ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই মাঠের উত্তেজনা, গ্যালারির আবহ এবং আয়োজক দেশ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের ঝলক। তবে এবারের বিশ্বকাপে এক ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের বেশিরভাগ অনুষ্ঠান তারা সম্প্রচার করবে নিজ দেশের স্যালফোর্ডে থাকা অত্যাধুনিক স্টুডিও থেকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবের সম্প্রচারে মাঠে না গিয়ে স্টুডিওভিত্তিক কভারেজের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খরচ কমানোর কৌশল

বিবিসির ক্রীড়া বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। আয়োজক দেশগুলোতে বড় আকারের স্টুডিও স্থাপন বা বিশাল সম্প্রচার দল পাঠানোর পরিবর্তে স্যালফোর্ড থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনা করলে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে।
শুধু অর্থই নয়, পরিবেশগত দিক থেকেও এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে দাবি করা হয়েছে। আগের বিশ্বকাপের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অভিজ্ঞতা
যদিও অনুষ্ঠানগুলো আয়োজক দেশ থেকে সরাসরি পরিচালিত হবে না, দর্শকদের জন্য অভিজ্ঞতাকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন স্টুডিওতে বিশাল আলোকচিত্রভিত্তিক পর্দা ব্যবহার করা হবে, যেখানে বিশ্বকাপের বিভিন্ন আয়োজক শহরের দৃশ্য তুলে ধরা হবে।
প্রযোজকরা প্রয়োজনে আবহাওয়া, দিনের সময় কিংবা শহরের পরিবেশও ডিজিটালভাবে পরিবর্তন করতে পারবেন। ফলে দর্শকরা ঘরে বসে এমন অনুভূতি পেতে পারেন যেন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সেই শহর থেকেই সম্প্রচার হচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিন্ন পথ
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে জাঁকজমকপূর্ণ স্টুডিও স্থাপন করেছে। নিউইয়র্কের আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে তারা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
এদিকে জনপ্রিয় উপস্থাপক ও সাবেক ফুটবলার গ্যারি লিনেকারও এবার আলাদা প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ নিয়ে অনুষ্ঠান করবেন। নিউইয়র্কের কেন্দ্রস্থল থেকে তার বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
মাঠে থাকবেন কিছু বিশ্লেষক
যদিও প্রধান স্টুডিও থাকবে স্যালফোর্ডে, তবুও বিবিসি পুরোপুরি মাঠছাড়া হচ্ছে না। তাদের কয়েকজন প্রতিবেদক, বিশ্লেষক ও সাবেক ফুটবলার আয়োজক দেশগুলোতে অবস্থান করবেন। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ড ভালো করলে আরও উপস্থাপক পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠানগুলোতে সাবেক খেলোয়াড় ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। ফলে মাঠের অভিজ্ঞতা এবং স্টুডিও বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করবে প্রতিষ্ঠানটি।
সময়ের সঙ্গে লড়াই
বিশ্বকাপের অনেক ম্যাচ যুক্তরাজ্যের সময় অনুযায়ী গভীর রাতে বা ভোরে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সম্প্রচারকর্মীদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের টুর্নামেন্টে কর্মীদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিবিসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, দর্শকদের কাছে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্প্রচারের মান। সেটি বজায় রাখা গেলে স্টুডিও কোথায় অবস্থিত, তা বড় বিষয় হয়ে উঠবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















