বুলগেরিয়ার প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছয় হাজার বছর আগের এক যুবকের কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন, যিনি ভয়ংকর এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, সেই প্রাণীটি ছিল একটি সিংহ। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ ও বড় শিকারি প্রাণীর মুখোমুখি সংঘর্ষের এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোথায় ও কীভাবে মিলল কঙ্কাল
বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের থ্রেস অঞ্চলে শেষ এনিওলিথিক যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রে এই আবিষ্কার হয়। কৃষ্ণসাগরের উপকূলের কাছে কোজারেভা মোগিলা বা গোট মাউন্ড নামে পরিচিত স্থানের আশপাশে কঙ্কালটি পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে।

যুবকের পরিচয় ও শারীরিক গঠন
গবেষণায় জানা গেছে, ওই ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০০ থেকে ৪২০০ সালের মধ্যে বসবাস করতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চিরও বেশি।
আক্রমণের চিহ্ন ও বেঁচে থাকার প্রমাণ
কঙ্কাল বিশ্লেষণে মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষত গভীর ছিদ্রের মতো, যা বড় আকারের মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আঘাতগুলোর চিহ্ন সেরে ওঠার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, কৈশোর বয়সে এই ভয়াবহ আক্রমণ ঘটলেও যুবকটি তখন বেঁচে যান।
সেই সময় বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি
বুলগেরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের জীবাশ্মবিদ নাদেজদা কারাস্তোইয়ানোভা জানিয়েছেন, শেষ এনিওলিথিক যুগে পূর্ব বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি ছিল। তিনি সহকর্মী ভেসেলিন দানোভ, পেত্যা পেত্রোভা ও ভিক্টোরিয়া রুসেভার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাণীবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন।

প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনে সিংহের চিহ্ন
গবেষকদের তথ্যমতে, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক স্থানে এখন পর্যন্ত পনেরটিরও বেশি সিংহের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এর কিছুতে কাটার দাগ রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ সিংহ শিকার করত এবং তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাত করত।
কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের ওপর প্রাণীর আক্রমণের সরাসরি কঙ্কালভিত্তিক প্রমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। সে কারণে এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে মানুষ ও শিকারি প্রাণীর সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এক বিরল ও মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















