চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতের আদেশ ও শুনানির প্রক্রিয়া
সোমবার ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, যা জেলা ও দায়রা জজ আদালত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, বিচার শুরুর লক্ষ্যে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে করে সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বর্তমান অবস্থা
এই আলোচিত হত্যা মামলা চলতি মাসের ৭ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজের আদালত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলার অভিযোগপত্রে মোট ৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, এর মধ্যে এখনো ১৬ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি
অভিযোগ গঠনের শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। টেরি বাজার, লালদীঘির পাড়, জেল রোড, কোতোয়ালী মোড়, জহুর হকার মার্কেট, হাজারী গলি ও কে সি দে রোডসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালত ভবনের প্রধান প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমকর্মীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল আদালত এলাকায় পৌঁছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।
ঘটনার পটভূমি
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন চট্টগ্রামের আদালত নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর পর যে বিক্ষোভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডই পরবর্তীতে চট্টগ্রামের অন্যতম আলোচিত মামলায় রূপ নেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















