১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বাবা-মা হত্যার অভিযোগে কারাগারে, এবার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দাবি পরিচালকের ছেলের নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ, মামলায় খালাস পেলেন দুজনই ইরানে পানির সংকট, মার্কিন হামলায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস, কেন্টে খেলবেন হাসান মাহমুদ জন্মহার কমে সংকটে জাপান, পাঁচ বছরে জনসংখ্যা কমল ৩০ লাখের বেশি গাজায় বন্দি চিকিৎসকের নিঃসঙ্গ কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ, ৫০০ দিনের বেশি সময়েও নেই অভিযোগ ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে লেবাননের প্রাচীন শহর টাইর, নিহত ৮ ইরান যুদ্ধ, দুধের প্যাকেট, সার, বিদ্যুৎ, কোভিড-২ ও এবারের বাজেট ১৮ বছর বয়সেই সংসদ সদস্য, জার্সির তরুণ রাজনীতিককে শুভকামনা জানালেন ট্রাম্প প্রোটিনের চাহিদায় বিশ্ববাজারে চাপ, হুই ঘাটতির আশঙ্কায় উদ্বেগ

শুল্ক, ড্রোন ও বিরল খনিজ: যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন পরীক্ষার মঞ্চ

  • হিলটন রুট
  • ১০:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • 6

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উষ্ণতা অনেকের কাছে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুই পরাশক্তির সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে সৌজন্যমূলক বিবৃতি নয়, বরং প্রতিষ্ঠান, নিয়ম এবং প্রক্রিয়ার কার্যকারিতাই নির্ধারণ করবে এই স্থিতিশীলতা কতটা টেকসই হবে।

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর উভয় দেশ যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নতুন কাঠামো গঠনের কথা বলেছে, তার তাৎপর্য এখানেই। কারণ আজকের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের প্রধান চ্যালেঞ্জ কেবল শুল্ক নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রযুক্তি, ডেটা, ড্রোন, বিরল খনিজ, বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এসব বিষয় এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত যে একটি খাতে সংঘাত সহজেই পুরো সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

আসলে দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা বা সরাসরি সংঘাত—কোনোটির মধ্যেই ফেলা যায় না। বরং এটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। উভয় পক্ষই জানে যে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তাদের নিজেদের জন্যও ব্যয়বহুল হবে। আবার একই সঙ্গে তারা এটাও বিশ্বাস করে যে কিছু প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পদ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে বাণিজ্য চলবে, কিন্তু অবিশ্বাসও থাকবে; যোগাযোগ থাকবে, কিন্তু প্রতিযোগিতাও অব্যাহত থাকবে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বিরোধগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে?

ড্রোন শিল্পের উদাহরণ বিষয়টি স্পষ্ট করে। চীনের প্রতিষ্ঠান DJI দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ড্রোন বাজারে প্রধান অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কোম্পানিটি ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়েছে। এখানে মূল সমস্যা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারিত্ব নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা ঝুঁকি নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে এবং সেই মূল্যায়ন কতটা স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হবে।

যদি কোনো পণ্যের ওপর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের পেছনে কী তথ্য রয়েছে, কত সময় পর তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কীভাবে উদ্বেগ দূর করতে পারে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার কাঠামো থাকা জরুরি। অন্যথায় নিরাপত্তা নীতি সহজেই বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হবে, যা অবিশ্বাসকে আরও বাড়াবে।

একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ উপাদানের ক্ষেত্রেও। আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এসব খনিজ অপরিহার্য। চীন এই সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে রপ্তানি অনুমোদন বা সরবরাহ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

সমস্যা হলো, যদি এক পক্ষ প্রযুক্তি বা ড্রোন খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং অন্য পক্ষ তার জবাবে বিরল খনিজের সরবরাহে বাধা দেয়, তবে দ্বন্দ্ব দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়ার চক্রে আটকে যেতে পারে। তখন একটি নির্দিষ্ট খাতের বিরোধ বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেবে।

এ কারণে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বোর্ডগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে তারা বিরোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না তার ওপর। যদি এসব প্রতিষ্ঠান কেবল দ্বন্দ্বের নথিভুক্তকারী হয়ে দাঁড়ায়, তবে তাদের কোনো মূল্য থাকবে না। তাদের কাজ হওয়া উচিত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই বিরোধকে সীমাবদ্ধ রাখা।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে এই অঞ্চলের সরবরাহ শৃঙ্খল, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর। যখন নিয়ম অস্পষ্ট হয়, তখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করে, অতিরিক্ত মজুত গড়ে তোলে এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়।

আরও একটি বিপদ রয়েছে। নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যদি বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধা বণ্টনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে তা স্বল্পমেয়াদে উত্তেজনা কমালেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাজারের সংকেত দুর্বল হয়ে গেলে উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তা সুরক্ষা—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে দ্বিস্তরবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থা। যেখানে বাণিজ্যিক বিষয়গুলো আলাদা প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর জন্য থাকবে পৃথক মূল্যায়ন কাঠামো। শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার বা সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের প্রশ্ন এক ধরনের নিয়মে চলবে; আর উন্নত চিপ, ড্রোন, ডেটা প্ল্যাটফর্ম কিংবা কৌশলগত খনিজের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রের জন্য থাকবে ভিন্ন মানদণ্ড ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সম্পূর্ণ আস্থা পুনর্গঠনের আশা করা অবাস্তব। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন পূর্বনির্ধারিত নিয়ম, স্বচ্ছ মানদণ্ড এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া।

দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত স্থিতিশীলতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন একটি শুল্ক ঘোষণা, একটি রপ্তানি লাইসেন্স, একটি ড্রোন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কিংবা একটি বিনিয়োগ প্রত্যাখ্যান—এসব ঘটনা পুরো সম্পর্ককে জিম্মি না করে নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধানের পথে এগোতে পারবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ আসলে সেটিই: প্রতিযোগিতাকে থামানো নয়, বরং এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে তা সংঘাতে পরিণত না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা-মা হত্যার অভিযোগে কারাগারে, এবার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দাবি পরিচালকের ছেলের

শুল্ক, ড্রোন ও বিরল খনিজ: যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের নতুন পরীক্ষার মঞ্চ

১০:৩০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উষ্ণতা অনেকের কাছে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দুই পরাশক্তির সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে সৌজন্যমূলক বিবৃতি নয়, বরং প্রতিষ্ঠান, নিয়ম এবং প্রক্রিয়ার কার্যকারিতাই নির্ধারণ করবে এই স্থিতিশীলতা কতটা টেকসই হবে।

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর উভয় দেশ যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নতুন কাঠামো গঠনের কথা বলেছে, তার তাৎপর্য এখানেই। কারণ আজকের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের প্রধান চ্যালেঞ্জ কেবল শুল্ক নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রযুক্তি, ডেটা, ড্রোন, বিরল খনিজ, বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এসব বিষয় এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত যে একটি খাতে সংঘাত সহজেই পুরো সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

আসলে দুই দেশের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা বা সরাসরি সংঘাত—কোনোটির মধ্যেই ফেলা যায় না। বরং এটি এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। উভয় পক্ষই জানে যে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তাদের নিজেদের জন্যও ব্যয়বহুল হবে। আবার একই সঙ্গে তারা এটাও বিশ্বাস করে যে কিছু প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পদ জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে বাণিজ্য চলবে, কিন্তু অবিশ্বাসও থাকবে; যোগাযোগ থাকবে, কিন্তু প্রতিযোগিতাও অব্যাহত থাকবে।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বিরোধগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে?

ড্রোন শিল্পের উদাহরণ বিষয়টি স্পষ্ট করে। চীনের প্রতিষ্ঠান DJI দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ড্রোন বাজারে প্রধান অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কোম্পানিটি ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রক চাপের মুখে পড়েছে। এখানে মূল সমস্যা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারিত্ব নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা ঝুঁকি নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে এবং সেই মূল্যায়ন কতটা স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হবে।

যদি কোনো পণ্যের ওপর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের পেছনে কী তথ্য রয়েছে, কত সময় পর তা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কীভাবে উদ্বেগ দূর করতে পারে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার কাঠামো থাকা জরুরি। অন্যথায় নিরাপত্তা নীতি সহজেই বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হবে, যা অবিশ্বাসকে আরও বাড়াবে।

একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ উপাদানের ক্ষেত্রেও। আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এসব খনিজ অপরিহার্য। চীন এই সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে রপ্তানি অনুমোদন বা সরবরাহ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

সমস্যা হলো, যদি এক পক্ষ প্রযুক্তি বা ড্রোন খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং অন্য পক্ষ তার জবাবে বিরল খনিজের সরবরাহে বাধা দেয়, তবে দ্বন্দ্ব দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়ার চক্রে আটকে যেতে পারে। তখন একটি নির্দিষ্ট খাতের বিরোধ বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেবে।

এ কারণে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বোর্ডগুলোর সাফল্য নির্ভর করবে তারা বিরোধকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি না তার ওপর। যদি এসব প্রতিষ্ঠান কেবল দ্বন্দ্বের নথিভুক্তকারী হয়ে দাঁড়ায়, তবে তাদের কোনো মূল্য থাকবে না। তাদের কাজ হওয়া উচিত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আগেই বিরোধকে সীমাবদ্ধ রাখা।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে এই অঞ্চলের সরবরাহ শৃঙ্খল, উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর। যখন নিয়ম অস্পষ্ট হয়, তখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করে, অতিরিক্ত মজুত গড়ে তোলে এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়।

আরও একটি বিপদ রয়েছে। নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যদি বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধা বণ্টনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তবে তা স্বল্পমেয়াদে উত্তেজনা কমালেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক দক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বাজারের সংকেত দুর্বল হয়ে গেলে উদ্ভাবন, প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তা সুরক্ষা—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে দ্বিস্তরবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থা। যেখানে বাণিজ্যিক বিষয়গুলো আলাদা প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর জন্য থাকবে পৃথক মূল্যায়ন কাঠামো। শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার বা সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্যের প্রশ্ন এক ধরনের নিয়মে চলবে; আর উন্নত চিপ, ড্রোন, ডেটা প্ল্যাটফর্ম কিংবা কৌশলগত খনিজের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রের জন্য থাকবে ভিন্ন মানদণ্ড ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সম্পূর্ণ আস্থা পুনর্গঠনের আশা করা অবাস্তব। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন পূর্বনির্ধারিত নিয়ম, স্বচ্ছ মানদণ্ড এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়া।

দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত স্থিতিশীলতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন একটি শুল্ক ঘোষণা, একটি রপ্তানি লাইসেন্স, একটি ড্রোন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কিংবা একটি বিনিয়োগ প্রত্যাখ্যান—এসব ঘটনা পুরো সম্পর্ককে জিম্মি না করে নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সমাধানের পথে এগোতে পারবে। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ আসলে সেটিই: প্রতিযোগিতাকে থামানো নয়, বরং এমনভাবে পরিচালনা করা যাতে তা সংঘাতে পরিণত না হয়।