ওজন কমানোর ওষুধের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে হুই প্রোটিনের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে চাহিদা এখন সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি, যা দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
কেন বাড়ছে হুই প্রোটিনের চাহিদা
হুই প্রোটিন মূলত দুধ থেকে পনির তৈরির সময় উৎপন্ন হয়। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে এবং এটি সহজেই শরীরে শোষিত হয়। পেশি গঠন ও পুনরুদ্ধারে সহায়ক হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি জনপ্রিয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রোটিন গ্রহণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এসব ওষুধ ক্ষুধা কমিয়ে দেয়, ফলে অনেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাবার খান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পেশির ক্ষয় রোধে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে হুই প্রোটিনের বাজারে।

রেকর্ড উচ্চতায় দাম
চলতি বছরে ইউরোপের বাজারে খাদ্যমানের হুই পাউডারের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ হুইয়ের দাম গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদকরা আরও বেশি উৎপাদন করতে চাইলেও প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তুলতে পারছেন না। বাজারে পণ্যের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ সেই হারে বাড়ছে না।
সরবরাহ সংকটে উৎপাদকরা
দুগ্ধভিত্তিক উপাদান বাজারের পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশেষ করে মাঝারি মাত্রার প্রোটিনযুক্ত হুইয়ের বাজারে সরবরাহ সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিছু সরবরাহকারী ইতোমধ্যে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের মজুত বিক্রি করে ফেলেছে।

এ ছাড়া একটি বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্রীষ্মের পর নির্দিষ্ট ধরনের হুই উৎপাদন বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। এতে বাজারে প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছোট ব্যবসার জন্য বাড়তি চাপ
প্রোটিনভিত্তিক পণ্য উৎপাদনকারী ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। তাদের দাবি, গত দুই বছরে প্রায় প্রতি প্রান্তিকেই কাঁচামালের দাম বেড়েছে। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে প্রোটিন কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
বড় কোম্পানিগুলো বাজার ধরে রাখতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা সামাল দিতে পারলেও ছোট ব্যবসার জন্য তা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ভোক্তাদের জন্য প্রোটিন পণ্য আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।
প্রোটিন এখন সর্বত্র
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে এখন শুধু প্রোটিন শেক নয়, নানা ধরনের পণ্যে হুই প্রোটিন ব্যবহার করা হচ্ছে। স্ন্যাকস, ভুট্টার খাবার, চিপস এমনকি মিষ্টান্নজাত পণ্যেও প্রোটিন যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে বাজারে হুইয়ের চাহিদা আরও দ্রুত বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে পারে এবং বিশ্ববাজারে হুই প্রোটিনের দাম নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















