০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর পশ্চিমবঙ্গের ৮৭ বছরের মম্মথ নাথের ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া, যদি তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় মধ্যবিত্তের ভঙ্গুরতা বাড়ছে শান্তি আলোচনার নামে ব্যবসায়িক কৌশল, ইরান যুদ্ধ দেখাল কূটনীতির ভয়াবহ ব্যর্থতা

চীনের যুদ্ধমহড়ায় ঘিরে ফেলা তাইওয়ান, আকাশ ও সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শনের নতুন বার্তা

তাইওয়ানকে ঘিরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। আকাশ, সমুদ্র ও উপকূলজুড়ে একযোগে চালানো এই যুদ্ধাভ্যাসে সরাসরি গোলাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং অবরোধের মহড়া দেখা গেছে। বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ তারা সহ্য করবে না।

লাইভ ফায়ার মহড়ায় উত্তেজনা

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের নেতৃত্বে টানা প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে এই লাইভ ফায়ার মহড়া চালানো হয়। তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ উপকূলের কাছের জলসীমায় রকেট নিক্ষেপ করা হয়। নৌ ও বিমান বাহিনী একযোগে সমুদ্র ও আকাশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের অনুশীলন চালায়। পাশাপাশি সাবমেরিন প্রতিরোধ মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে নতুন যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার প্রদর্শন করা হয়েছে

অবরোধের অনুশীলন ও বার্তা

এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ন্যায়বিচার অভিযান দুই হাজার পঁচিশ। এর মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে তাইওয়ানকে অবরুদ্ধ করার সক্ষমতা যাচাই। চীনের বক্তব্য, দ্বীপটির প্রধান বন্দর ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণে নিলে তাইওয়ান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। প্রথমবারের মতো চীনা সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য বাইরের শক্তিকে ভয় দেখানো।

China encircles Taiwan in massive military display

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইপে বলছে, চীন এই মহড়ার মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার অনুশীলন করেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই অন্তত একাত্তরটি চীনা সামরিক বিমান ও চব্বিশটি যুদ্ধজাহাজ দ্বীপটির আশপাশে সক্রিয় ছিল। যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায় না এবং সেনারা দ্বীপ রক্ষায় প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উদ্বেগ

এই সামরিক তৎপরতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। মার্কিন কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, এটি পরিকল্পিত উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইউরোপীয় পক্ষও তাইওয়ান প্রণালীর বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বাণিজ্যপথে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ যাতায়াত করে তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে। এই মহড়ার কারণে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ কিছু আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন দুই হাজার সাতাশ সালের মধ্যে পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতির লক্ষ্যেই এমন শক্তি প্রদর্শন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু

চীনের যুদ্ধমহড়ায় ঘিরে ফেলা তাইওয়ান, আকাশ ও সমুদ্রে শক্তি প্রদর্শনের নতুন বার্তা

১২:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

তাইওয়ানকে ঘিরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। আকাশ, সমুদ্র ও উপকূলজুড়ে একযোগে চালানো এই যুদ্ধাভ্যাসে সরাসরি গোলাবর্ষণ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং অবরোধের মহড়া দেখা গেছে। বেইজিং স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো বাইরের হস্তক্ষেপ তারা সহ্য করবে না।

লাইভ ফায়ার মহড়ায় উত্তেজনা

চীনের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের নেতৃত্বে টানা প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে এই লাইভ ফায়ার মহড়া চালানো হয়। তাইওয়ানের উত্তর ও দক্ষিণ উপকূলের কাছের জলসীমায় রকেট নিক্ষেপ করা হয়। নৌ ও বিমান বাহিনী একযোগে সমুদ্র ও আকাশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের অনুশীলন চালায়। পাশাপাশি সাবমেরিন প্রতিরোধ মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে নতুন যুদ্ধজাহাজ ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থার প্রদর্শন করা হয়েছে

অবরোধের অনুশীলন ও বার্তা

এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ন্যায়বিচার অভিযান দুই হাজার পঁচিশ। এর মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে তাইওয়ানকে অবরুদ্ধ করার সক্ষমতা যাচাই। চীনের বক্তব্য, দ্বীপটির প্রধান বন্দর ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণে নিলে তাইওয়ান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। প্রথমবারের মতো চীনা সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে জানিয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য বাইরের শক্তিকে ভয় দেখানো।

China encircles Taiwan in massive military display

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইপে বলছে, চীন এই মহড়ার মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার অনুশীলন করেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই অন্তত একাত্তরটি চীনা সামরিক বিমান ও চব্বিশটি যুদ্ধজাহাজ দ্বীপটির আশপাশে সক্রিয় ছিল। যদিও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায় না এবং সেনারা দ্বীপ রক্ষায় প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের উদ্বেগ

এই সামরিক তৎপরতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। মার্কিন কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, এটি পরিকল্পিত উত্তেজনা বৃদ্ধি। ইউরোপীয় পক্ষও তাইওয়ান প্রণালীর বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বাণিজ্যপথে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ যাতায়াত করে তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে। এই মহড়ার কারণে তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ কিছু আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন দুই হাজার সাতাশ সালের মধ্যে পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতির লক্ষ্যেই এমন শক্তি প্রদর্শন করছে।