যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পাওয়ার পথে এগিয়ে গেছেন ঝিনুক চাষি ও সাবেক মেরিন সদস্য গ্রাহাম প্ল্যাটনার। তবে মনোনয়ন জয়ের এই পথটি তার জন্য একেবারে মসৃণ ছিল না। অতীতের কিছু বিতর্ক, ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে অভিযোগ এবং একটি বিতর্কিত উল্কিচিহ্নকে ঘিরে তাকে ব্যাপক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
প্রাথমিক ভোট গণনার শুরুতেই প্ল্যাটনার স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মুখ হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি এবং প্রচলিত রাজনীতির বাইরে থাকা একজন প্রার্থী হিসেবে।
নভেম্বরে কঠিন লড়াই
ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন নিশ্চিত হলে প্ল্যাটনারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স। দীর্ঘদিন ধরে সিনেটের সদস্য থাকা কলিন্স মেইনের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেও বিশ্লেষকদের মতে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

এই আসনকে জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের মধ্যে মেইন অন্যতম।
অতীতের বিতর্ক সামনে
নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই প্ল্যাটনারকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। কয়েকজন নারীর কাছে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তার সাবেক কয়েকজন সঙ্গীও অতীতের কিছু আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এসব অভিযোগের পর প্ল্যাটনার প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনের পর তিনি মানসিক চাপ ও হতাশার সঙ্গে লড়াই করেছেন। বিতর্কিত উল্কিচিহ্ন সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, সেটির সঙ্গে নাৎসি প্রতীকের মিল রয়েছে—এ তথ্য তিনি আগে জানতেন না। পরে তিনি উল্কিটি ঢেকে ফেলেন।
দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন অব্যাহত
বিতর্ক সামনে এলেও দলের প্রগতিশীল অংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা এখনো তার পাশে রয়েছেন। ফলে দলীয় পর্যায়ে তাকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বড় ধরনের চাপ দেখা যায়নি।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছে এসব বিষয় বড় বাধা না হলেও সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এগুলো বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
বিকল্প রাখছে দল
যদিও প্ল্যাটনার এখনো দলের প্রধান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন, তারপরও ভবিষ্যতে নতুন কোনো বিতর্ক দেখা দিলে ডেমোক্র্যাটদের হাতে বিকল্প পথ খোলা রয়েছে। রাজ্যের আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে কোনো প্রার্থী সরে দাঁড়ালে দল নতুন প্রার্থী মনোনীত করতে পারে।
এদিকে মেইনের পাশাপাশি নেভাডা, নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ক্যারোলাইনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের এসব ভোটের ফলাফল আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মেইনের সিনেট নির্বাচন এখন শুধু একটি অঙ্গরাজ্যের লড়াই নয়, বরং ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















