১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি তাইওয়ানের বৃহৎ যুদ্ধমহড়া শুরু, যুদ্ধক্ষেত্রের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় নতুন কৌশলের পরীক্ষা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ইউরোপযাত্রা: স্থিতিশীলতার পরীক্ষায় দেশীয় নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্ন জ্বালানি নিরাপত্তায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ছে ভারত, গ্যাস ব্যবহারকারীদের ওপর নতুন শুল্কের পরিকল্পনা ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ, প্রায় ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বলল মেক্সিকোর শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি সাইবার প্রতারণা দমনে কঠোর আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান অনুমোদন করল মিয়ানমারের জান্তা যুক্তরাষ্ট্রের ছাতার নিচে কতটা নিরাপদ জাপানের ইয়েন? রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১৭ মিয়ানমারের পাহাড়ে শুরু হয়েছে ২১ শতকের নতুন ‘গ্রেট গেম’  ও বাংলাদেশ   

ছয় হাজার বছর আগে সিংহের আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এক যুবক, বুলগেরিয়ায় বিরল আবিষ্কার

বুলগেরিয়ার প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছয় হাজার বছর আগের এক যুবকের কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন, যিনি ভয়ংকর এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, সেই প্রাণীটি ছিল একটি সিংহ। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ ও বড় শিকারি প্রাণীর মুখোমুখি সংঘর্ষের এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোথায় ও কীভাবে মিলল কঙ্কাল
বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের থ্রেস অঞ্চলে শেষ এনিওলিথিক যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রে এই আবিষ্কার হয়। কৃষ্ণসাগরের উপকূলের কাছে কোজারেভা মোগিলা বা গোট মাউন্ড নামে পরিচিত স্থানের আশপাশে কঙ্কালটি পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে।

২০০৩ সালে উদ্ধারকৃত ছয় ইঞ্চি কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

যুবকের পরিচয় ও শারীরিক গঠন
গবেষণায় জানা গেছে, ওই ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০০ থেকে ৪২০০ সালের মধ্যে বসবাস করতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চিরও বেশি।

আক্রমণের চিহ্ন ও বেঁচে থাকার প্রমাণ
কঙ্কাল বিশ্লেষণে মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষত গভীর ছিদ্রের মতো, যা বড় আকারের মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আঘাতগুলোর চিহ্ন সেরে ওঠার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, কৈশোর বয়সে এই ভয়াবহ আক্রমণ ঘটলেও যুবকটি তখন বেঁচে যান।

সেই সময় বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি
বুলগেরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের জীবাশ্মবিদ নাদেজদা কারাস্তোইয়ানোভা জানিয়েছেন, শেষ এনিওলিথিক যুগে পূর্ব বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি ছিল। তিনি সহকর্মী ভেসেলিন দানোভ, পেত্যা পেত্রোভা ও ভিক্টোরিয়া রুসেভার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাণীবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন।

সারা বিশ্বে এখনও কতো সিংহ বেঁচে আছে: ৯টি তথ্য যা হয়তো আপনার জানা নেই - BBC  News বাংলা

প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনে সিংহের চিহ্ন
গবেষকদের তথ্যমতে, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক স্থানে এখন পর্যন্ত পনেরটিরও বেশি সিংহের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এর কিছুতে কাটার দাগ রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ সিংহ শিকার করত এবং তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাত করত।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের ওপর প্রাণীর আক্রমণের সরাসরি কঙ্কালভিত্তিক প্রমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। সে কারণে এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে মানুষ ও শিকারি প্রাণীর সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এক বিরল ও মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ ও বাব এল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা কাটেনি

ছয় হাজার বছর আগে সিংহের আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এক যুবক, বুলগেরিয়ায় বিরল আবিষ্কার

১২:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বুলগেরিয়ার প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছয় হাজার বছর আগের এক যুবকের কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন, যিনি ভয়ংকর এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, সেই প্রাণীটি ছিল একটি সিংহ। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ ও বড় শিকারি প্রাণীর মুখোমুখি সংঘর্ষের এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোথায় ও কীভাবে মিলল কঙ্কাল
বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের থ্রেস অঞ্চলে শেষ এনিওলিথিক যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রে এই আবিষ্কার হয়। কৃষ্ণসাগরের উপকূলের কাছে কোজারেভা মোগিলা বা গোট মাউন্ড নামে পরিচিত স্থানের আশপাশে কঙ্কালটি পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে।

২০০৩ সালে উদ্ধারকৃত ছয় ইঞ্চি কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

যুবকের পরিচয় ও শারীরিক গঠন
গবেষণায় জানা গেছে, ওই ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০০ থেকে ৪২০০ সালের মধ্যে বসবাস করতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চিরও বেশি।

আক্রমণের চিহ্ন ও বেঁচে থাকার প্রমাণ
কঙ্কাল বিশ্লেষণে মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষত গভীর ছিদ্রের মতো, যা বড় আকারের মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আঘাতগুলোর চিহ্ন সেরে ওঠার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, কৈশোর বয়সে এই ভয়াবহ আক্রমণ ঘটলেও যুবকটি তখন বেঁচে যান।

সেই সময় বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি
বুলগেরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের জীবাশ্মবিদ নাদেজদা কারাস্তোইয়ানোভা জানিয়েছেন, শেষ এনিওলিথিক যুগে পূর্ব বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি ছিল। তিনি সহকর্মী ভেসেলিন দানোভ, পেত্যা পেত্রোভা ও ভিক্টোরিয়া রুসেভার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাণীবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন।

সারা বিশ্বে এখনও কতো সিংহ বেঁচে আছে: ৯টি তথ্য যা হয়তো আপনার জানা নেই - BBC  News বাংলা

প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনে সিংহের চিহ্ন
গবেষকদের তথ্যমতে, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক স্থানে এখন পর্যন্ত পনেরটিরও বেশি সিংহের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এর কিছুতে কাটার দাগ রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ সিংহ শিকার করত এবং তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাত করত।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের ওপর প্রাণীর আক্রমণের সরাসরি কঙ্কালভিত্তিক প্রমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। সে কারণে এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে মানুষ ও শিকারি প্রাণীর সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এক বিরল ও মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।