যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নতুন শুল্ক হুমকিকে কেন্দ্র করে সপ্তাহের শুরুতেই এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। ইউরোপের একাধিক দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ বিনিয়োগের পথে হাঁটছেন।
এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে নেতিবাচক চাপ
সোমবার এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজার গুলোতে বিক্রির চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাপানের নিক্কেই সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, একই সঙ্গে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামগ্রিক সূচক ও দুর্বল থাকে। ইউরোপের বাজারেও একই ছবি দেখা যায়, যেখানে প্রধান ফিউচার সূচকগুলোতে পতন লক্ষ্য করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির কারণে লেনদেন কম থাকলেও ফিউচার বাজারে স্পষ্ট নেতিবাচক ইঙ্গিত ছিল।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক হুমকি
ডেনমার্ক সহ ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়িয়ে জুনে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রসঙ্গ ঘিরে এই শুল্ক হুমকিকে ইউরোপের শীর্ষ নেতারা রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল হিসেবে দেখছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কঠোর অর্থনৈতিক জবাবের কথা ভাবছে।

ইউরোপের পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বড় অঙ্কের শুল্ক আরোপের বিকল্প রয়েছে, যা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও আবার কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি ইউরোপের হাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অঙ্কের বন্ড ও শেয়ার বিনিয়োগও বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পণ্য বাণিজ্যের চেয়ে পুঁজি প্রত্যাহার বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
ডলার দুর্বল, স্বর্ণে নতুন রেকর্ড
এই অস্থিরতার মধ্যে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণ ও রুপার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। স্বর্ণ ও রুপা দুটিই নতুন সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করে।

চীনের মিশ্র অর্থনৈতিক চিত্র
এশিয়ার নেতিবাচক প্রবণতার মাঝেও চীনের বাজার কিছুটা ব্যতিক্রমী আচরণ করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলেও ভোক্তা ব্যয়ের দুর্বলতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শিল্প উৎপাদন শক্তিশালী থাকলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনও চাপে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।
মুদ্রানীতি ও বৈশ্বিক দৃষ্টি
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি ও ভোক্তা ব্যয়ের তথ্য বাজারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিনিয়োগকারীরা সুদের হার কমানোর সময়সূচি নিয়ে নতুন করে হিসাব কষছেন। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















