০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
খনিজ আছে, ক্ষমতা নেই: বিরল মৃত্তিকা সম্পদের খেলায় কেন পিছিয়ে পড়ছে মিয়ানমার সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি: জ্বালানি সহযোগিতার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত সমীকরণ স্বাধীনতা এক দিনের উৎসব নয়, প্রতিদিনের রাষ্ট্রচর্চা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে বেশি আগ্রহী: মার্কিন গোয়েন্দা দিল্লিতে বসতে চেয়েছিল পাকিস্তানের গণপরিষদ, আপত্তিতে ভেস্তে যায় জিন্নাহর পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবসের আয়োজনে মাসকটদের দুর্দান্ত নাচ, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় সিঙ্গাপুরের ৬০ হাজার তরুণের মতামতে বদলাচ্ছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুপ্রিম কোর্টের বাধা পেরিয়ে ফিরছে ট্রাম্পের শুল্ক, চাপে মার্কিন অর্থনীতি ও ভোক্তা সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি: ইরান, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মার্কিন ভোটারদের, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কার আশঙ্কা

ট্রাম্পের বারো বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে পারবে না

আমেরিকার কৃষকরা এ বছর ভয়াবহ লোকসান টানছেন। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন বারো বিলিয়ন ডলারের নতুন কৃষি সহায়তা। কৃষক সমাজ বলছে, এই সহায়তা স্বস্তি দিলেও বিপুল ক্ষতির সামনে এটি কেবল এক বছরের জন্য শ্বাস নেওয়ার সুযোগ, কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

কৃষকদের লোকসান আকাশছোঁয়া

এ বছর ভুট্টা, সয়াবিন, গম, চিনাবাদামসহ নয়টি প্রধান ফসল থেকে মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চুয়াল্লিশ বিলিয়ন ডলার। দাম কম, উৎপাদন খরচ বেশি এবং রপ্তানি আটকে যাওয়ায় কৃষকদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়েছে। শ্রমিক খরচ থেকে শুরু করে সার–বীজ—সব কিছুর দাম বেড়েছে। তার ওপর ট্রাম্পের বাণিজ্য বিরোধে সয়াবিনসহ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার ধসে পড়ে।

ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত সহায়তা জীবনরক্ষাকারী হলেও এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। তাদের মতে, এটি কেবল কৃষকদের পরের মৌসুম পর্যন্ত টেনে নেওয়ার সাময়িক সহায়তা।

সরকারের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কর ও ব্যয় সংক্রান্ত নতুন আইন কৃষকদের ভবিষ্যতে আরও বেশি সরকারি পেমেন্ট দেবে। তাদের দাবি, নতুন আইন অনুযায়ী ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে রেফারেন্স মূল্য ১০ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে, যা নিরাপত্তা জালের পেমেন্টকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু কৃষি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাড়তি সুবিধাও ঋণের পাহাড় ও ব্যয়স্ফীতি কাটিয়ে কৃষকদের টেকসই নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

অ্যামেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফার্মার ম্যাক-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, কৃষি ঋণদাতাদের অর্ধেকেরও বেশি মনে করছেন, ২০২৬ সালে তাদের ঋণগ্রহীতা কৃষকদের লাভে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।

বারো বিলিয়নের সহায়তা কেবলই ‘একটি সেতু’

ক্যানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ জেনিফার ইফট বলেছেন, এই সহায়তা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে যাবে, কিন্তু যারা আর্থিকভাবে ভয়াবহ চাপে আছেন, তাঁদের জন্য এটি কেবলই একটি সেতুবন্ধন। পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, কৃষকদের অর্ধেকেরও বেশি এই অর্থ ব্যয় করবেন ঋণ শোধে, নতুন যন্ত্র কেনা বা পুঁজি বিনিয়োগে নয়।

সয়াবিনের ধাক্কা সামলানো কঠিন

চীন মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমেরিকার সমস্ত সয়াবিন আমদানি বন্ধ রাখে। এর ফলে কৃষকরা পিক সিজনের শুরুতেই কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাজার হারান। বিশ্লেষকদের মতে, এই চাহিদা আর ফিরে আসবে না। সহায়তা প্যাকেজ সয়াবিন ক্ষতির মাত্র এক-চতুর্থাংশ পূরণ করতে পারবে।

সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যালেব র‍্যাগল্যান্ড বলেন, অর্থ সহায়তা প্রয়োজনীয় হলেও এটি শুধু “রক্তক্ষরণ ধীরে করা” ছাড়া আর কিছুই নয়।

সবচেয়ে পিছিয়ে সবজি ও ফলের কৃষকরা

বারো বিলিয়নের মধ্যে মাত্র এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ আছে ফল ও সবজি উৎপাদনকারীদের জন্য। আলুর কৃষকদের ক্ষতি শুধু রাশেট আলুতেই প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার। জাতীয় পটেটো কাউন্সিলের প্রধান কাম কোয়ার্লস বলছেন, এই বিভাগে সহায়তা মোটেও যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, “প্রয়োজন আরও অনেক বেশি।”

ট্রাম্পের আগের মেয়াদে দুই বছরে তেইশ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিছু অঞ্চলে বেশি অর্থ পাওয়ার সমালোচনাও ওঠে। তবে নতুন সহায়তা বণ্টন হবে জমির পরিমাণ, উৎপাদন খরচ এবং অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী।

#আমেরিকা #কৃষি #ট্রাম্প #সহায়তা #সয়াবিন #ফসলসংকট #যুক্তরাষ্ট্রঅর্থনীতি #কৃষকসংকট #রপ্তানিবিরোধ #ফার্মঅর্থনীতি

জনপ্রিয় সংবাদ

খনিজ আছে, ক্ষমতা নেই: বিরল মৃত্তিকা সম্পদের খেলায় কেন পিছিয়ে পড়ছে মিয়ানমার

ট্রাম্পের বারো বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে পারবে না

০৪:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

আমেরিকার কৃষকরা এ বছর ভয়াবহ লোকসান টানছেন। এর মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন বারো বিলিয়ন ডলারের নতুন কৃষি সহায়তা। কৃষক সমাজ বলছে, এই সহায়তা স্বস্তি দিলেও বিপুল ক্ষতির সামনে এটি কেবল এক বছরের জন্য শ্বাস নেওয়ার সুযোগ, কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

কৃষকদের লোকসান আকাশছোঁয়া

এ বছর ভুট্টা, সয়াবিন, গম, চিনাবাদামসহ নয়টি প্রধান ফসল থেকে মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় পঁয়ত্রিশ থেকে চুয়াল্লিশ বিলিয়ন ডলার। দাম কম, উৎপাদন খরচ বেশি এবং রপ্তানি আটকে যাওয়ায় কৃষকদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হয়েছে। শ্রমিক খরচ থেকে শুরু করে সার–বীজ—সব কিছুর দাম বেড়েছে। তার ওপর ট্রাম্পের বাণিজ্য বিরোধে সয়াবিনসহ গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার ধসে পড়ে।

ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত সহায়তা জীবনরক্ষাকারী হলেও এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। তাদের মতে, এটি কেবল কৃষকদের পরের মৌসুম পর্যন্ত টেনে নেওয়ার সাময়িক সহায়তা।

সরকারের লক্ষ্য ও বাস্তবতা

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কর ও ব্যয় সংক্রান্ত নতুন আইন কৃষকদের ভবিষ্যতে আরও বেশি সরকারি পেমেন্ট দেবে। তাদের দাবি, নতুন আইন অনুযায়ী ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে রেফারেন্স মূল্য ১০ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে, যা নিরাপত্তা জালের পেমেন্টকে আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু কৃষি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাড়তি সুবিধাও ঋণের পাহাড় ও ব্যয়স্ফীতি কাটিয়ে কৃষকদের টেকসই নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

অ্যামেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ফার্মার ম্যাক-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, কৃষি ঋণদাতাদের অর্ধেকেরও বেশি মনে করছেন, ২০২৬ সালে তাদের ঋণগ্রহীতা কৃষকদের লাভে ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।

বারো বিলিয়নের সহায়তা কেবলই ‘একটি সেতু’

ক্যানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ জেনিফার ইফট বলেছেন, এই সহায়তা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে যাবে, কিন্তু যারা আর্থিকভাবে ভয়াবহ চাপে আছেন, তাঁদের জন্য এটি কেবলই একটি সেতুবন্ধন। পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, কৃষকদের অর্ধেকেরও বেশি এই অর্থ ব্যয় করবেন ঋণ শোধে, নতুন যন্ত্র কেনা বা পুঁজি বিনিয়োগে নয়।

সয়াবিনের ধাক্কা সামলানো কঠিন

চীন মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমেরিকার সমস্ত সয়াবিন আমদানি বন্ধ রাখে। এর ফলে কৃষকরা পিক সিজনের শুরুতেই কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাজার হারান। বিশ্লেষকদের মতে, এই চাহিদা আর ফিরে আসবে না। সহায়তা প্যাকেজ সয়াবিন ক্ষতির মাত্র এক-চতুর্থাংশ পূরণ করতে পারবে।

সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যালেব র‍্যাগল্যান্ড বলেন, অর্থ সহায়তা প্রয়োজনীয় হলেও এটি শুধু “রক্তক্ষরণ ধীরে করা” ছাড়া আর কিছুই নয়।

সবচেয়ে পিছিয়ে সবজি ও ফলের কৃষকরা

বারো বিলিয়নের মধ্যে মাত্র এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ আছে ফল ও সবজি উৎপাদনকারীদের জন্য। আলুর কৃষকদের ক্ষতি শুধু রাশেট আলুতেই প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার। জাতীয় পটেটো কাউন্সিলের প্রধান কাম কোয়ার্লস বলছেন, এই বিভাগে সহায়তা মোটেও যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, “প্রয়োজন আরও অনেক বেশি।”

ট্রাম্পের আগের মেয়াদে দুই বছরে তেইশ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। কিছু অঞ্চলে বেশি অর্থ পাওয়ার সমালোচনাও ওঠে। তবে নতুন সহায়তা বণ্টন হবে জমির পরিমাণ, উৎপাদন খরচ এবং অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী।

#আমেরিকা #কৃষি #ট্রাম্প #সহায়তা #সয়াবিন #ফসলসংকট #যুক্তরাষ্ট্রঅর্থনীতি #কৃষকসংকট #রপ্তানিবিরোধ #ফার্মঅর্থনীতি