দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে একদিনেই সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মা ও তার ছেলে। বুধবার গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও ময়মনসিংহে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনাগুলোতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গাইবান্ধায় মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সন্ধ্যায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কল্পনা রানী ও তার ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস। পরিবারের সদস্যদের জানানো তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় কর্মরত সোহাগ ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।
বিকেলে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে বাড়ির বাইরে শুকাতে দেওয়া খড় ঘরে তোলার জন্য ছেলেকে বলেন কল্পনা রানী। কিছুক্ষণ পর মা-ছেলে একসঙ্গে বাইরে গেলে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুইজনের প্রাণহানি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান মিরাজ ও মুনিরুল ইসলাম।
বিকেলে একটি আমবাগানে আম প্যাকেটজাত করার সময় বজ্রাঘাতে আহত হন মিরাজ। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি।
অন্যদিকে, নিজের বাড়ির কাছে অবস্থান করার সময় বজ্রপাতে আহত হন মুনিরুল ইসলাম। তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জয়পুরহাটে নারীসহ দুইজন নিহত
জয়পুরহাটে পৃথক দুটি ঘটনায় প্রাণ হারান জাহানারা বেগম ও কৃষক শামসুদ্দিন।
জাহানারা বেগম ধানের খড় কাটার কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বজ্রাঘাতে আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে পাঁচবিবি উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতে নিহত হন কৃষক শামসুদ্দিন। মাঠে কাজের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ময়মনসিংহে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরেকজন
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে হাজং সম্প্রদায়ের কিশোর অর্ক হাজং। একই ঘটনায় আহত হয়েছে তার বন্ধু অর্কদ্দ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বৃষ্টির মধ্যে তারা ফুটবল খেলতে বের হয়েছিল। এ সময় বজ্রপাত হলে দুজনই আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অর্ক হাজংকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত অর্কদ্দকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি
বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা খোলা মাঠ, গাছের নিচে অবস্থান এবং বৈরী আবহাওয়ার সময় বাইরে চলাফেরা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে কৃষিকাজ, খেলাধুলা বা খোলা স্থানে কাজের সময় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দেশের চার জেলায় একদিনে সাতজনের মৃত্যুর এই ঘটনা আবারও বজ্রপাতের ঝুঁকি ও সচেতনতার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















