কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের প্রথম সরাসরি বিক্ষোভে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন বিতর্ক এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত সংকটকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীরা সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চশিক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে একাধিক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বেড়েছে। জাতীয় স্তরের ভর্তি পরীক্ষা এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষার বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে আন্দোলনকারীরা সরব হন। সমাবেশে উপস্থিত অনেক তরুণ-তরুণী শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার দাবি জানান।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অভিজিৎ দীপকে সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

সোনম ওয়াংচুকের অংশগ্রহণ
সমাবেশে যোগ দেন লাদাখের পরিচিত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং সরকারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আবেদন জানানো। তাঁর উপস্থিতি আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
নিরাপত্তা জোরদার, ছয়জন আটক
বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে কিছু পাল্টা স্লোগানও শোনা যায়। সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছয়জনকে আটক করে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়। ভিড়ের ওপর নজর রাখতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়।
![]()
অনলাইন আন্দোলন থেকে রাস্তায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি মানুষের নজর কেড়েছে। সংগঠকদের দাবি, তাদের উদ্যোগ কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্কও দেখা দিয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যেও উপস্থিতি
রাজধানীতে তীব্র গরমের মধ্যেও বিপুল সংখ্যক মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। দুপুরে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকলেও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমেনি। অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে দাবি আদায়ের পক্ষে স্লোগান দেন।
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা চলছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















