মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বুধবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ার ফলে এশিয়ার প্রধান শেয়ারসূচকগুলো দিনের শুরুতেই নিম্নমুখী অবস্থানে চলে যায়। দীর্ঘদিনের সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ায় বাজারে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে।
শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ
জাপানের বাইরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারসূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচকও নিম্নমুখী ছিল। বিশেষ করে প্রযুক্তিভিত্তিক শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আগেই ছিল। তার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যুক্ত হওয়ায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী
সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। আগের দিনের নিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখনো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা পুরোপুরি মূল্যায়ন করছে না। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জ্বালানি অবকাঠামো, সমুদ্রপথ কিংবা বৃহৎ শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
নজর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি তথ্যের দিকে
বিনিয়োগকারীদের প্রধান নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্যের দিকে। চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি ও পণ্যমূল্য বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি আরও উঁচুতে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদি মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সুদের হার আরও বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর আর্থিক বাজারে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই বেড়েছে।

ডলার শক্তিশালী, চাপে ইয়েন
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মার্কিন ডলার শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে জাপানি ইয়েন দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, যা জাপানের নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
একই সময়ে জাপানে পাইকারি মূল্যস্ফীতি গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্রুততম গতিতে বেড়েছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে বাজারে জোরালো প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

উদীয়মান অর্থনীতিতেও উদ্বেগ
বাজারের এই অস্থিরতার প্রভাব শুধু উন্নত অর্থনীতিতে নয়, উদীয়মান দেশগুলোকেও স্পর্শ করছে। মুদ্রার ওপর চাপ সামাল দিতে কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কঠোর মুদ্রানীতির সম্ভাবনা একসঙ্গে শেয়ারবাজারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















