০২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগ রয়ে গেছে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে ভারতের অর্থনীতি, বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঝুঁকি হোন্ডার প্রধান নির্বাহীকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ, বোর্ডের সমর্থনে টিকে গেলেন মিবে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে কুলার বিকল, মরদেহ সংরক্ষণ ও ময়নাতদন্তে চরম সংকট পাবনায় পৃথক হামলায় প্রাণ গেল কলেজছাত্রসহ দুইজনের ১০০ দিনে ৬০৫ হত্যা: উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ৩১ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান জাপানে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের চাপ বাড়ছে, শেয়ারহোল্ডার প্রস্তাবে নতুন রেকর্ড অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে আগে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, নেতৃত্বে মিরাজ

চীনের সিআইপিএস ও পান্ডা বন্ডে আগ্রহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থায়নের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে চীনের আন্তঃসীমান্ত আন্তঃব্যাংক পরিশোধ ব্যবস্থা সিআইপিএস এবং পান্ডা বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ যখন বৈদেশিক লেনদেনের বিকল্প পথ ও নতুন অর্থায়নের উৎস খুঁজছে, তখন চীনও তার আর্থিক অবকাঠামো এবং মুদ্রার আন্তর্জাতিক ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

কী নিয়ে আলোচনা হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, চীনা প্রতিনিধি দল সিআইপিএস এবং পান্ডা বন্ড সম্পর্কিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করবে।

প্রতিনিধি দলের অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে।’

বাড়তি বোনাস দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সিআইপিএস কেন গুরুত্বপূর্ণ

সিআইপিএস হলো চীনের আন্তঃসীমান্ত ব্যাংকিং পরিশোধ ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার সহজ করে। বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সুইফট ব্যবস্থাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সিআইপিএসে যুক্ত হলে এটি সুইফটের পাশাপাশি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিশোধ নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি নস্ত্রো হিসাব খুলেছে। যদিও কিছু বাংলাদেশি ব্যাংকেরও চীনে এ ধরনের হিসাব রয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বেশিরভাগ লেনদেন এখনো মার্কিন ডলারে হওয়ায় এসব হিসাবের ব্যবহার সীমিত।

পান্ডা বন্ড কী

পান্ডা বন্ড হলো চীনের অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজারে বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইস্যুকৃত ইউয়ানভিত্তিক বন্ড।

China's panda bonds on track for record issuance - Nikkei Asia

এর মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। বন্ডগুলো ইউয়ানে মূল্যায়িত হয় এবং প্রধানত চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এতে বিনিয়োগ করে।

বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে পান্ডা বন্ড ইস্যু করে, তাহলে চীনের বাজার থেকে নতুন উৎসের অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করবে সুফল

অর্থনীতিবিদদের মতে, সিআইপিএস বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বিকল্প হতে পারে। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণের ওপর।

বাকিতে দুই লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি

বর্তমানে বাংলাদেশ চীন থেকে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করে, কিন্তু রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। ফলে শুধু ইউয়ানভিত্তিক লেনদেন চালু করলেই বড় ধরনের সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা বিনিয়োগ, অবকাঠামো অর্থায়ন, শিল্প খাতে অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন প্রকল্প বাড়লে সিআইপিএসের কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক লেনদেনের বড় অংশে ডলারের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে নতুন এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার একটি সম্ভাবনাময় দরজা খুলে দিতে পারে। ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এর প্রকৃত প্রভাব।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগ রয়ে গেছে

চীনের সিআইপিএস ও পান্ডা বন্ডে আগ্রহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ

১২:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থায়নের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে চীনের আন্তঃসীমান্ত আন্তঃব্যাংক পরিশোধ ব্যবস্থা সিআইপিএস এবং পান্ডা বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ যখন বৈদেশিক লেনদেনের বিকল্প পথ ও নতুন অর্থায়নের উৎস খুঁজছে, তখন চীনও তার আর্থিক অবকাঠামো এবং মুদ্রার আন্তর্জাতিক ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

কী নিয়ে আলোচনা হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, চীনা প্রতিনিধি দল সিআইপিএস এবং পান্ডা বন্ড সম্পর্কিত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করবে।

প্রতিনিধি দলের অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে পারে।’

বাড়তি বোনাস দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

সিআইপিএস কেন গুরুত্বপূর্ণ

সিআইপিএস হলো চীনের আন্তঃসীমান্ত ব্যাংকিং পরিশোধ ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউয়ানের ব্যবহার সহজ করে। বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সুইফট ব্যবস্থাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সিআইপিএসে যুক্ত হলে এটি সুইফটের পাশাপাশি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিশোধ নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি নস্ত্রো হিসাব খুলেছে। যদিও কিছু বাংলাদেশি ব্যাংকেরও চীনে এ ধরনের হিসাব রয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বেশিরভাগ লেনদেন এখনো মার্কিন ডলারে হওয়ায় এসব হিসাবের ব্যবহার সীমিত।

পান্ডা বন্ড কী

পান্ডা বন্ড হলো চীনের অভ্যন্তরীণ বন্ড বাজারে বিদেশি সরকার, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইস্যুকৃত ইউয়ানভিত্তিক বন্ড।

China's panda bonds on track for record issuance - Nikkei Asia

এর মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। বন্ডগুলো ইউয়ানে মূল্যায়িত হয় এবং প্রধানত চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এতে বিনিয়োগ করে।

বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে পান্ডা বন্ড ইস্যু করে, তাহলে চীনের বাজার থেকে নতুন উৎসের অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করবে সুফল

অর্থনীতিবিদদের মতে, সিআইপিএস বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বিকল্প হতে পারে। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনের পরিমাণের ওপর।

বাকিতে দুই লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি

বর্তমানে বাংলাদেশ চীন থেকে অনেক বেশি পণ্য আমদানি করে, কিন্তু রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম। ফলে শুধু ইউয়ানভিত্তিক লেনদেন চালু করলেই বড় ধরনের সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনা বিনিয়োগ, অবকাঠামো অর্থায়ন, শিল্প খাতে অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন প্রকল্প বাড়লে সিআইপিএসের কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে। অন্যথায় আন্তর্জাতিক লেনদেনের বড় অংশে ডলারের ওপর নির্ভরতা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে নতুন এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার একটি সম্ভাবনাময় দরজা খুলে দিতে পারে। ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এর প্রকৃত প্রভাব।