ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ফুটবলের মাধ্যমে মানুষে মানুষে সংযোগ আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে কানাডা। জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব ফুটবল দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিশেষ লেখায় কানাডা জানিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং এটি হবে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাসের বড় উদাহরণ।
বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে কাজ করছে। তিন দেশ মিলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই আয়োজনকে সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত পরিকল্পনায় সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহযোগিতার নতুন দৃষ্টান্ত
কানাডা জানিয়েছে, এই বিশ্বকাপ আয়োজন তাদের বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। দেশটি নিজেদের অভিজ্ঞতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং দায়িত্বশীল আয়োজক হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে চায়। একই সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি ও ভূমিকার প্রতিও বিশেষ সম্মান দেখানোর কথা বলা হয়েছে।

লেখায় আরও বলা হয়, বিশ্বকাপের মাধ্যমে শুধু ফুটবল নয়, বরং সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্মানকেও উদযাপন করা হবে। এই আয়োজন মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেও মত দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব
বাংলাদেশের সঙ্গে কানাডার দীর্ঘদিনের সম্পর্কও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে কানাডা অন্যতম ছিল। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং নারী সমতায় কানাডার দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী সহায়তার ক্ষেত্রেও কানাডার ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ফুটবল ঘিরে দুই দেশের বন্ধন
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ফুটবলার শামিত সোম বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলে খেলছেন। তাকে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে ফুটবলের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতাও ভাগ করা হয়েছে লেখাটিতে। ঢাকায় বিভিন্ন প্রীতি ম্যাচ, নারী ফুটবল দলের খেলা এবং সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণীদের ফুটবল কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার স্মৃতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও কানাডা—দুই দেশেই ফুটবলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
নারী ফুটবলের উত্থান, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক অগ্রগতিতে খেলাধুলার ভূমিকার কথাও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে। কানাডা আশা প্রকাশ করেছে, বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে যে সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্ক আরও গভীর করতে সহায়তা করবে।





















