যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক চীনা মানবাধিকারকর্মী অভিযোগ করেছেন, তাকে লক্ষ্য করে ছড়ানো ডিপফেক ছবি ও ভিডিও নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুরুতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনাটি অনলাইন হয়রানি, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিয়ানআনমেন স্মরণ অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক
২৭ বছর বয়সী অ্যাপল পেইকিং নি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘চায়না ডিসেন্ট নেটওয়ার্ক’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি চীনা সরকারের সমালোচক এবং গণতন্ত্রপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তিনি ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন হত্যাকাণ্ড স্মরণে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।
এর কিছু সময় পরই তার নামে একাধিক ডিপফেক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে তাকে মাদকাসক্ত, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এবং বিভিন্ন মিথ্যা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে তার নাম উল্লেখ করে অপমানজনক মন্তব্যও করা হয়।
অভিযোগ করেও মেলেনি সাড়া
নি জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পুলিশ তার সঙ্গে কথা বললেও সামাজিক মাধ্যমটিতে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দেয়। এরপর তিনি নিজে এবং তার পরিচিত অনেকেই সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
তবে অভিযোগের জবাবে প্ল্যাটফর্মটির স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা জানায়, এসব পোস্ট তাদের হয়রানি বা সহিংস বক্তব্যবিষয়ক নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। পরবর্তী আপিলও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
অথচ প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব নীতিমালায় কোনো ব্যক্তিকে অপমান, হেয় বা লক্ষ্য করে বারবার আক্রমণাত্মক কনটেন্ট প্রকাশকে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
প্রশ্নের মুখে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়। পরে নিকে জানানো হয়, ভিন্ন ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এতে সামাজিক মাধ্যমটির অভিযোগ পর্যালোচনা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, ক্ষতিকর ও মিথ্যা কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
পরিবারের ওপরও চাপের অভিযোগ

নি দাবি করেন, তার রাজনৈতিক ও মানবাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ডের কারণে চীনে থাকা তার পরিবারের সদস্যদেরও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং আত্মীয়স্বজনদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডিপফেক পোস্টগুলোর কিছু তথ্য দেখে তার মনে হয়েছে কেউ তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। এ কারণে তিনি নিজেকে সব সময় নজরদারির মধ্যে আছেন বলে মনে করেন।
অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ঘৃণামূলক ও উগ্রবাদী কনটেন্ট দমনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নি মনে করেন, ভিন্নমতাবলম্বী চীনা কর্মীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানির বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যক্তিগত সুনাম, নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নতুন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















