডিওর কাছে এ ধরনের প্রকল্প বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, আবার একেবারে লো-বাজেট ধারার জন্যও প্রযোজনার খরচ অনেক বেশি।

India's Platoon One Films Boards Pramati Anand's 'A Late Autumn Dream' as  Lead Producer (EXCLUSIVE)

এ জায়গায় ছোট কিন্তু দক্ষ বুটিক প্রডাকশন হাউসগুলোর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে। সীমিত টিম নিয়ে কাজ করা এসব প্রতিষ্ঠান একবার কোনো ডেব্যু প্রকল্পে যুক্ত হলে অনেক সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাশে থাকে—স্ক্রিপ্ট ডেভেলপমেন্ট, টেস্ট শুট, এডিটের গতি, সাউন্ড ডিজাইন, পোস্টার ও ট্রেলার—সব ক্ষেত্রেই পরামর্শ ও মেন্টরশিপ দেয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য বা বিজ্ঞাপন থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্যে ওঠার সময় এই সহায়তা অনেক নির্মাতার জন্য নির্ণায়ক। ‘অ লেট অটাম ড্রিম’–এর ক্ষেত্রেও প্লাটুন ওয়ানের লিড-প্রডিউসার ভূমিকা একই ধরনের পূর্ণাঙ্গ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়, যা কেবল অর্থ বিনিয়োগের চেয়েও বড়।

উৎসব, স্ট্রিমিং আর নরম শক্তির সম্ভাবনা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট ছোট ভারতীয় উৎসব চলচ্চিত্রের কিছু উদাহরণ দেখা গেছে, যেগুলো আগে সীমিত পরিসরে আলোচিত হলেও পরবর্তীতে গ্লোবাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে “হিডেন জেম” হিসেবে নতুন দর্শক পেয়েছে। বক্স অফিস আয় সীমিত হলেও দীর্ঘ সময় ধরে মৌখিক প্রশংসা ও অ্যালগরিদমের সহায়তায় এসব ছবি নতুন দেশে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। একটি দেশ হিসেবে ভারতও এখন বুঝতে পারছে, সাংস্কৃতিক নরম শক্তি গড়ে তুলতে কেবল মূলধারার গান-নাচের ছবিই নয়, বরং স্বতন্ত্র শৈলী ও কণ্ঠের সিনেমাও জরুরি।

প্রামতি আনন্দের জন্য প্লাটুন ওয়ানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব মানে অভিজ্ঞ টেকনিক্যাল টিম, আন্তর্জাতিক ল্যাব, সেলস এজেন্ট ও কো-প্রডাকশন মার্কেটের দরজা খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা, যা একা পথে পাওয়া কঠিন। দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্যও এই প্রকল্প আরেকটি স্মরণ করিয়ে দেওয়া—ভারতীয় সিনেমা কেবল বলিউড ব্লকবাস্টারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বহু ধারার সমষ্টি। ‘অ লেট অটাম ড্রিম’ কাস্টিং, শুটিং ও উৎসব সার্কিটে এগোতে থাকলে দেখা যাবে, নিঃশব্দে প্রকাশিত একটি প্রযোজনা ঘোষণা কীভাবে কয়েক বছরের মধ্যে বহুল আলোচিত স্বাধীন ছবিগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।