যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাত ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে বিদেশি মৌসুমি শ্রমিকদের ওপর। কৃষি খামারে শ্রমিক সংকট বাড়তে থাকায় বিশেষ ভিসার মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার শ্রমিক মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এসে ফল, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে কাজ করছেন। তবে এই ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক শোষণ, প্রতারণা এবং শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের উদ্বেগও বাড়ছে।
শ্রমিক সংকটে বাড়ছে বিদেশি কর্মী নিয়োগ
গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় শ্রমিকের অভাব এবং অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ায় খামার মালিকরা ক্রমেই বিদেশি মৌসুমি শ্রমিকদের দিকে ঝুঁকছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই ভিসাধারী শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে এবং তারা এখন কৃষি শ্রমশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
কৃষি উদ্যোক্তাদের মতে, ফল ও সবজির মতো শ্রমনির্ভর ফসল উৎপাদনে এই শ্রমিকরা এখন অপরিহার্য। অন্যদিকে বিদেশি শ্রমিকরাও নিজ দেশে যে আয় করতে পারেন তার তুলনায় অনেক বেশি উপার্জনের সুযোগ পান।

অনিয়ম ও শোষণের অভিযোগ
যদিও কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, বাস্তবে নানা সমস্যা সামনে এসেছে। শ্রম অধিকার কর্মীরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতারণার শিকার হন। কেউ কেউ কাজ পাওয়ার আশায় অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থও পরিশোধ করেন। এছাড়া কম মজুরি, অস্বাস্থ্যকর আবাসন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশের অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসাধারী শ্রমিকদের আইনি অবস্থান নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তারা সহজে অভিযোগ করতে পারেন না। চাকরি হারানোর আশঙ্কা তাদের অধিকারের দাবিকে দুর্বল করে দেয়।
নৈতিক নিয়োগে বাড়তি খরচ
কিছু শ্রম ঠিকাদার ও কৃষি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের জন্য উন্নত আবাসন, নিরাপদ পরিবহন এবং স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। ফলে অনেক খামার মালিক কম খরচের বিকল্প খোঁজেন, যা কখনও কখনও শ্রমিক কল্যাণকে পিছিয়ে দেয়।

কৃষি উদ্যোক্তাদের একটি অংশের দাবি, ক্রমবর্ধমান নিয়মকানুন ও তদারকি তাদের পরিচালন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। আবার শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়া শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ কতটা কার্যকর?
কৃষিখাতে শ্রমিকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মানদণ্ড ও সনদ কর্মসূচি চালু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে খামারগুলোকে ভালো শ্রমনীতি অনুসরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, বাজারে এর পর্যাপ্ত আর্থিক প্রণোদনা না থাকায় অংশগ্রহণ সীমিত রয়ে গেছে।
শ্রম অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী আইন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

পরিবর্তনের দাবি
অভিবাসন ও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, বিদেশি শ্রমিকদের এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার সুযোগ দিলে শোষণের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। এতে শ্রমিকরা ভালো কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য মজুরির জন্য বিকল্প বেছে নিতে পারবেন এবং নিয়োগকর্তারাও শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে উৎসাহিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাতে শ্রমিক সংকটের সমাধানে বিদেশি মৌসুমি শ্রমিকদের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। তবে সেই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে উৎপাদন চাহিদা ও মানবিক শ্রমনীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর।
























