প্রতিদিন মাত্র এক গ্লাস মদ পান করাও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে—নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই সতর্ক বার্তা। গবেষণাটি বলছে, অ্যালকোহল গ্রহণের সঙ্গে বিভিন্ন রোগ ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে, আর সেই ঝুঁকি শুরু হতে পারে দৈনিক এক পানীয় থেকেই।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ একই সময়ে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে পরিমিত মদ্যপানের কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার কথাও বলা হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এক গ্লাসেই শুরু হতে পারে ঝুঁকি
নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একবার অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের মধ্যে অ্যালকোহলজনিত রোগ বা দুর্ঘটনার কারণে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও গবেষকরা এটিকে উপেক্ষা করার মতো মনে করছেন না।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দৈনিক দুই গ্লাস মদ্যপানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে অনেক দেশে এই মাত্রাকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হলেও নতুন বিশ্লেষণ সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নারীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন এক গ্লাস মদ পান করা নারীদের মধ্যে লিভার ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই লিভার সিরোসিস, মুখগহ্বর ও খাদ্যনালির ক্যানসার এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গবেষকরা বলছেন, অ্যালকোহলের পরিমাণ যত বাড়ে, ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে একাধিক পানীয় গ্রহণের অভ্যাস হৃদ্রোগ, আঘাতজনিত সমস্যা এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি করতে পারে।
কিছু সম্ভাব্য উপকারিতার দাবিও আছে
তবে গবেষণাটি অ্যালকোহলের কিছু সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছে। নারীদের ক্ষেত্রে সীমিত মাত্রায় পান করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে এবং নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করেছেন, মাঝে মাঝে অতিরিক্ত মদ্যপান করলে এসব সম্ভাব্য উপকারিতা কার্যত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
দুই গবেষণায় ভিন্ন ফল কেন?
একই বিষয়ে দুটি গবেষণার ফল ভিন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তাদের মূল্যায়ন পদ্ধতি। নতুন গবেষণাটি অ্যালকোহলজনিত সরাসরি রোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে পরিমিত মদ্যপায়ীদের সামগ্রিক মৃত্যুহার বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে অ্যালকোহলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন কারণও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, যারা পরিমিত মদ্যপান করেন তারা অনেক সময় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের মতো অন্যান্য ইতিবাচক অভ্যাসও অনুসরণ করেন। ফলে তাদের দীর্ঘায়ুর পেছনে শুধুমাত্র অ্যালকোহল নয়, আরও নানা কারণ কাজ করতে পারে।
:max_bytes(150000):strip_icc():focal(749x0:751x2)/alcoholic-drinks-on-bar-060326-5f212269fdd3465bbf3b03c266658be2.jpg)
বিতর্কের কেন্দ্রে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা
গবেষণাটি প্রকাশের পর অ্যালকোহল শিল্পের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, গবেষণাটির কিছু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে গবেষণার সমর্থকরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে অ্যালকোহল সেবনের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মত হলো, অ্যালকোহলকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে প্রচার করার সুযোগ নেই। বরং কম পান করাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ভালো, আর না পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















