০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার তলব, আসাম মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি মে দিবসে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতের দাবি জি এম কাদেরের জম্মু থেকে শ্রীনগর মাত্র ৫ ঘণ্টায়: ভন্দে ভারত এক্সপ্রেসের নতুন যুগের সূচনা তেল ও গ্যাস সংকট ২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে ইরান যুদ্ধ ও এল নিনোর চাপে বৈশ্বিক চাল বাজারে সংকটের আশঙ্কা বিএনপি সরকার কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে পারবে? পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি হেপাটাইটিস সি রোগী, বিশ্বজুড়ে নতুন সতর্কবার্তা ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে, হাসপাতালে চাপ—সতর্কতায় জোর হাম রোগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, একদিনে হাজার ছাড়াল নতুন সন্দেহভাজন আক্রান্ত

বন্যা ও ডিজেল সংকটে বোরো ধানে বড় ধাক্কা, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে দেশের কৃষি খাতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা একক কোনো দুর্যোগের ফল নয়—বরং এটি একযোগে বন্যা, টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল, হাওরের বাঁধ ভাঙন এবং ডিজেল সংকটের সম্মিলিত প্রভাব। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ধান তলিয়ে যাওয়া, কাটা ধান নষ্ট হওয়া এবং ফসল ঘরে তুলতে না পারার ঘটনা এখন বাস্তবতা।

প্রভাবিত এলাকা: কোথায় কতটা ক্ষতি

মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের হাওর এলাকায় বন্যা ও ঢলে ফসল তলিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারে অন্তত ৮৮৭ হেক্টর জমির ধান ডুবে গেছে, আর হাওরের বিভিন্ন অংশে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে কয়েক ডজন হেক্টর জমির ধান তলিয়েছে, নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও খালিয়াজুরীতে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় কাটা বাকি ধান ঝুঁকিতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান ডুবে গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলেও চিত্র ভিন্ন নয়। বরিশালের ১০টি উপজেলায় ৬১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগেরহাটে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টরের মধ্যে বড় অংশ এখনো খেতে, যার মধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর কাটা ধান মাঠে পড়ে আছে এবং অন্তত ১০ শতাংশ ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই তথ্যগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের নিকলী, নেত্রকোনা হাওর বেল্ট, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-মধ্যনগর, মৌলভীবাজারের হাকালুকি, সিলেটের জকিগঞ্জ-গোয়াইনঘাট এবং দক্ষিণে বরিশাল-বাগেরহাট-ভোলা অঞ্চলে বড় আকারের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মোট ক্ষতি: উৎপাদনে কত বড় ধাক্কা

সমগ্র ক্ষতিগ্রস্ত ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জমির পরিমাণ এখন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ হেক্টরের মধ্যে পৌঁছানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪.৫ থেকে ৫ টন ফলন ধরে হিসাব করলে, এই জমিগুলো থেকে মোট উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টন ধান।

বাস্তব পরিস্থিতিতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ফসলহানি ধরলে, ২০২৬ সালে সম্ভাব্য ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন ধান। চাল হিসেবে এটি প্রায় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টনের সমান।

এই পরিমাণ চাল দিয়ে বছরে প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা যেত। ফলে খাদ্য সরবরাহে সরাসরি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ডিজেল সংকটে উত্তরাঞ্চলের চাষিরা, বোরো চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা

ডিজেল সংকট: ক্ষতিকে কেন ত্বরান্বিত করছে

এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে ডিজেল সংকট। সেচ পাম্প, হারভেস্টার ও ধান পরিবহন—সবই ডিজেলনির্ভর। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে অনেক কৃষক সময়মতো পানি নামাতে পারেননি।

হাওরাঞ্চলে কয়েকদিনের পানি জমে থাকলেই ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ডিজেল না থাকায় সেচ চালানো যায়নি। আবার দক্ষিণাঞ্চলে কাটা ধান ঘরে তুলতে দেরি হয়েছে, কারণ পরিবহন খরচ বেড়েছে এবং যন্ত্রচালিত হারভেস্টার ব্যবহার কমেছে।

ফলে একই জমিতে দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে—ধান তলিয়ে যাচ্ছে, আর যেটুকু কাটা হয়েছে সেটিও নষ্ট হচ্ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি: বহুমাত্রিক আঘাত

এক হেক্টর জমির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ৩ থেকে ৪টি পরিবার যুক্ত থাকে। সেই হিসেবে ১ লাখ হেক্টর জমির ক্ষতির প্রভাবে প্রায় ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ পরিবার আয় ঝুঁকিতে পড়েছে।

মানুষের হিসাবে এটি দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৬ লাখ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব।

ধান কাটা শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ধানকল শ্রমিক—সবাই এই সংকটে কাজ হারাচ্ছে। গ্রামীণ বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা স্থানীয় ব্যবসাকেও ধাক্কা দিচ্ছে।

দারিদ্র্যের নতুন ঝুঁকি: বাস্তব হিসাব

বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে গ্রামীণ পরিবারগুলো আগেই ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এই অবস্থায় বোরো ক্ষতি নতুন করে দারিদ্র্য বাড়াবে।

যদি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আয় হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়, তাহলে নতুন করে প্রায় ২ লাখ থেকে ৪ লাখ মানুষ দরিদ্র বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়তে পারে।

যদি চালের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়, তাহলে শহরের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীও এই প্রভাবের বাইরে থাকবে না।

২০২৬: একটি যৌথ সংকটের বছর

এই বছরের বাস্তবতা হলো—এটি শুধু বন্যা নয়, শুধু জ্বালানি সংকটও নয়। এটি একটি যৌথ সংকট, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে।

হাওরে সময়মতো ধান কাটতে না পারা, দক্ষিণে কাটা ধান মাঠে পড়ে থাকা, ডিজেল সংকটে সেচ ও পরিবহন ব্যাহত হওয়া—সব মিলিয়ে কৃষি ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এসেছে।

বোরো ধান নিয়ে ত্রিমুখী সংকটে সুনামগঞ্জের কৃষকরা | STAR NEWS

এখন করণীয় কী

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব, কৃষকের জন্য জরুরি নগদ সহায়তা, সস্তায় ডিজেল সরবরাহ, সেচ ও ফসল তোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং চালের বাজারে শক্ত নজরদারি প্রয়োজন।

কারণ বোরো ধানের এই ক্ষতি কেবল একটি মৌসুমের ঘটনা নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দারিদ্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বোরো ধান ক্ষতি ২০২৬
বোরো ধান বন্যা ও ডিজেল সংকট

বন্যা ও ডিজেল সংকটে বোরো ধানের বড় ধাক্কা—কতটা উৎপাদন কমবে, কত মানুষ দারিদ্র্যে পড়বে, জানুন বিস্তারিত।

বোরোধান, বন্যা, ডিজেলসংকট, কৃষিক্ষতি, দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, হাওর

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: মনোনয়ন বাতিলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের অংশগ্রহণে বাধা

বন্যা ও ডিজেল সংকটে বোরো ধানে বড় ধাক্কা, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

০৬:৩২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে দেশের কৃষি খাতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা একক কোনো দুর্যোগের ফল নয়—বরং এটি একযোগে বন্যা, টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল, হাওরের বাঁধ ভাঙন এবং ডিজেল সংকটের সম্মিলিত প্রভাব। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ধান তলিয়ে যাওয়া, কাটা ধান নষ্ট হওয়া এবং ফসল ঘরে তুলতে না পারার ঘটনা এখন বাস্তবতা।

প্রভাবিত এলাকা: কোথায় কতটা ক্ষতি

মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের হাওর এলাকায় বন্যা ও ঢলে ফসল তলিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারে অন্তত ৮৮৭ হেক্টর জমির ধান ডুবে গেছে, আর হাওরের বিভিন্ন অংশে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে কয়েক ডজন হেক্টর জমির ধান তলিয়েছে, নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও খালিয়াজুরীতে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় কাটা বাকি ধান ঝুঁকিতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান ডুবে গেছে।

দক্ষিণাঞ্চলেও চিত্র ভিন্ন নয়। বরিশালের ১০টি উপজেলায় ৬১ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগেরহাটে ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টরের মধ্যে বড় অংশ এখনো খেতে, যার মধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর কাটা ধান মাঠে পড়ে আছে এবং অন্তত ১০ শতাংশ ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই তথ্যগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের নিকলী, নেত্রকোনা হাওর বেল্ট, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-মধ্যনগর, মৌলভীবাজারের হাকালুকি, সিলেটের জকিগঞ্জ-গোয়াইনঘাট এবং দক্ষিণে বরিশাল-বাগেরহাট-ভোলা অঞ্চলে বড় আকারের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মোট ক্ষতি: উৎপাদনে কত বড় ধাক্কা

সমগ্র ক্ষতিগ্রস্ত ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জমির পরিমাণ এখন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ হেক্টরের মধ্যে পৌঁছানোর বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪.৫ থেকে ৫ টন ফলন ধরে হিসাব করলে, এই জমিগুলো থেকে মোট উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টন ধান।

বাস্তব পরিস্থিতিতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ফসলহানি ধরলে, ২০২৬ সালে সম্ভাব্য ক্ষতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন ধান। চাল হিসেবে এটি প্রায় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টনের সমান।

এই পরিমাণ চাল দিয়ে বছরে প্রায় ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা যেত। ফলে খাদ্য সরবরাহে সরাসরি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ডিজেল সংকটে উত্তরাঞ্চলের চাষিরা, বোরো চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা

ডিজেল সংকট: ক্ষতিকে কেন ত্বরান্বিত করছে

এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে ডিজেল সংকট। সেচ পাম্প, হারভেস্টার ও ধান পরিবহন—সবই ডিজেলনির্ভর। ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে অনেক কৃষক সময়মতো পানি নামাতে পারেননি।

হাওরাঞ্চলে কয়েকদিনের পানি জমে থাকলেই ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ডিজেল না থাকায় সেচ চালানো যায়নি। আবার দক্ষিণাঞ্চলে কাটা ধান ঘরে তুলতে দেরি হয়েছে, কারণ পরিবহন খরচ বেড়েছে এবং যন্ত্রচালিত হারভেস্টার ব্যবহার কমেছে।

ফলে একই জমিতে দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে—ধান তলিয়ে যাচ্ছে, আর যেটুকু কাটা হয়েছে সেটিও নষ্ট হচ্ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি: বহুমাত্রিক আঘাত

এক হেক্টর জমির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ৩ থেকে ৪টি পরিবার যুক্ত থাকে। সেই হিসেবে ১ লাখ হেক্টর জমির ক্ষতির প্রভাবে প্রায় ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ পরিবার আয় ঝুঁকিতে পড়েছে।

মানুষের হিসাবে এটি দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ থেকে ১৬ লাখ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব।

ধান কাটা শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ধানকল শ্রমিক—সবাই এই সংকটে কাজ হারাচ্ছে। গ্রামীণ বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা স্থানীয় ব্যবসাকেও ধাক্কা দিচ্ছে।

দারিদ্র্যের নতুন ঝুঁকি: বাস্তব হিসাব

বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে গ্রামীণ পরিবারগুলো আগেই ঝুঁকির মধ্যে ছিল। এই অবস্থায় বোরো ক্ষতি নতুন করে দারিদ্র্য বাড়াবে।

যদি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আয় হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়, তাহলে নতুন করে প্রায় ২ লাখ থেকে ৪ লাখ মানুষ দরিদ্র বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়তে পারে।

যদি চালের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হয়, তাহলে শহরের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীও এই প্রভাবের বাইরে থাকবে না।

২০২৬: একটি যৌথ সংকটের বছর

এই বছরের বাস্তবতা হলো—এটি শুধু বন্যা নয়, শুধু জ্বালানি সংকটও নয়। এটি একটি যৌথ সংকট, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে।

হাওরে সময়মতো ধান কাটতে না পারা, দক্ষিণে কাটা ধান মাঠে পড়ে থাকা, ডিজেল সংকটে সেচ ও পরিবহন ব্যাহত হওয়া—সব মিলিয়ে কৃষি ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এসেছে।

বোরো ধান নিয়ে ত্রিমুখী সংকটে সুনামগঞ্জের কৃষকরা | STAR NEWS

এখন করণীয় কী

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব, কৃষকের জন্য জরুরি নগদ সহায়তা, সস্তায় ডিজেল সরবরাহ, সেচ ও ফসল তোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং চালের বাজারে শক্ত নজরদারি প্রয়োজন।

কারণ বোরো ধানের এই ক্ষতি কেবল একটি মৌসুমের ঘটনা নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দারিদ্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বোরো ধান ক্ষতি ২০২৬
বোরো ধান বন্যা ও ডিজেল সংকট

বন্যা ও ডিজেল সংকটে বোরো ধানের বড় ধাক্কা—কতটা উৎপাদন কমবে, কত মানুষ দারিদ্র্যে পড়বে, জানুন বিস্তারিত।

বোরোধান, বন্যা, ডিজেলসংকট, কৃষিক্ষতি, দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, হাওর