১০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সাধারণ ফিট প্রাপ্তবয়স্কদের দৌড়ের সক্ষমতা কতটা? কিশোর অ্যাথলেটদের দৌড়ে রেকর্ডের বন্যা, বদলে যাচ্ছে ট্র্যাকের পুরোনো হিসাব সৌদি নেতৃত্বেই কি নিরাপদ হবে লোহিত সাগর, থামবে হুতিদের দাপট? ‘মক্কা চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তার বাইরে নতুন মুসলিম শক্তির সমীকরণ ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা!

ঘুমের রহস্যে ফিরে দেখা অতীত, টিউডর যুগের মানুষ কীভাবে ঘুম ঠিক রাখত

আজকের দিনে ভালো ঘুমের জন্য মানুষ নানা উপায় খোঁজে। কেউ বই পড়ে, কেউ নতুন ম্যাট্রেস কেনে, কেউ আবার অন্ধকার পর্দা ব্যবহার করে। কিন্তু কয়েকশ বছর আগে ব্রিটেনের মানুষ বিশ্বাস করত, মাথার ওপর ঠান্ডা আপেল রাখলেও নাকি ঘুম ভালো হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, সেই সময়ের মানুষের ঘুম নিয়ে ভাবনা ও অভ্যাসের অনেক দিক আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ব্রিটিশ সমাজে ঘুমকে সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। তারা মনে করত, নিয়মিত জীবনযাপন, শরীরের তাপমাত্রা, পরিবেশ ও মানসিক শান্তি—সবকিছুই ভালো ঘুমের সঙ্গে জড়িত। তাই ঘুমানোর জায়গা থেকে শুরু করে খাবার ও রাত্রিকালীন অভ্যাস পর্যন্ত সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ঘুমের ঘরেও ছিল সামাজিক পার্থক্য

তৎকালীন সমাজে ধনী ও গরিব মানুষের ঘুমের পরিবেশে ছিল বড় পার্থক্য। দরিদ্র পরিবারগুলো সাধারণত এক বা দুই কক্ষের ঘরে বসবাস করত। সেই একই ঘরে রান্না, খাওয়া, কাজ এবং ঘুম—সবই চলত। অন্যদিকে ধনী পরিবারগুলো আলাদা শয়নকক্ষ তৈরি করতে পারত এবং তাদের বিছানাও ছিল অনেক বেশি আরামদায়ক ও আড়ম্বরপূর্ণ।

বিছানার উচ্চতাও তখন সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। মেঝের কাছাকাছি বিছানাকে নিম্ন শ্রেণি বা অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। চাকরদের জন্য ব্যবহৃত নিচু বিছানা দিনের বেলায় বড় বিছানার নিচে গুটিয়ে রাখা হতো।

his story, her story: Sleep tight! Going to bed in Medieval and Tudor  England.

ঘুম আনতে ব্যবহার হতো গাছপালা ও সুগন্ধ

তৎকালীন মানুষ ঘুমের সময় আশপাশের পরিবেশ নিয়েও খুব সচেতন ছিল। খড় ও হপস দিয়ে তৈরি গদি ব্যবহার করা হতো। হপসের গন্ধ শরীরকে শান্ত করে ঘুম আনতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হতো। গোলাপের পাপড়ি ও শাপলার মতো গাছপালাও ঘর ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে ব্যবহৃত হতো।

আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে, শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলে ঘুম সহজ হয়। তাই অতীতের অনেক ধারণা আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

রাতের খাবার ও মানসিক শান্তির গুরুত্ব

সেই সময় চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিতেন, রাতে হালকা খাবার খেতে। ভারী মাংস বা মিষ্টি পানীয় ঘুম নষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, অতিরিক্ত খাবার শরীরের ভেতরে উত্তাপ তৈরি করে এবং এতে ঘুমে সমস্যা হয়।

মানসিক প্রশান্তিকেও ঘুমের জন্য জরুরি ধরা হতো। অনেকেই ঘুমানোর আগে প্রার্থনা করতেন বা ধর্মীয় বই পড়তেন। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আবার মন শান্ত করার জন্যও বিশেষ প্রার্থনা বা জপের অভ্যাস ছিল।

চাপ ও উদ্বেগ তখনও ঘুম কেড়ে নিত

গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক চাপ, মানসিক উদ্বেগ কিংবা ছোট শিশুদের কারণে সেই সময়েও মানুষের ঘুমের সমস্যা হতো। অর্থাৎ কয়েকশ বছর আগের মানুষও আজকের মানুষের মতোই দুশ্চিন্তা ও অনিদ্রার সঙ্গে লড়াই করত।

যদিও মাথায় আপেল রাখার মতো কিছু বিশ্বাস আজ হাস্যকর মনে হতে পারে, তবু ঘুমের ক্ষেত্রে নিয়মিত জীবনযাপন, আরামদায়ক পরিবেশ ও মানসিক শান্তির গুরুত্ব তারা অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাধারণ ফিট প্রাপ্তবয়স্কদের দৌড়ের সক্ষমতা কতটা?

ঘুমের রহস্যে ফিরে দেখা অতীত, টিউডর যুগের মানুষ কীভাবে ঘুম ঠিক রাখত

০৮:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

আজকের দিনে ভালো ঘুমের জন্য মানুষ নানা উপায় খোঁজে। কেউ বই পড়ে, কেউ নতুন ম্যাট্রেস কেনে, কেউ আবার অন্ধকার পর্দা ব্যবহার করে। কিন্তু কয়েকশ বছর আগে ব্রিটেনের মানুষ বিশ্বাস করত, মাথার ওপর ঠান্ডা আপেল রাখলেও নাকি ঘুম ভালো হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, সেই সময়ের মানুষের ঘুম নিয়ে ভাবনা ও অভ্যাসের অনেক দিক আজকের আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন ব্রিটিশ সমাজে ঘুমকে সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। তারা মনে করত, নিয়মিত জীবনযাপন, শরীরের তাপমাত্রা, পরিবেশ ও মানসিক শান্তি—সবকিছুই ভালো ঘুমের সঙ্গে জড়িত। তাই ঘুমানোর জায়গা থেকে শুরু করে খাবার ও রাত্রিকালীন অভ্যাস পর্যন্ত সবকিছুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ঘুমের ঘরেও ছিল সামাজিক পার্থক্য

তৎকালীন সমাজে ধনী ও গরিব মানুষের ঘুমের পরিবেশে ছিল বড় পার্থক্য। দরিদ্র পরিবারগুলো সাধারণত এক বা দুই কক্ষের ঘরে বসবাস করত। সেই একই ঘরে রান্না, খাওয়া, কাজ এবং ঘুম—সবই চলত। অন্যদিকে ধনী পরিবারগুলো আলাদা শয়নকক্ষ তৈরি করতে পারত এবং তাদের বিছানাও ছিল অনেক বেশি আরামদায়ক ও আড়ম্বরপূর্ণ।

বিছানার উচ্চতাও তখন সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। মেঝের কাছাকাছি বিছানাকে নিম্ন শ্রেণি বা অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। চাকরদের জন্য ব্যবহৃত নিচু বিছানা দিনের বেলায় বড় বিছানার নিচে গুটিয়ে রাখা হতো।

his story, her story: Sleep tight! Going to bed in Medieval and Tudor  England.

ঘুম আনতে ব্যবহার হতো গাছপালা ও সুগন্ধ

তৎকালীন মানুষ ঘুমের সময় আশপাশের পরিবেশ নিয়েও খুব সচেতন ছিল। খড় ও হপস দিয়ে তৈরি গদি ব্যবহার করা হতো। হপসের গন্ধ শরীরকে শান্ত করে ঘুম আনতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হতো। গোলাপের পাপড়ি ও শাপলার মতো গাছপালাও ঘর ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে ব্যবহৃত হতো।

আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে, শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলে ঘুম সহজ হয়। তাই অতীতের অনেক ধারণা আজও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

রাতের খাবার ও মানসিক শান্তির গুরুত্ব

সেই সময় চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিতেন, রাতে হালকা খাবার খেতে। ভারী মাংস বা মিষ্টি পানীয় ঘুম নষ্ট করতে পারে বলে মনে করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল, অতিরিক্ত খাবার শরীরের ভেতরে উত্তাপ তৈরি করে এবং এতে ঘুমে সমস্যা হয়।

মানসিক প্রশান্তিকেও ঘুমের জন্য জরুরি ধরা হতো। অনেকেই ঘুমানোর আগে প্রার্থনা করতেন বা ধর্মীয় বই পড়তেন। রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আবার মন শান্ত করার জন্যও বিশেষ প্রার্থনা বা জপের অভ্যাস ছিল।

চাপ ও উদ্বেগ তখনও ঘুম কেড়ে নিত

গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক চাপ, মানসিক উদ্বেগ কিংবা ছোট শিশুদের কারণে সেই সময়েও মানুষের ঘুমের সমস্যা হতো। অর্থাৎ কয়েকশ বছর আগের মানুষও আজকের মানুষের মতোই দুশ্চিন্তা ও অনিদ্রার সঙ্গে লড়াই করত।

যদিও মাথায় আপেল রাখার মতো কিছু বিশ্বাস আজ হাস্যকর মনে হতে পারে, তবু ঘুমের ক্ষেত্রে নিয়মিত জীবনযাপন, আরামদায়ক পরিবেশ ও মানসিক শান্তির গুরুত্ব তারা অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল।