০১:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বাবা-মা হত্যার অভিযোগে কারাগারে, এবার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দাবি পরিচালকের ছেলের নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ, মামলায় খালাস পেলেন দুজনই ইরানে পানির সংকট, মার্কিন হামলায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস, কেন্টে খেলবেন হাসান মাহমুদ জন্মহার কমে সংকটে জাপান, পাঁচ বছরে জনসংখ্যা কমল ৩০ লাখের বেশি গাজায় বন্দি চিকিৎসকের নিঃসঙ্গ কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ, ৫০০ দিনের বেশি সময়েও নেই অভিযোগ ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে লেবাননের প্রাচীন শহর টাইর, নিহত ৮ ইরান যুদ্ধ, দুধের প্যাকেট, সার, বিদ্যুৎ, কোভিড-২ ও এবারের বাজেট ১৮ বছর বয়সেই সংসদ সদস্য, জার্সির তরুণ রাজনীতিককে শুভকামনা জানালেন ট্রাম্প প্রোটিনের চাহিদায় বিশ্ববাজারে চাপ, হুই ঘাটতির আশঙ্কায় উদ্বেগ

অবৈধ বসতি সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য নিষেধে এখনো অনীহা

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং সেই কার্যক্রমে অর্থায়ন ও সহায়তার অভিযোগে ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এ পদক্ষেপে ফ্রান্স, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশও যুক্ত হয়েছে।

তবে অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার দাবি থাকলেও ব্রিটিশ সরকার সে পথে হাঁটেনি। পরিবর্তে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে এসব বসতির সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষমতাসীন দলের ১৩০ জনের বেশি সদস্য অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আদালতের আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Turkish Foreign Minister congratulates new British counterpart in first  official call - Türkiye Today

কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার জানিয়েছেন, কার্যকরভাবে এমন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা জটিল। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার ভবিষ্যতেও পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর থেকে অধিকৃত অঞ্চলে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক ও আর্থিক কার্যক্রমে না জড়ানোই উচিত। তবে এই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক নয় এবং তা অমান্য করলে কোনো শাস্তির ব্যবস্থাও নেই।

আন্তর্জাতিক আইন ও ঝুঁকির সতর্কতা

সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি জমি, পানি, খনিজ সম্পদ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে আইনি বিরোধের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার আগের মতোই বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের পৃথক লেবেল ব্যবহারের নীতিও বহাল রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পায় না।

বাড়ছে সহিংসতা

UK and allies impose sanctions on firms enabling West Bank settler violence  | Palestine | The Guardian

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছে যুক্তরাজ্য।

কুপার বলেছেন, বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা শুধু অবৈধই নয়, এটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও এটি হুমকি।

মিত্র দেশগুলোর কঠোর বার্তা

যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশগুলো বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সহিংস বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় দায়মুক্তির মধ্যেই কাজ করে এসেছে। একই সময়ে নতুন বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন ঘাঁটি তৈরির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

Six countries sanction enablers of settler violence in occupied West Bank

তারা ইসরায়েল সরকারের প্রতি পশ্চিম তীরের সহিংসতার জন্য কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনের অসন্তোষ

কিছু মানবাধিকার সংগঠন ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র পরামর্শ দিয়ে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তারা অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকলেও যুক্তরাজ্য আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বসতি সহিংসতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা-মা হত্যার অভিযোগে কারাগারে, এবার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দাবি পরিচালকের ছেলের

অবৈধ বসতি সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য নিষেধে এখনো অনীহা

১১:২৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং সেই কার্যক্রমে অর্থায়ন ও সহায়তার অভিযোগে ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এ পদক্ষেপে ফ্রান্স, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশও যুক্ত হয়েছে।

তবে অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার দাবি থাকলেও ব্রিটিশ সরকার সে পথে হাঁটেনি। পরিবর্তে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোকে এসব বসতির সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ক্ষমতাসীন দলের ১৩০ জনের বেশি সদস্য অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আদালতের আগের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।

Turkish Foreign Minister congratulates new British counterpart in first  official call - Türkiye Today

কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার জানিয়েছেন, কার্যকরভাবে এমন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা জটিল। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার ভবিষ্যতেও পর্যালোচনা চালিয়ে যাবে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর থেকে অধিকৃত অঞ্চলে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক ও আর্থিক কার্যক্রমে না জড়ানোই উচিত। তবে এই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক নয় এবং তা অমান্য করলে কোনো শাস্তির ব্যবস্থাও নেই।

আন্তর্জাতিক আইন ও ঝুঁকির সতর্কতা

সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ। সেখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি জমি, পানি, খনিজ সম্পদ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে আইনি বিরোধের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার আগের মতোই বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের পৃথক লেবেল ব্যবহারের নীতিও বহাল রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পায় না।

বাড়ছে সহিংসতা

UK and allies impose sanctions on firms enabling West Bank settler violence  | Palestine | The Guardian

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছে যুক্তরাজ্য।

কুপার বলেছেন, বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা শুধু অবৈধই নয়, এটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও এটি হুমকি।

মিত্র দেশগুলোর কঠোর বার্তা

যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র দেশগুলো বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সহিংস বসতি স্থাপনকারীরা প্রায় দায়মুক্তির মধ্যেই কাজ করে এসেছে। একই সময়ে নতুন বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন ঘাঁটি তৈরির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

Six countries sanction enablers of settler violence in occupied West Bank

তারা ইসরায়েল সরকারের প্রতি পশ্চিম তীরের সহিংসতার জন্য কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনের অসন্তোষ

কিছু মানবাধিকার সংগঠন ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র পরামর্শ দিয়ে কোনো বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তারা অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকলেও যুক্তরাজ্য আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বসতি সহিংসতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ ক্রমেই গভীর হচ্ছে।