০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ অভিভাবকহীন এক পরিবার: অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তারের পর ভাইবোনদের কাঁধে সংসারের ভার নাগরিক উদ্যোগে কঠোরতা: যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোটাধিকার নিয়ে নতুন লড়াই ভ্যান্সের কূটনৈতিক পরীক্ষা: যুদ্ধবিরতির সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন মোড় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে বিশ্ব রাজনীতিতে ধাক্কা, আস্থার সংকটে আমেরিকার নেতৃত্ব নেটো জোটে ভাঙনের আশঙ্কা: ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা কিউবায় ক্ষোভ বাড়ছে, তবু বিদ্রোহের সম্ভাবনা কম—সংকটে জর্জরিত দ্বীপে নতুন বাস্তবতা জার্মানিতে চরম ডানপন্থার উত্থান: ক্ষমতায় এলে কেমন বদলাবে সমাজ ও রাজনীতি এশিয়ার খাদ্যভাণ্ডারে ধাক্কা: জ্বালানি ও সার সংকটে বিপর্যস্ত মেকং ডেল্টা নেতানিয়াহুর লক্ষ্য এখনও অসম্পূর্ণ, যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কমেনি মধ্যপ্রাচ্যে

জেলেনস্কির ট্রাম্প আহ্বান: ভূখণ্ড প্রশ্নে শীর্ষ বৈঠক ছাড়া শান্তি অসম্ভব

ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ভূখণ্ড। এই প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সাম্প্রতিক আলোচনার পর তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির কাঠামো প্রায় প্রস্তুত হলেও ভূখণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যা কেবল শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেই মীমাংসা সম্ভব।

মিয়ামিতে হওয়া আলোচনার অগ্রগতি
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন প্রতিনিধিদল একটি বিশ দফা কাঠামো পরিকল্পনার দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। এটি যুদ্ধ শেষ করার একটি ভিত্তিমূলক রাজনৈতিক নথি, যেখানে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। জেলেনস্কি বলেন, সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে নেতৃপর্যায়ের বৈঠক প্রয়োজন, বিশেষ করে ভূখণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্নে।

ভূখণ্ড প্রশ্নে জটিলতা
এই আলোচনায় সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে ভূখণ্ড। ইউক্রেনের প্রস্তাব বর্তমান যুদ্ধরেখা যেখানে আছে, সেখানেই সংঘর্ষ থামানো। অন্যদিকে রাশিয়া চায় ইউক্রেন পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, যার একটি বড় অংশ এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানগুলোর মধ্যে সমঝোতা খুঁজতে নিরস্ত্রীকৃত এলাকা বা মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা নিয়ে আলোচনা করছে।

নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা
জেলেনস্কি জানান, নতুন বিশ দফা কাঠামো আগের আটাশ দফা প্রস্তাবের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। এই পরিকল্পনায় ইউক্রেন তার বর্তমান প্রায় আট লাখ সেনার সামরিক শক্তি বজায় রাখতে পারবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে পৃথক নথির মাধ্যমে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য আগ্রাসন পুনরায় শুরু হলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তারও নির্দিষ্ট কাঠামো থাকবে।

পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
যুদ্ধোত্তর ইউক্রেন পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। অবকাঠামো পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে একাধিক নথি নিয়ে কাজ চলছে। জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউক্রেন সেখানে একটি সীমিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, তবে বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

পরবর্তী পদক্ষেপ
জেলেনস্কি বলেন, নতুন কাঠামো প্রস্তাব রাশিয়া পর্যালোচনা করবে। এরপরই নির্ধারিত হবে পরবর্তী ধাপ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদি সব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে বর্তমান অবস্থানে যুদ্ধ থামানো যায়, তবে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। নচেৎ যুদ্ধ চলতে পারে অথবা সব সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারিসের মৃতদের শহরে নতুন আলো, সংস্কারে ফিরল রহস্যময় ক্যাটাকম্বসের প্রাণ

জেলেনস্কির ট্রাম্প আহ্বান: ভূখণ্ড প্রশ্নে শীর্ষ বৈঠক ছাড়া শান্তি অসম্ভব

১২:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ভূখণ্ড। এই প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সাম্প্রতিক আলোচনার পর তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির কাঠামো প্রায় প্রস্তুত হলেও ভূখণ্ড নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, যা কেবল শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেই মীমাংসা সম্ভব।

মিয়ামিতে হওয়া আলোচনার অগ্রগতি
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন প্রতিনিধিদল একটি বিশ দফা কাঠামো পরিকল্পনার দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। এটি যুদ্ধ শেষ করার একটি ভিত্তিমূলক রাজনৈতিক নথি, যেখানে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। জেলেনস্কি বলেন, সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে নেতৃপর্যায়ের বৈঠক প্রয়োজন, বিশেষ করে ভূখণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্নে।

ভূখণ্ড প্রশ্নে জটিলতা
এই আলোচনায় সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ইস্যু রয়ে গেছে ভূখণ্ড। ইউক্রেনের প্রস্তাব বর্তমান যুদ্ধরেখা যেখানে আছে, সেখানেই সংঘর্ষ থামানো। অন্যদিকে রাশিয়া চায় ইউক্রেন পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করুক, যার একটি বড় অংশ এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে। যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানগুলোর মধ্যে সমঝোতা খুঁজতে নিরস্ত্রীকৃত এলাকা বা মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা নিয়ে আলোচনা করছে।

নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা
জেলেনস্কি জানান, নতুন বিশ দফা কাঠামো আগের আটাশ দফা প্রস্তাবের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। এই পরিকল্পনায় ইউক্রেন তার বর্তমান প্রায় আট লাখ সেনার সামরিক শক্তি বজায় রাখতে পারবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে পৃথক নথির মাধ্যমে শক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য আগ্রাসন পুনরায় শুরু হলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তারও নির্দিষ্ট কাঠামো থাকবে।

পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
যুদ্ধোত্তর ইউক্রেন পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। অবকাঠামো পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে একাধিক নথি নিয়ে কাজ চলছে। জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইউক্রেন সেখানে একটি সীমিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, তবে বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

পরবর্তী পদক্ষেপ
জেলেনস্কি বলেন, নতুন কাঠামো প্রস্তাব রাশিয়া পর্যালোচনা করবে। এরপরই নির্ধারিত হবে পরবর্তী ধাপ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যদি সব অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করে বর্তমান অবস্থানে যুদ্ধ থামানো যায়, তবে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। নচেৎ যুদ্ধ চলতে পারে অথবা সব সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।