০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
‘মক্কা চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তার বাইরে নতুন মুসলিম শক্তির সমীকরণ ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা! সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি

জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের নতুন উদ্যোগ, লুজনে গড়ে উঠছে এআই ও চিপ শিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্র

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিন দেশ যৌথভাবে আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপে একটি বিনিয়োগ ফোরামের আয়োজন করবে, যেখানে এআই ও চিপ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে।

এই উদ্যোগ ২০২৪ সালে চালু হওয়া ‘লুজন ইকোনমিক করিডর’-এর ধারাবাহিকতা। ওই উদ্যোগের মাধ্যমে তিন দেশ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত খাতে বিনিয়োগে একমত হয়েছিল। এবার সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বিনিয়োগ ফোরামের মূল লক্ষ্য হবে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্পের সংযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি খাতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লুজনে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। ভবিষ্যতে এই ফোরামকে নিয়মিত বার্ষিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও রয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লুজন পরিদর্শন ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে।

লুজনে ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অঞ্চল’

যুক্তরাষ্ট্র লুজনে প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে এআই-ভিত্তিক শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী খাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য রয়েছে।

জাপানও নিজ দেশের এআই কোম্পানিগুলোকে সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে উৎসাহ দিচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শুধু এআই নয়, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পও এই অঞ্চলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের সম্ভাবনা

ফিলিপাইন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় সেখানে এআই-নির্ভর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির বড় বাজার তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে জাপান।

বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এআই মডেল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিচ্ছিন্ন বা অচল সড়ক শনাক্ত করার প্রযুক্তি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন ডিজিটাল সমাধান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখানো হচ্ছে।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা

তিন দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এআই-সংক্রান্ত দক্ষ জনবল তৈরি। এ লক্ষ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ফিলিপাইনের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা কেন্দ্রে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হলে দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে এআইয়ের চাহিদা

ফিলিপাইন সরকারও নিজেদের এআই শিল্প গড়ে তুলতে জাপানের সহায়তা চেয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এআই মডেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ভাষাভিত্তিক এআই উন্নয়নের অভিজ্ঞতার কারণে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানের দৃষ্টিতে ফিলিপাইন ভৌগোলিকভাবে নিকটবর্তী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ফিলিপাইনকে অন্তর্ভুক্ত করা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাজারও তৈরি করবে।

লুজন এআই বিনিয়োগ ফোরাম

ফিলিপাইনের লুজনে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের যৌথ বিনিয়োগ ফোরাম এআই, চিপ শিল্প ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

লুজনে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তুলতে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের নতুন উদ্যোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

#জাপান #যুক্তরাষ্ট্র #ফিলিপাইন #এআই #কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা #সেমিকন্ডাক্টর #লুজন #প্রযুক্তি #বিনিয়োগ #অর্থনৈতিকনিরাপত্তা #ডেটাসেন্টার #দক্ষিণপূর্বএশিয়া

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মক্কা চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তার বাইরে নতুন মুসলিম শক্তির সমীকরণ

জাপান-যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইনের নতুন উদ্যোগ, লুজনে গড়ে উঠছে এআই ও চিপ শিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্র

০৩:৫১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিন দেশ যৌথভাবে আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপে একটি বিনিয়োগ ফোরামের আয়োজন করবে, যেখানে এআই ও চিপ শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হবে।

এই উদ্যোগ ২০২৪ সালে চালু হওয়া ‘লুজন ইকোনমিক করিডর’-এর ধারাবাহিকতা। ওই উদ্যোগের মাধ্যমে তিন দেশ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত খাতে বিনিয়োগে একমত হয়েছিল। এবার সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বিনিয়োগ ফোরামের মূল লক্ষ্য হবে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রকল্পের সংযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি খাতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লুজনে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। ভবিষ্যতে এই ফোরামকে নিয়মিত বার্ষিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও রয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে লুজন পরিদর্শন ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হবে।

লুজনে ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অঞ্চল’

যুক্তরাষ্ট্র লুজনে প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। এই অঞ্চলে এআই-ভিত্তিক শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী খাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্য রয়েছে।

জাপানও নিজ দেশের এআই কোম্পানিগুলোকে সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে উৎসাহ দিচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শুধু এআই নয়, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পও এই অঞ্চলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের সম্ভাবনা

ফিলিপাইন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ায় সেখানে এআই-নির্ভর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির বড় বাজার তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে জাপান।

বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ পূর্বাভাস দিতে সক্ষম এআই মডেল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিচ্ছিন্ন বা অচল সড়ক শনাক্ত করার প্রযুক্তি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার বিভিন্ন ডিজিটাল সমাধান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখানো হচ্ছে।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা

তিন দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এআই-সংক্রান্ত দক্ষ জনবল তৈরি। এ লক্ষ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া ফিলিপাইনের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা কেন্দ্রে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হলে দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে এআইয়ের চাহিদা

ফিলিপাইন সরকারও নিজেদের এআই শিল্প গড়ে তুলতে জাপানের সহায়তা চেয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এআই মডেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ভাষাভিত্তিক এআই উন্নয়নের অভিজ্ঞতার কারণে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাপানের দৃষ্টিতে ফিলিপাইন ভৌগোলিকভাবে নিকটবর্তী এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ফিলিপাইনকে অন্তর্ভুক্ত করা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বাজারও তৈরি করবে।

লুজন এআই বিনিয়োগ ফোরাম

ফিলিপাইনের লুজনে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের যৌথ বিনিয়োগ ফোরাম এআই, চিপ শিল্প ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

লুজনে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তুলতে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের নতুন উদ্যোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

#জাপান #যুক্তরাষ্ট্র #ফিলিপাইন #এআই #কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা #সেমিকন্ডাক্টর #লুজন #প্রযুক্তি #বিনিয়োগ #অর্থনৈতিকনিরাপত্তা #ডেটাসেন্টার #দক্ষিণপূর্বএশিয়া