০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্যারিসের ছোট ঘরে নতুন জীবন: ভাঙা সংসার থেকে নিজের পথে ক্লোইর সাহসী যাত্রা সবচেয়ে কার্যকর মেনোপজ ফিটনেস কৌশল চাঁদের আড়াল থেকে পৃথিবীর বিদায়: ইতিহাসে প্রথমবার দেখা গেল অনন্য সূর্যগ্রহণ ফ্যাশন ও প্রযুক্তির নতুন জোট: স্মার্ট চশমা থেকে ফিফথ অ্যাভিনিউ—নতুন যুগের শুরু বেগুনি রঙের জাদুতে বিশ্বজয়: খাবারের দুনিয়ায় উবের উত্থানের গল্প সময়ের নতুন ভাষা: আধুনিক ঘড়িতে ফিরে এলো ইতিহাসের স্পন্দন স্মৃতির শহর হারিয়ে যাচ্ছে: বোম্বে নিয়ে ডিএজি প্রদর্শনীতে উঠে এল বিস্মৃত ইতিহাস তারকার ঝলক ছাপিয়ে গয়নার জাদু: রেড কার্পেটে নতুন ট্রেন্ডের গল্প ডিলান–লেননের লিমুজিন আলাপ: সঙ্গীতের বন্ধুত্ব, দ্বন্দ্ব আর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রোটিন আতঙ্ক নাকি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন?

ছয় হাজার বছর আগে সিংহের আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এক যুবক, বুলগেরিয়ায় বিরল আবিষ্কার

বুলগেরিয়ার প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছয় হাজার বছর আগের এক যুবকের কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন, যিনি ভয়ংকর এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, সেই প্রাণীটি ছিল একটি সিংহ। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ ও বড় শিকারি প্রাণীর মুখোমুখি সংঘর্ষের এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোথায় ও কীভাবে মিলল কঙ্কাল
বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের থ্রেস অঞ্চলে শেষ এনিওলিথিক যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রে এই আবিষ্কার হয়। কৃষ্ণসাগরের উপকূলের কাছে কোজারেভা মোগিলা বা গোট মাউন্ড নামে পরিচিত স্থানের আশপাশে কঙ্কালটি পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে।

২০০৩ সালে উদ্ধারকৃত ছয় ইঞ্চি কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

যুবকের পরিচয় ও শারীরিক গঠন
গবেষণায় জানা গেছে, ওই ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০০ থেকে ৪২০০ সালের মধ্যে বসবাস করতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চিরও বেশি।

আক্রমণের চিহ্ন ও বেঁচে থাকার প্রমাণ
কঙ্কাল বিশ্লেষণে মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষত গভীর ছিদ্রের মতো, যা বড় আকারের মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আঘাতগুলোর চিহ্ন সেরে ওঠার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, কৈশোর বয়সে এই ভয়াবহ আক্রমণ ঘটলেও যুবকটি তখন বেঁচে যান।

সেই সময় বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি
বুলগেরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের জীবাশ্মবিদ নাদেজদা কারাস্তোইয়ানোভা জানিয়েছেন, শেষ এনিওলিথিক যুগে পূর্ব বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি ছিল। তিনি সহকর্মী ভেসেলিন দানোভ, পেত্যা পেত্রোভা ও ভিক্টোরিয়া রুসেভার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাণীবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন।

সারা বিশ্বে এখনও কতো সিংহ বেঁচে আছে: ৯টি তথ্য যা হয়তো আপনার জানা নেই - BBC  News বাংলা

প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনে সিংহের চিহ্ন
গবেষকদের তথ্যমতে, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক স্থানে এখন পর্যন্ত পনেরটিরও বেশি সিংহের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এর কিছুতে কাটার দাগ রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ সিংহ শিকার করত এবং তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাত করত।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের ওপর প্রাণীর আক্রমণের সরাসরি কঙ্কালভিত্তিক প্রমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। সে কারণে এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে মানুষ ও শিকারি প্রাণীর সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এক বিরল ও মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারিসের ছোট ঘরে নতুন জীবন: ভাঙা সংসার থেকে নিজের পথে ক্লোইর সাহসী যাত্রা

ছয় হাজার বছর আগে সিংহের আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এক যুবক, বুলগেরিয়ায় বিরল আবিষ্কার

১২:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

বুলগেরিয়ার প্রত্নতত্ত্ববিদরা ছয় হাজার বছর আগের এক যুবকের কঙ্কাল আবিষ্কার করেছেন, যিনি ভয়ংকর এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। গবেষকদের ধারণা, সেই প্রাণীটি ছিল একটি সিংহ। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ ও বড় শিকারি প্রাণীর মুখোমুখি সংঘর্ষের এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কোথায় ও কীভাবে মিলল কঙ্কাল
বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলের থ্রেস অঞ্চলে শেষ এনিওলিথিক যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রে এই আবিষ্কার হয়। কৃষ্ণসাগরের উপকূলের কাছে কোজারেভা মোগিলা বা গোট মাউন্ড নামে পরিচিত স্থানের আশপাশে কঙ্কালটি পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীতে।

২০০৩ সালে উদ্ধারকৃত ছয় ইঞ্চি কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

যুবকের পরিচয় ও শারীরিক গঠন
গবেষণায় জানা গেছে, ওই ব্যক্তি খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০০ থেকে ৪২০০ সালের মধ্যে বসবাস করতেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল আনুমানিক ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা ছিল পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চিরও বেশি।

আক্রমণের চিহ্ন ও বেঁচে থাকার প্রমাণ
কঙ্কাল বিশ্লেষণে মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষত গভীর ছিদ্রের মতো, যা বড় আকারের মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আঘাতগুলোর চিহ্ন সেরে ওঠার প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, কৈশোর বয়সে এই ভয়াবহ আক্রমণ ঘটলেও যুবকটি তখন বেঁচে যান।

সেই সময় বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি
বুলগেরিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের জীবাশ্মবিদ নাদেজদা কারাস্তোইয়ানোভা জানিয়েছেন, শেষ এনিওলিথিক যুগে পূর্ব বুলগেরিয়ায় সিংহের উপস্থিতি ছিল। তিনি সহকর্মী ভেসেলিন দানোভ, পেত্যা পেত্রোভা ও ভিক্টোরিয়া রুসেভার সঙ্গে যৌথভাবে প্রাণীবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পরিচালনা করেন।

সারা বিশ্বে এখনও কতো সিংহ বেঁচে আছে: ৯টি তথ্য যা হয়তো আপনার জানা নেই - BBC  News বাংলা

প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনে সিংহের চিহ্ন
গবেষকদের তথ্যমতে, বুলগেরিয়ার বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক স্থানে এখন পর্যন্ত পনেরটিরও বেশি সিংহের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এর কিছুতে কাটার দাগ রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ সিংহ শিকার করত এবং তাদের মাংস প্রক্রিয়াজাত করত।

কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের ওপর প্রাণীর আক্রমণের সরাসরি কঙ্কালভিত্তিক প্রমাণ প্রায় নেই বললেই চলে। সে কারণে এই আবিষ্কার মানব ইতিহাসে মানুষ ও শিকারি প্রাণীর সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে এক বিরল ও মূল্যবান দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।